Quantcast
ঢাকা, শনিবার 7 July 2012, ২৩ আষাঢ় ১৪১৯, ১৬ শাবান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ১৮০ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

পাহাড়ে ভূমির মালিকানা পাহাড়িরাই পাবে -প্রধানমন্ত্রী

বিডিনিউজ : পার্বত্য এলাকার ভূমির মালিকানা যাতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কাছেই থাকে, তা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুক্রবার রাঙামাটিতে বিভিন্ন পাহাড়ি গোত্রের নেতা বা হেডম্যানদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে শেখ হাসিনা বলেন, ‘পার্বত্য এলাকার ভূমির মালিকানা আপনারা যেন পান- আমরা তা চাই। আমি চাই, ভূমির প্রকৃত মালিকরাই মালিকানা পাবেন।'

তিন পার্বত্য জেলার ভূমি বিরোধ নিত্তিতে একজন বিচারপতির নেতৃত্বে ভূমি কমিশন গঠনের বিষয়টিও এ সময় উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘আমরা পাহাড়িদের অধিকার সংরক্ষণ করব। কমিশন সেভাবেই কাজ করবে।' এ জন্য কমিশনকে সাহায্য-সহযোগিতা করার আহবান জানিয়ে হেডম্যানদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ধারণা করে সমস্যা সৃষ্টি না করাই ভালো। আমি যতদিন আছি- ততোদিন কোনো চিন্তা নাই।'

প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে এই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাঙামাটির ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী মিলনায়তনে পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি ব্যবস্থাপনার কাজে নিয়োজিত হেডম্যানদের দু'দিনব্যাপী কর্মশালারও উদ্বোধন করেন।

তিনি বলেন, ‘১৯৯৭ সালে স্বাক্ষরিত পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে আমাদের সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং আমরা তা করে যাচ্ছি।'

দীর্ঘদিন পাহাড়ের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হয়নি মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকার পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে পার্বত্য এলাকা থেকে কিছু সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার এবং ওই এলাকার জনগণের কর্মসংস্থানের উদ্যোগের কথা তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।

তিনি জানান, সরকার পার্বত্য এলাকার সার্কেল চিফদের মাসিক ভাতা এক হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার, হেডম্যানদের ভাতা বাড়িয়ে এক হাজার টাকা করার এবং কারবারিদের জন্য মাসিক পাঁচশ টাকা ভাতার ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সরকার হেডম্যানদের মতো পুরনো নেতৃত্বকে শক্তিশালী করতে চায়।'

হেডম্যানদের পক্ষ থেকে কাবেরী রায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই ভিডিও কনফারেন্সে পার্বত্য এলাকায় একটি পাবলিক ও মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার আহবান জানান। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এবার আমরা এটা করব। পার্বত্য এলাকার সৌন্দর্য রক্ষা করে এর নকশা করার জন্য আমরা বিশেষ স্থাপত্যবিদের ব্যবস্থাও করব।'

সরকার পার্বত্য এলাকায় ৮০টি ভ্রাম্যমাণ ক্লিনিক, স্কুল প্রতিষ্ঠা ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার পাশাপাশি দুর্গম অঞ্চলেও যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন মাসলাম থেকে গাড়িতে করেই আপনারা কমলা লেবু আনতে পারেন।'

পার্বত্য এলাকায় সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বলেও হেডম্যানদের জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান, পাবর্ত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদার, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব রণ বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা এবং চাকমা সার্কেল চিফ দেবাশীষ রায় রাঙামাটিতে হেডম্যানদের এই কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

দেবাশীষ রায় প্রধানমন্ত্রীকে তিন পার্বত্য জেলা সফরের আমন্ত্রণ জানানোর পাশাপাশি হেডম্যানদের খাজনা আদায়ের ব্যবস্থা করে দেয়ার আহবান জানান।

তিনি বলেন, ‘‘হেডম্যানরা খাজনা আদায় করতে পারলে এবং তা থেকে তাদের একটি অংশ দিলে এই ভূমি ব্যবস্থাপকরা তাদের দাফতরিক কাজও চালাতে পারেন।’’

এ প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এই ব্যবস্থাটা করতে পারি। হেডম্যানরা খাজনা আদায় করলে তারা একটি পার্সেন্টেজও পেতে পারে।'

খাজনার অংক বাড়ানোর জন্য দেবাশীষ রায়ের প্রস্তাবের সঙ্গেও একমত পোষণ করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘আয় বাড়লে খাজনা বাড়ানো যেতে পারে।'

ভিডিও কনফারেন্সের সময় গণভবনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, রাজশাহীর মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (মিডিয়া) মাহবুবুল হক শাকিল।