Quantcast
ঢাকা, বুধবার 11 July 2012, ২৭ আষাঢ় ১৪১৯, ২০ শাবান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ১৩৮৮ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

পার্লামেন্টের বাইরে ও তাহরির স্কয়ারে মুরসির সমর্থনে হাজার হাজার লোক

সেনা চ্যালেঞ্জ উপেক্ষা মুরসির আহবানে মিসরে পার্লামেন্ট অধিবেশন

মিসরে সামরিক পরিষদের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে পার্লামেন্টে সংক্ষিপ্ত অধিবেশন হয়েছে বলে গতকাল মঙ্গলবার জানিয়েছে বিবিসি। মিসরের সর্বোচ্চ সামরিক পরিষদ নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে পার্লামেন্ট বিলোপ করার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলে সতর্ক করার পরও তিনি এর তোয়াক্কা করেননি। সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই পার্লামেন্টে অধিবেশন করার আদেশ দেন মুরসি।

সংক্ষিপ্ত অধিবেশনে পার্লামেন্টের স্পিকার সাদ আল কাতাতনি বলেন, ‘‘এমপিরা রায়ের বিরোধীতা করছে না। বরং কিভাবে সম্মানিত আদালতের রায় বাস্তবায়ন করা হবে তা ভেবে দেখছে। আজ আর অন্য কোনো আলোচ্য বিষয় নেই।’’

সুপ্রিম কোর্টের রায় কিভাবে বাস্তবায়ন করা যায় সে ব্যাপারে পার্লামেন্টকে উচ্চ আপিল আদালতের কাছ থেকে আইনী পরামর্শ চাওয়ার প্রস্তাব দেন স্পিকার সাদ। আর এমপিরাও এ প্রস্তাব অনুমোদন করেন। এরপরই অধিবেশন মুলতবি করা হয়। গত মাসে মিসরের পার্লামেন্ট অসাংবিধানিক বলে রায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট। এ রায়ের বদৌলতে পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সামরিক পরিষদ।

গত রোববার এক ডিক্রির মাধ্যমে পার্লামেন্ট বিলুপ্তির ওই সিদ্ধান্ত বাতিল করেন প্রেসিডেন্ট মুরসি। এর পরপরই প্রেসিডেন্টের জারি করা ডিক্রি প্রত্যাখ্যান করে সুপ্রিম কোর্ট। সেনাবাহিনী থেকেও প্রেসিডেন্টের আদেশের বিরোধিতা করা হয়।

এক বিবৃতিতে সর্বোচ্চ সামরিক পরিষদ জানিয়েছে, ‘‘পার্লামেন্ট বিলুপ্তির আদেশ রক্ষা করা হবে।’’ এ ঘোষণাকে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে সেনাবাহিনীর ‘চ্যালেঞ্জ' বলেই মন্তব্য করেন বিশ্লেষকরা। কিন্তু সে চ্যালেঞ্জও উপেক্ষা করলেন মুরসি। মাত্র এক সপ্তাহ আগে মুরসি নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে মিসরের ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি মিসরভিত্তিক আন্তর্জাতিক ইসলামী সংগঠন ‘মুসলিম ব্রাদারহুড'-এর রাজনৈতিক শাখা ‘ফ্রিডম এন্ড জাস্টিস' পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে জয়লাভ করেন। বিলুপ্ত নির্বাচিত পার্লামেন্টেও মুসলিম ব্রাদারহুড সদস্যদের আধিপত্য ছিল।

এদিকে, মুরসির আদেশের সূত্রে স্পিকার গতকাল মঙ্গলবার পার্লামেন্টের ওই অধিবেশন ডাকেন। এ অধিবেশনকে কেন্দ্র করে কায়রোর স্বাধীনতা চত্বরে (তাহরির স্কয়ার) দলে দলে লোক অবস্থান নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিবিসির কায়রো প্রতিনিধি। প্রেসিডেন্টের আদেশ বাস্তবায়ন করে পার্লামেন্ট পুনর্বহালের জন্য লাখ লাখ মানুষের সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে মুসলিম ব্রাদারহুড।

ওদিকে, সর্বোচ্চ সেনা পরিষদ বলেছে, আইন ও সংবিধানের প্রতি রাষ্ট্রীয় সব প্রতিষ্ঠান শ্রদ্ধা দেখাবে বলেই তারা বিশ্বাস করে। বিশ্লেষকদের ধারণা, মিসরের রাজনৈতিক অস্থিরতা আবার ফিরে আসছে।

