|
|
জিআস'র আলোচনায় মির্জা ফখরুল
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে জিয়া আদর্শ সংসদ আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য পেশ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম
স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, পদ্মা সেতুর দুর্নীতি নিয়ে সরকারকে দেয়া বিশ্বব্যাংকের চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী আবুল হোসেনের নাম রয়েছে। সে কারণেই নিজেদের অর্থায়নে সেতু করার কথা বলে প্রধানমন্ত্রী নিজেকে দুর্নীতি থেকে আড়াল করার অপচেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, সংসদে বক্তব্য দেয়ার সময় প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অঙ্গ ভঙ্গী তার দুর্বলতার প্রমাণ করে। সরকারের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পে আপনারা দুর্নীতি করেননি তা প্রমাণ করুন। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জিয়া আদর্শ সংসদ (জিআস) আয়োজিত ‘পদ্মা সেতু নির্মাণে দুর্নীতি, বিশ্বব্যাংকের চুক্তি বাতিল, আর্থিক সংকটে বাংলাদেশ এবং সর্বক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘন' শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা টিএম গিয়াস উদ্দিন, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সংসদ সদস্য সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া, নিলুফার চৌধুরী মনি, সাবেক সাংসদ হেলেন জেরিন খান ও সংগঠনের সভাপতি খন্দকার গোলাম আজাদ প্রমুখ।
মির্জা ফখরুল বলেন, পদ্মা সেতুর দুর্নীতিতে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন বক্তব্যে তার পরিবারের সদস্যদের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করলেও বিদেশী গণমাধ্যমে তার পরিবারের ঘনিষ্ঠদের জড়িত থাকার বিষয়ে কানাঘুষা চলছে। তিনি সরকারের কাছে আবারো বিশ্বব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ চিঠি প্রকাশের দাবি করে বলেন, নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতে চাইলে অবিলম্বে বিশ্বব্যাংকের সব চিঠি ও সব বিষয় জনগণের সামনে প্রকাশ করুন। দেশবাসী জানতে চায় ঐসব চিঠিতে কি লিখা আছে। আর নৈতিকতার স্বার্থে গণতান্ত্রিক দেশের সরকারের মতো আপনারাও পদত্যাগ করুন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতিতে এতোই পারঙ্গম যে, ৩৫ মিলিয়ন ডলার হজম করে বসে আছেন। কানাডার একটি কোম্পানির কর্মকর্তাকে কানাডীয় পুলিশ ইতোমধ্যে গ্রেফতার করেছে। ওই কর্মকর্তা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন, সেতুর নির্মাণ কাজ পাওয়ার জন্য ৩৫ মিলিয়ন ডলার ঘুষ দিয়েছেন। অর্থায়ন ছাড়ের আশায় এভাবে আগেই কমিশনের টাকা লেনদেন হয়েছে। ফখরুল বলেন, বিশ্বব্যাংক চুক্তি বাতিলের পর সরকারের মন্ত্রীদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তাদের বক্তব্যে মনে হচ্ছে, তারা খেই হারিয়ে ফেলেছেন। সংসদে প্রধানমন্ত্রীকেও আত্মরক্ষার ব্যর্থ চেষ্টা করতে দেখা গেছে। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণে সরকারের মিথ্যা আশ্বাসে পুরো জাতি আজ স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, দুর্নীতিতে অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে আওয়ামী মহাজোট সরকার। এ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বললেই সুকৌশলে জনগণের নজর ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে সরকার দক্ষ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দেশের অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে তিনি বলেন, সরকার অর্থনীতি নিয়ে ছেলেখেলায় মেতে উঠেছে। এ খেলার পরিণতি হতে হবে ভয়াবহ।
দুদকের সমালোচনা করে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র এম মনজুর আলম বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হওয়ার পরই দুদক তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্তে নেমেছে। তারা কেন এটা করছে জনগণ তা ভালো করেই জানে।
সাবেক এ মন্ত্রী আরো বলেন, সরকারের সাড়ে তিন বছরে ইলিয়াস আলী ছাড়াও ১৩০ জন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী গুম হয়েছেন। নির্যাতনের শিকার হয়েছেন হাজার নেতা-কর্মী। আর সে কারণেই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যদিও এতে সরকারের কিছু মন্ত্রীর মাথা খারাপ হয়ে গেছে।
ড. মঈন খান বলেন, জনগণের পকেটের টাকা লুটের জন্যই নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের কথা বলছে সরকার। অর্থায়ন বড় বিষয় নয়, বরং এই অর্থ কতটা স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন হবে সেটাই মুখ্য।

