Quantcast
ঢাকা, শনিবার 7 July 2012, ২৩ আষাঢ় ১৪১৯, ১৬ শাবান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ২২২ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার জেরায় সাবেক সিআইডি ডিআইজি ফররুখ

মামলার আইওকে সবই বলেছি কি লিখেছেন আমি জানি না

জামালুদ্দিন হাওলাদার : তৎকালীন সিআইডি ডিআইজি ফররুখ আহমেদ অবসর জীবনে পত্রপত্রিকা এক ঝলক পড়েন, টেলিভিশন এক ঝলক দেখেন। ২০০৪ সালে ঘটনার সময় সিআইডি'র প্রধান ছিলেন তিনি। এই মামলায় প্রথম তদন্তকারী অফিসার ওসি আহাদুর রহমান অনুসন্ধান কমিটির সদস্য হিসেবে ফররুখকে জিজ্ঞাসাবাদ করেনি। মামলাটির তদন্তকারী অফিসার পরিবর্তন করার খবর এবং মামলা সিআইডি'র নিকট স্থানান্তরের খবর অফিসিয়াল ও পত্রপত্রিকা টেলিভিশনের সংবাদের মাধ্যমে ফররুখ আহমদে জানতেন বলে আইনজীবীর প্রশ্নের জবাবে ফররুখ আদালতে জানান। ৫ জুলাই (বৃহস্পতিবার) তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের দুই আইনজীবী এডভোকেট মাহবুব আহমেদ ও এডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুস সোবহান তরফদারের জেরার জবাবে ফররুখ আহমেদ এই কথা জানান।

অপর একটি প্রশ্নের জবাবে ফররুখ আহমেদ বলেন, দশট্রাক অস্ত্র আটক ও চোরাচালান দু' মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চট্টগ্রাম জোনের তৎকালীন সিআইডি'র এএসপি কবির উদ্দিন এবং তদারকি অফিসার সিআইডি'র এসপি ড. আব্দুর রহিম অভিযোগপত্র দাখিলের আগে সাক্ষ্য স্মারকে মতামত নেয়ার জন্য সিআইডি ডিআইজি ফররুখ আহমেদের নিকট গিয়েছিলেন। সাক্ষ্য স্মারকে তদারকি কর্মকর্তা ড. আব্দুর রহিম যে মতামত সুপারিশ লিখেছিলেন, তা তিনি পড়ে সেটি দশট্রাক অস্ত্র আটকের ঘটনায় গঠিত জাতীয় কমিটির প্রধান ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্র সচিব ওমর ফারুকের কাছে পাঠিয়ে দেন। এরপর স্বরাষ্ট্র সচিবের অনুমোদন ক্রমে আদালতে এই মামলার অভিযোগ পত্র দাখিল করা হয় ।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে এই দু'মামলার বিচার কাজ শুরু হয়। দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম মুলতবি করেন আদালত। ওইদিন ফররুখ আহমেদকে ফের জেরা করবেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের দুই আইনজীবী। এর আগে মঙ্গলবার আদালতে এ মামলায় ফররুখ আহমেদের সাক্ষ্যগ্রহণ এবং বুধবার চার আসামী পক্ষের আইনজীবী তাদের জেরা সম্পন্ন করেন।

এ ঘটনায় অনুসন্ধানকালে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তা আপনি লিপিবদ্ধ করেছেন কিনা, আইনজীবীর প্রশ্নের জবাবে ফররুখ আহমেদ বলেন, আমরা সবাই ছিলাম। তবে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য তদন্ত কমিটির প্রধান ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্র সচিব ওমর ফারুকের পিএস লিপিবদ্ধ করেছেন। তৎকালীন জিওসি মইন উ আহমেদকে এককভাবে না যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন! আইনজীবীর এই প্রশ্নের জবাবে ফররুখ আহমেদ বলেন, সেনাবাহিনীর তৎকালীন চট্টগ্রামের জিওসি মইন উ আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তদন্ত কমিটির সবাই এক সাথে গিয়েছিলাম। ওই সময় তৎকালীন জিওসি মইন উ আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদ করে যা পাওয়া গিয়েছিল, তা লিপিবদ্ধ করেছিলেন তদন্ত কমিটির প্রধান ওমর ফরুকের কথা মতে তার পিএস।

১৪-০২-২০০৮ তারিখে এই মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য আদালত আদেশ দেয়। সিআইডি সিলেট জোনের এএসপি মীর নওশের আলীকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করার পূর্বে সিলেট থেকে চট্টগ্রাম জোনে বদলি করা হয়। ঘটনার দীর্ঘ ৬ বছর পর সরকারের চাপে ও মামলার আইও'র  সৃষ্টিকরা একটি অসত্য বক্তব্য ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে দিয়েছেন? আইনজীবীর প্রশ্নের জবাবে ফররুখ সত্য নয় বলেন। চট্টগ্রামে দশট্রাক অস্ত্র আটকের পূর্বে ১৯৯৬ সালে কক্সবাজারে ট্রলার ভর্তি আরো একটি অস্ত্র চালান ধরা পরার ব্যাপারে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকে জড়িয়ে ১৬১ ধারার জবানবন্দিতে আপনি কোন কথাই বলেননি বলে আইনজীবীর প্রশ্নের জবাবে সিআইডি ডিআইজি ফররুখ আহমেদ বলেন, আমি সবই মামলার আইওকে বলেছি। মামলার আইও কি লিখেছেন আমি জানি না।

সরকারের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে নিজে লাভবান হবার উদ্দেশ্যে এই মামলায় আপনি অসত্য সাক্ষ্য দিচ্ছেন বলে আইনজীবী প্রশ্ন করলে তা অসত্য বলেন ফররুখ আহমেদ। ১০ ট্রাক অস্ত্র আটকের সময় চট্টগ্রামের জিওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মইন উ আহমেদ পরবর্তীতে সেনাপ্রধানও নিযুক্ত হয়েছিলেন। বহুল আলোচিত ওয়ান ইলেভেনের সময় সেনাপ্রধান হিসেবে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান।

বৃহস্পতিবার আসামীদের মধ্যে আদালতে যাদের হাজির করা হয় তারা হলেন, আমীরে জামায়াত ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই'র তৎকালীন মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার  জেনারেল আব্দুর রহিম, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই'র তৎকালীন পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, এনএসআই'র সাবেক পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার সাহাবুদ্দিন, উপ-পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর লিয়াকত, ফিল্ড অফিসার আকবর হোসেন খান, রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা সিইউএফএল'র সাবেক এমডি মোহসীন তালুকদার, চোরাচালানী হিসেবে অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান ও ট্রলার মালিক দীন মোহাম্মদকে। অসুস্থ থাকায় সিইউএফএল'র সাবেক মহাব্যবস্থাপক এনামুল হককে আদালতে হাজির করা হয়নি।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল চট্টগ্রামে দশট্রাক অস্ত্র'র চালানটি আটকের পর এ ঘটনায় অস্ত্র আটক চোরাচালান দু'টি মামলা করা হয়। প্রায় সাড়ে তিন বছর অধিকতর তদন্তের পর ২০১১ সালের ২৬ জুন সিআইডি আদালতে দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন। এরপর ওই বছরের ১৫ নবেম্বর আসামীদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়। ২০১১ সালের ২৯ নবেম্বর থেকে সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্যদিয়ে শুরু হয়েছে বিচার।