Quantcast
ঢাকা, শনিবার 7 July 2012, ২৩ আষাঢ় ১৪১৯, ১৬ শাবান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ১৭৮ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

বিভক্ত ডিসিসির বাজেট বাড়ালো ১০৩২ কোটি টাকা

উত্তরের প্রস্তাব অকট্রয় প্রথা পুনঃচালু \ হোল্ডিং ট্যাক্স ১০% বৃদ্ধি করেছে দক্ষিণ

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (ডিসিসি) বিভক্ত করার পর গত বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো ঢাকা উত্তর ও  দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের জন্য আলাদা বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। ওই দিন সকালে ঢাকা উত্তরের জন্য ১ হাজার ৯৬৬ কোটি টাকা এবং বিকেলে দক্ষিণের জন্য ১ হাজার ৭৮১ কোটি ৬৮ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনদ্বয়। ২০১২-১৩ অর্থবছরের জন্য দু'সিটি কর্পোরেশন মিলে মোট ৩ হাজার ৭৪৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়। গত অর্থবছর (২০১১-১২) অবিভক্ত ডিসিসির বাজেট ছিলো ২ হাজার ৭১৫ কোটি টাকা। বিভক্ত ডিসিসির মোট বাজেটের পরিধি বেড়েছে ১ হাজার ৩২ কোটি টাকা। এদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ঘোষিত বাজেটে অকট্রয় প্রথা পুনঃচালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) বাজেটে হোল্ডিং ট্যাক্স ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, প্রশাসনিক ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধার কথা বলে বর্তমান মহাজোট সরকার ১৪৮ বছরের পুরানো প্রতিষ্ঠান ডিসিসিকে দু'ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেয়। বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়া ও জনমতের তোয়াক্কা না করে ত্বরিৎ এক আইনের মাধ্যমে ডিসিসিকে দ্বিখন্ডিত করা হয়। ১ হাজার ৫৩০ বর্গকিলোমিটারের এই নগরীর ৯২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৬টি ওয়ার্ড নিয়ে উত্তর এবং ৫৬টি ওয়ার্ড নিয়ে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন করা হয়। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ঢাকা ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি পৃথক দু'টি সিটি কর্পোরেশন হিসেবে যাত্রা শুরু করে এবং একজন করে নিয়োগ করা হয়। অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সর্বশেষ নির্বাচিত মেয়র ছিলেন সাদেক হোসেন খোকা।

সকালে বনানী কমিউনিটি সেন্টারে ঢাকা উত্তরের ২০১২-১৩ অর্থবছরের জন্য রাজস্ব ও উন্নয়নসহ মোট ১ হাজার ৯৬৬ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। ডিসেম্বর ২০১১ থেকে জুন ২০১২ পর্যন্ত ৫৮১ কোটি টাকার সংশোধিত বাজেট-এর মধ্যে রয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে ২০১২-১৩ অর্থ বছরে নিজস্ব উৎস থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৮২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ ১৬ কোটি, বিজ্ঞাপন ফি বাবদ ১০ কোটি, বাস-ট্রাক টার্মিনাল থেকে ৬ কোটি, পশুহাট ইজারা বাবদ ১১ কোটি ৫০ লাখ, রাস্তা খনন ফি বাবদ ৪০ কোটি, যন্ত্রপাতি ভাড়া বাবদ ২ কোটি, সম্পত্তি হস্তান্তর খাতে ৮০ কোটি, ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫০ লাখ, বিদ্যুৎ বিল আদায় খাত থেকে ৩.২৫ কোটি ও অন্যান্য আয়ের খাত থেকে ১ কোটি টাকা আয় আসবে। এ বাজেট মহানগরীতে যানবাহন প্রবেশের ক্ষেত্রে অকট্রয় (নগর শুল্ক) প্রথা পুনঃচালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাজেট ঘোষণাকালে ডিসিসি উত্তরের প্রশাসক মো. শাহজাহান আলী মোল্লা বলেন, সরকারি উন্নয়ন অনুদান (বিশেষ অনুদানসহ) ২০ কোটি টাকা পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। সরকারি ও বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প থেকে প্রায় ৫০৩ কোটি টাকা পাওয়া যাবে। এছাড়াও সরকারি ও বেসরকারি অংশিদারিত্ব (পিপিপি) প্রকল্প থেকে ৯৪০ কোটি টাকার প্রকল্প সাহায্য হিসেবে পাওয়ার আশা করছি। এ সময় ডিসিসি উত্তরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিকেলে ডিসিসি দক্ষিণের ১ হাজার ৭৮১ কোটি ৬৮ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়। গুলিস্তানে নগর ভবন মিলনায়তনে বাজেট ঘোষণা করেন দক্ষিণের প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিসিসি দক্ষিণের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানুল ইসলাম চৌধুরী। ডিএসসিসি'র বাজেটে আয় ঘোষণা করা হয়েছে- রাজস্ব খাতে ৪৫৯.১৮ কোটি টাকা। অন্যান্য খাত থেকে ৫৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা, সরকারি অনুদান (থোক) ৩৭ কোটি টাকা, সরকারি বিশেষ অনুদান ২৫ কোটি টাকা, সরকারি ও বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প/সরকারি ও বেসরকারি অংশিদারিত্বভিত্তিক (পিপিপি) প্রকল্প ১১৮৯ কোটি টাকা। ব্যয়ের খাত দেখানো হয়েছে- রাজস্ব খাতে ২৪২ কোটি ৭০ লাখ টাকা, অন্যান্য খাতে ৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন খাতে ১ হাজার ৫১৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। এবার হোল্ডিং  ট্যাক্স শতকরা ১০ ভাগ বৃদ্ধি করা হয়েছে। মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কথা ও বাজেট বক্তব্যে বলা হয়েছে।