Quantcast
ঢাকা, সোমবার 9 July 2012, ২৫ আষাঢ় ১৪১৯, ১৮ শাবান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৫০৫ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

সংসদ অধিবেশনে সমাপনী ভাষণ

চলতি বাজেট থেকেই পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা বিশ্বব্যাংকের অডিট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল রোববার নবম জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ এবং ২০১২-১৩ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনে সমাপণী বক্তৃতা করেন -পিআইডি

সংসদ রিপোর্টার : বিশ্বব্যাংকের অডিট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ  হাসিনা। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক একটি ব্যাংক, একটি ব্যাংকের মতোই তাদের কার্যক্রম হয়ে থাকে। তাদের নিয়মিত অডিট হয় কি না তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। আমরাও বিশ্বব্যাংকের অংশীদার। তাদের হিসাব-নিকাশ চাওয়ার অধিকার অবশ্যই আমাদের আছে। প্রধানমন্ত্রী চলতি অর্থবছরের উন্নয়ন খাতের নিজম্ব অর্থ থেকেই পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করার ঘোষণা দেন। গতকাল রোববার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ  কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সদ্য পাস হওয়া জাতীয় বাজেটের বার্ষিক উন্ন্য়ন বরাদ্দের (এডিপি) ৫৫ হাজার কোটি টাকার ২৪ হাজার কোটি টাকা দিয়ে পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করবো। এটিও একটি উন্নয়নমূলক কাজ। মন্ত্রণালয়গুলোকে একটু  কৃচ্ছতা সাধন করতে হবে। এছাড়া প্রয়োজনে ৭৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বন্ড ছাড়া হবে। এই কাজ চলতি ২০১২-১৩ অর্থবছরে শুরু করে আগামী ২০১৫-১৬ সালের মধ্যে শেষ করবেন বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, মোবাইল ফোনে ইতোমধ্যে মানুষের বেশ সাড়া পেয়েছি। প্রবাসীরা রেমিটেন্স বাড়িয়ে দেয়ার কথা বলেছে। ছাত্র-ছাত্রীরা টিফিনের টাকা দেবে। কৃষকরা বলেছে তারাও টাকা  দেবে। সারাদেশের মানুষরা, দেশের মানুষ কারো কাছে মাথা  নত করে না। আমরা পিপিপির, বিওটি ও পাশাপাশি নিজেরাও করতে  পারি। পদ্মা সেতুর জন্য ভূমি অধিগ্রহণে ১৫শ' কোটি টাকা ইতোমধ্যে খরচ করেছি। মূল সেতু নির্মাণের জন্য ১৫ হাজার  কোটি  টাকা  প্রয়োজন। এছাড়াও  দু'পাশের রাস্তায় আরো কিছু টাকা ব্যয় হবে। বিশ্বব্যাংক দেরি করিয়ে খরচ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে । এজন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে জরিমানা চাওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

উন্নয়নে অহেতুক বাধা সৃষ্টি না করার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক আমাদের গিনিপিগ বানিয়ে রাখতে চায়।  তাদের  পরামর্শে পাট শিল্প বন্ধ করেছে,  টিসিবি, বিআরটিসি বন্ধ, কৃষিতে ভর্তুকি  দেয়া  বন্ধ করা তাদেরই পরামর্শ। আমরা ভিক্ষা নেই না, ঋণ নেই, প্রয়োজনীয় সুদ দিয়ে যাই।

শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভাল ছিল। সম্পর্কটা নষ্ট করার ব্যাপারে তারাই এগিয়ে আসল। তারা নিজেরাও কাজ করেনি, জাইকা ও এডিবিকেও করতে দেয়নি। আমরা যখন একটি কাজ করতে যাই, তখন এ বাধা কেন? আমরা নিজেরা রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা এনেছি, কেউ দেয়নি। সামান্য ছুতা ধরে বাংলাদেশের এতো বড় সর্বনাশ করা, এটাতো মেনে নেয়া যায় না, আমরা যাতে উন্নয়ন করতে না পারি, তাই এটা করল, আমরা এটা মানতে পারি না, শুধু দাতাগোষ্ঠীদের দিয়ে না, আমরা নিজেরাও এ কাজ করতে পারি। দেরি করে খবর বাড়ানোর জন্য আমাদের অবশ্যই বিশ্বব্যাংকের কাছে ক্ষতিপূরণ চাওয়া উচিত। বাংলাদেশের মানুষ রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে, তারা কারো কাছে মাথা নত করতে পারে না।

