|
|
বিক্ষোভ যান চলাচল বন্ধ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া
গতকাল রোববার রাজধানীর মিরপুর ১০নং গোলচক্করের কাছে বেপরোয়া গতির বাসের ধাক্কায় ঢাকা কমার্স কলেজের এক ছাত্র নিহত হবার জের ধরে বিক্ষুব্ধ জনতা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা এ সময় ব্যাপক গাড়ি ভাংচুর করে। পুলিশ কয়েকজন ছাত্রকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে -সংগ্রাম
স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর মিরপুরে বাস চাপায় কলেজ ছাত্র নিহতের ঘটনায় উত্তেজিত ছাত্র জনতা ঘাতক বাসটিতে আগুন দিয়েছে। এতে বাসটি পুড়ে যায়। এ সময় ক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা ২০টিরও বেশি গাড়ি ভাংচুর করেছে। ভাংচুর চলাকালে পল্লবী থেকে শেওড়া পাড়া পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশের সাথে ছাত্র-জনতার দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনার পর তিন ঘণ্টা পর পরিস্থিতি শান্ত হয়ে এলে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। গতকাল রোববার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। বাস চাপায় নিহত ছাত্রের নাম শাওন হোসেন মনু (২৩)। সে ঢাকা কমার্স কলেজের অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্র ছিল। তার বাসা মিরপুর বেনারসী পল্লীতে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, গতকাল রোববার দুপুর ১২ টার পর কলেজ থেকে ক্লাস শেষে বেনারসী পল্লীর বাসায় ফিরছিল শাওন হোসেন মনু (২৩)। এ সময় মিরপুর ১০ নম্বর গোল চক্কর দিয়ে রাস্তা পারাপারের সময় গুলিস্তানগামী বিকল্প পরিবহনের একটি বাস তাকে চাপা দেয়। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে আল হেলাল হাসপাতালে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শাওন নিহত হওয়ার খবর শুনে তার সহপাঠিসহ ঢাকা কমার্স কলেজের ছাত্ররা মিরপুর ১০ নম্বর গোলচক্কর এলাকায় এসে বিক্ষোভ শুরু করে। তাদের সাথে যোগ দেয় স্থানীয় জনতা। তারা ঘাতক বাসটি আটক করে ব্যাপক ভাংচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় ভয়ে আশপাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা দফায় দফায় বিক্ষোভ এবং ২০টির বেশি যানবাহনে ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ ভাংচুর চালায়। ছাত্র জনতার বিক্ষোভ ও যানবাহন ভাংচুরের মুখে পল্লবী থেকে শেওড়াপাড়া পর্যন্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুপুর সোয়া ১২টা থেকে বিকেল সোয়া তিনটা পর্যন্ত এ অবস্থা বিরাজ করে। ছাত্র জনতা মিরপুর সাড়ে ১০, ১৪ ও ১ নম্বর এলাকাতেও ব্যাপকভাবে যানবাহন ভাংচুর করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা শতাধিক গাড়িতে ভাংচুর চালায়। তারা জানান, শাওন বিকল্প পরিবহনের (বাস নং- ঢাকা মেট্রো জ-১৪-১৫০১) এই বাসটির যাত্রী ছিল। সে বাস থেকে নামার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়। চলন্ত বাসটির পেছনের চাকা তার মাথা থেতলে দেয়। ক্ষুব্ধ ছাত্র জনতার যানবাহন ভাংচুরের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় উভয় পক্ষে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। যানবাহন ভাংচুরের কারণে শেওড়াপাড়া থেকে মিরপুরে ১০ নম্বর, ১৪ নম্বর ও ১ নম্বর এলাকার কালো পিচ ঢালা রাস্তায় গাড়ির ভাঙ্গা কাঁচ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকে।
নিহত ছাত্র শাওনের মামাতো ভাই প্রিন্স জানান, কলেজ থেকে ফেরার পথেই সে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় মিরপুর আল হেলাল হাসপাতালে প্রথমে নেয়া হয়। সেখান থেকে তাকে নেয়া হয় আজমল হাসপাতালে। আজমল হাসপাতালের ডাক্তার ইমারাত হোসেন তখন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই শাওনের মৃত্যু ঘটেছে। তার স্বজনরা খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসে। এ সময় সৃষ্টি হয় এক হৃদয়বিদারক দৃশের অবতারণা। স্বজনেরা তার লাশটি নিয়ে যায় মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনের এ ব্লকের ৭ নম্বর লাইনের ২ নম্বর বাড়িতে।
পল্লবী থানার ডিউটি অফিসার এস আই দুলাল গতকাল সন্ধ্যায় জানান, শাওন নিহতের ঘটনায় তার পিতা মো. ইকবাল বাদী হয়ে একটি মামলা (নং-১৬) দায়ের করেছে। মামলায় একমাত্র আসামী করা হয়েছে বাস চালককে। ঘটনার পর থেকেই চালক ও সহকারী পলাতক।
শাওনের বাড়িতে শোকের মাতম : বাসচাপায় নিহত কলেজের ছাত্র শাজওন মনুর বাড়ি মিরপুরে বেনারসি পল্লীতে চলছে শোকের মাতম। শাওনের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বেনারসি পল্লী। গতকাল রোববার দুপুরে মিরপুর সাড়ে ১০ নম্বর এলাকায় বিকল্প পরিবহনের একটি বাসচাপায় কমার্স কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র শাওন হোসেন মারাত্মক আহত হন। স্থানীয় হাসপাতালে নেয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। তারপর শাওনের লাশ মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনের এ ব্লকের ৭ নম্বর লাইনের ২ নম্বর বাড়িতে নেয়া হয়। শাওনের মৃত্যুর খবরে তাদের বাড়িতে ছুটে আসে বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজন। একতলা বাড়ির ভেতরে নেয়া হয় শাওনের লাশ। বাড়ির সামনে বৃষ্টির মধ্যে শত শত মানুষ জটলা সৃষ্টি করে।
এদিকে শাওন যে স্কুলে মাধ্যমিক শ্রেণীতে পড়তো সেই স্কুল আবু তালেব উচ্চ বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ স্কুলের শিক্ষার্থীরাও এসেছে শাওনদের বাড়িতে। গতকাল বেনারসি পল্লী বন্ধ থাকলেও শাওনের মৃত্যুর খবরে শত শত মানুষ জমায়েত হয় তাদের বাড়ির সামনে।
উত্তরায় বাসে পিষ্ট প্রবাসী : উত্তরায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক প্রবাসী নিহত হয়েছেন। গতকাল রোববার সকালে দুবাই প্রবাসী আহম্মদ আলী (৪৫) রাজলক্ষ্মী কমপ্লেক্সের সামনে রাস্তা পার হওয়ার সময় অনাবিল পরিবহনের একটি বাস তাকে চাপা দেয়। উত্তরা ১ নং সেক্টরের উইমেন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহতের ভাগ্নে আব্দুর রাজ্জাক জানান, তার মামা আহম্মদ আলী কিছুদিন আগে দুবাই থেকে ছুটিতে আসেন। তিনি ঢাকায় আজমপুরে ভাগ্নের ১৫১ পূর্ব আজমপুরের বাসায় ওঠেন।
উত্তরা থানার এস আই আকরাম হোসেন জানান, চালকসহ বাস আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে উত্তরা থানায় মামলা হয়েছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