বিবিসি আরো জানায়, মিসরের রাজনৈতিক সংকট এতদিন যেন চলছিলো খালি হাতের মুষ্টিযুদ্ধের মত। এখন সেটা অনেক সূক্ষ্ম লড়াইয়ের চেহারা নিয়েছে অনেকটা দাবা খেলার মত। গত সোমবার থেকেই মিসরের সামরিক পুলিশ পার্লামেন্ট ঘিরে রেখেছিলো। কিন্তু আজ তারা সরে যাওয়ার ফলে এমপিরা পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকতে কোন বাধা পাননি। কিন্তু তারপর তাদের পার্লামেন্টের যে অধিবেশন সেটা চলে মাত্র ৫ মিনিট। মিসরের সামরিক কাউন্সিল-এর আগে দেশের সাংবিধানিক আদালতের রায়ের জের ধরে পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দেয়ার কথা ঘোষণা করেছিলো। পার্লামেন্টের এই সংক্ষিপ্ত অধিবেশনের মাধ্যমে কাউন্সিলের সেই নির্দেশকেই পুরোপুরি উপেক্ষা করা হলো। ৫ মিনিটের অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে স্পিকার সাদ আল কাতাতনি বলেন, সাংবিধানিক আদালতের বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করতেই এই অধিবেশন ডাকা হয়েছে। এদিকে পার্লামেন্ট বসার ঘটনার মধ্যে দিয়ে এটিই প্রমাণ হলো যে, তারা বিচার বিভাগ ও সামরিক কাউন্সিলের হুমকির কোন পরোয়াই করছে না। আর লড়াইটা যেমন আদালতের ভেতরে হচ্ছে তেমনি আদালতের বাইরেও কিন্তু হাজার হাজার বিক্ষোভকারী প্রেসিডেন্ট মুরসির সমর্থনে জড়ো হতে শুরু করেছে। গতকাল সকালেই তারা পার্লামেন্টের বাইরে জড়ো হয়েছিলেন এবং তারা পার্লামেন্টের অধিবেশনকে সমর্থন জানিয়েছেন। এছাড়াও তারা কায়রোর কেন্দ্রস্থল তাহরির স্কয়ারেও জড়ো হয়ে মুরসির সমর্থনে স্লোগান দেয় ও সামরিক পরিষদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। 

 

 কায়রো থেকে এএফপি : মিসরের নব-নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ইসলামপন্থী মুসলিম ব্রাদারহুডের বিজয়ী প্রার্থী মোহাম্মদ মুরসি ভেঙে দেয়া পার্লামেন্ট পুনর্বহালের জন্য একটি ডিক্রি জারির পর শক্তিশালী সেনাবাহিনীকে উপেক্ষা করেই গতকাল মঙ্গলবার পার্লামেন্টের অধিবেশন বসে।

স্পিকার সাদ আল-কাতাতনি বলেন, আমরা (মঙ্গলবার) আজ আদালতের রুলিং সর্বোচ্চ সাংবিধানিক আদালতের রায় পর্যালোচনার জন্য সমবেত হয়েছি।

তিনি বলেন, আমরা জোর দিয়ে বলতে চাই আমরা রুলিংয়ের বিরোধিতা করছি না, বরং মহামান্য আদালতের রুলিং বাস্তবায়নের একটি প্রক্রিয়া খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। আজকে (মঙ্গলবার) আর কোনো এজেন্ডা নেই। কিছু রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্যরা গতকালের অধিবেশন বর্জন করেছেন। কেউ কেউ মুরসির উদ্যোগকে ‘সাংবিধানিক ক্যু' বলেও অভিহিত করেছেন। সরাসরি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত সংক্ষিপ্ত উদ্বোধনী বক্তৃতায় স্পিকার কাতাতনি বলেন, হাউস ‘আইন ও আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। স্পিকার সাদ কাতাতনি পুনর্বহালকৃত পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশন শুরুর ৫ মিনিট পরই সমাপ্ত ঘোষণা করেন।

গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ২০ মিনিটে পার্লামেন্ট অধিবেশন শুরু হয়। স্পিকার দাবি করেন প্রেসিডেন্ট মুরসি পার্লামেন্ট পুনর্বহাল করে সংবিধান লঙ্ঘন করেননি। কাতাতনি বলেন, তিনি সর্বোচ্চ সাংবিধানিক আদালতের সিদ্ধান্ত আপিল আদালতে প্রেরণ করবেন। পার্লামেন্টের নিম্ন ও উচ্চ-কক্ষের সদস্য পদ সংক্রান্ত ২০১১ সালের মার্চের সাংবিধানিক ঘোষণার ৪০ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী আপিল আদালত রায় না দেয়া পর্যন্ত পার্লামেন্টের পরবর্তী অধিবেশন বসতে পারবে না। স্পিকার উল্লেখ করেন যে, পার্লামেন্ট তার অধিকার ও দায়-দায়িত্ব উভয় বিষয়েই সচেতন রয়েছে।