তিনি বলেন, ‘‘ওয়ার্ল্ড ব্যাংক একটি ব্যাংক, আমি জানি না তাদের ব্যাংকে নিয়মিত অডিট হয় কিনা? তাদের কর্মকর্তারা কি করে তা দেখে কিনা? এটা যেহেতু ব্যাংক নিয়মিত তার অডিট হতে হবে। বিশ্বব্যাংক হঠাৎ ঋণ চুক্তি বাতিল করল। আমি তাদের বলেছি, আমরা নতুন টেন্ডার দিব, আমাদের সময় নষ্ট করবেন না। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলো সে সময় তারা প্রকল্প বাতিল করল না, করল দেড় বছর পরে।’’

তিনি বলেন, ‘‘এ পর্যন্ত আমরা যে কাজগুলো করেছি, তা নিয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করতে পারেনি। কিন্তু শেষ সময়ে এসে দুর্নীতির সুযোগ ছিল বলে ঋণ চুক্তি বাতিল করেছে, এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। যেখানে তারা একটি টাকা দেয়নি, সেখানে কিভাবে দুর্নীতি হয়।

তিনি আরো বলেন, ‘‘শহরে অনেক মানুষ অনেক রাগ করেছে বিদ্যুৎ পায়নি বলে, কারণ আমরা গ্রামে বিদ্যুৎ দিয়েছি। আজকের সংবাদপত্র দেখলে বুঝতে পারবেন বর্ষাকালে টমেটো উৎপাদিত হচ্ছে। আমরা সব কিছু রিসার্চ করে উৎপাদন করছি। সাতটি বিভাগে আমরা অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলেছি। জামানত ছাড়া যে কেউ এক লাখ টাকা ঋণ নিতে পারে। একটি দেশকে সার্বিকভাবে উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছু আমরা করে যাচ্ছি। এর সুফল দেশের মানুষ পাচ্ছে। কার্তিক মাসে রংপুর, গাইবান্ধা, নীলফামারী গেলে খাদ্যাভাব দেখা যেতো, আমরা তা দূর করে অন্তত দুই বেলা খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। বাংলাদেশ এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দেশ। জাতিসংঘে আমাদের সেনা ও পুলিশ বাহিনী ভালভাবে কাজ করছে। সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই, সে নীতি নিয়ে আমাদের সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘‘আমাদের সরকারই প্রথম সচিব পর্যায়ে নারীদের সচিব, এসপি, ওসি, জজ, মহিলা ডিসি ও সেনাবাহিনীতে কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। আমরা শুধু সমুদ্রই জয় করিনি, এভারেস্টও জয় করেছি। এভারেস্টে এক ছেলের সঙ্গে দুই মেয়েও উঠে গেছে, আমাদের মহিলা ক্রিকেট টিমও পিছিয়ে নেই, তারাও ওয়ানডে স্ট্যাটাস পেয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘‘জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে এবারের বাজেট আমরা প্রণয়ন করেছি। এ দেশের মানুষের দ্রুত আর্থিক অবস্থার উন্নতি আমরা করতে চাই। তাইতো এক লাখ ৯১ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিয়েছি। প্রতি বছর আমরা বাজেট বৃদ্ধি করছি ও তা বাস্তবায়ন করছি।’’

তিনি বলেন, ‘‘সাড়ে তিন বছরে আমরা যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছি তাতে ২৫ লাখ নতুন গ্রাহক বিদ্যুৎ পেয়েছে। তাতে এক কোটি ২৫ লাখ লোক বিদ্যুৎ পাচ্ছে। নৌ ও সড়ক পথ উন্নয়নে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। মানুষের আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্বমন্দা সত্ত্বেও আমরা অর্থনীতির চাকা সচল করতে পেরেছি। আমরা ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। যা বিশ্বে প্রশংসিত।’’

তিনি বলেন, দলিত, হিজড়া, বেদেদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য আমরা প্রথমবারের মতো আলাদা ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছি। প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিকদের জন্য আমরা অর্থ বরাদ্দ দিয়েছি। কৃষকদের উপকরণ সহায়তা কার্ড দেয়া হচ্ছে।’’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘দেশী বিনিয়োগও প্রচুর বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা গ্রামের দিকে বিনিয়োগ নিয়ে যাচ্ছি। গত অর্থবছরে প্রায় ৭ লাখ লোক বিদেশ গেছে। প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। জনগণের ভোটের অধিকার জনগণের হাতে তুলে দেয়ার জন্য আমরা সংগ্রাম করছি।’’