কায়রো থেকে এএফপি আরো জানায়, মিসরের সুপ্রিম কোর্ট আদালতের রায়ে ভেঙ্গে দেয়া পার্লামেন্ট পুনর্বহাল করতে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির জারি করা ডিক্রি প্রত্যাখ্যান করেছে। এদিকে সামরিক বাহিনী বলেছে আইনের শাসনের প্রতি অবশ্যই সম্মান দেখাতে হবে।

সুপ্রিম কোর্ট গত সোমবার এক বিবৃতিতে বলেছে, সুপ্রিম কনস্টিটিউটশনাল কোর্টের সকল রুলিং ও সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং আপিলযোগ্য নয় এবং সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য তা মানা বাধ্যতামূলক।'

এদিকে দেশের শক্তিশালী সুপ্রিম কাউন্সিল অব দ্য আর্মড ফোর্সেস (স্কাফ)-এর এক বিবৃতিতে আদালতের প্রতিধ্বনি করে বলেছে, সংবিধান ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে হবে।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মিনা জানিয়েছে, স্কাফ ‘সর্বশেষ পরিস্থিতির আলোকে সংবিধানের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে। গত বছর নবেম্বর থেকে তিন ধাপে অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রার্থী বিপুল বিজয় অর্জন করেন। পার্লামেন্টের নিম্ন কক্ষে দলটির কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু দ্বিতীয় দফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের একদিন আগে সুপ্রিম কোর্টের একটি বিতর্কিত রায়ের পর সামরিক বাহিনী পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দেয়।

নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি গত রোববার পার্লামেন্টে নিম্ন কক্ষের অধিবেশন ডাকার নির্দেশ দেন। স্পিকার সা'দ আল-কাতাতনি প্রেসিডেন্টের আদেশ অনুযায়ী গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সময় ২টায় পার্লামেন্ট সদস্যদের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানান।

এদিকে মুসলিম ব্রাদারহুড বলেছে, তারা প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত ও পার্লামেন্ট পুনর্বহালের সমর্থনে মঙ্গলবার ১০ লাখ লোকের একটি মিছিলে অংশ নেয়ার কথা ঘোষণা করে। ধারণা করা হচ্ছে, আদালতের পদক্ষেপের ফলে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সামরিক বাহিনী ও বিচার বিভাগের মধ্যে মুখোমুখি দ্বনদ্ব সৃষ্টি হবে।

এদিকে প্রেসিডেন্টের দফতর থেকে জারিকৃত ডিক্রিটি ‘সাংবিধানিক আদালতের রায়ের পরিপন্থী নয় কিংবা এটি সংবিধান লংঘন কোনটিই নয়।'

প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইয়াসের আলী, এ রুলিং অবিলম্বে কার্যকর করার প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে বলেছেন, রাষ্ট্র ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে মুরসি এ ডিক্রি জারি করেছেন।

এদিকে সোমবারের পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র সোমবার মিসরের প্রতি ‘গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সম্মান জানানোর আহবান জানিয়েছে।'

মিসরের গণতান্ত্রিক উত্তরণ প্রক্রিয়ায় সমর্থন জানাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিলারি ১৪ জুলাই কায়রো যাবেন। সাংবিধানিক আদালত জোর দিয়ে বলেছে, ‘এটি কোনো রাজনৈতিক সংঘাতের অংশ নয় তবে এর পবিত্র দায়িত্বের সীমা হলো সংবিধানের পাঠ সংরক্ষণ করা। স্কাফও সংবিধানের পাঠ সমুন্নত রাখার ওপর জোর দিয়েছে। তবে কোর্টের আদেশ কিভাবে বাস্তবায়িত হবে তবে তা পরিষ্কার নয়।

হিলারির আহবান

হ্যানয় থেকে এএফপি : মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন আলোচনার মাধ্যমে মিসর পার্লামেন্ট ও সামরিক বাহিনীর মধ্যকার সংকট সমাধানের আহবান জানিয়েছেন।

ভিয়েতনামে আলোচনার পর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা মিসরে সংকট সমাধানের সঠিক পথ খুঁজে বের করতে সব পক্ষের মধ্যে নিবিড় আলোচনার আহবান জানাচ্ছি।'

তিনি বলেন, ‘মিসরবাসী যে কারণে প্রতিবাদ করেছে এবং যে কারণে পূর্ণাঙ্গ নির্বাচিত সরকার গঠনে ভোট দিয়েছে সেই অভীষ্ট লক্ষ্যে তাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে।'