|
|
‘মিট দ্য প্রেস' অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত
গতকাল মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাব ভিআইপি লাউঞ্জে ‘মিট দ্য প্রেস' অনুষ্ঠানে বক্তব্য পেশ করেন ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা -সংগ্রাম
0 বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন বাতিল একটি শিক্ষা0
ভৌগোলিক-কৌশলগত কারণে বাংলাদেশকে আমেরিকার দরকার আসছেন মার্কিন নৌ-মন্ত্রী অবনতিশীল মানবাধিকার পরিস্থিতিতে আবারো উদ্বেগ
স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা বলেছেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের স্বার্থেই আগামী সাধারণ নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও সবার অংশগ্রহণে হতে হবে। দুর্নীতিকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অভিহিত করে তিনি বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন বাতিলের ঘটনা একটি শিক্ষা। ভৌগোলিক- কৌশলগত কারণে বাংলাদেশকে আমেরিকার দরকার উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, এ দেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে মার্কিন সরকার বরাবরই উদার। মি. মজিনা আশা করছেন, তৈরি পোশাক শিল্পসহ অর্থনীতি যেভাবে এগুচ্ছে তাতে বাংলাদেশ ‘নেক্সট এশিয়ান টাইগার (পরবর্তী এশীয় বাঘ)'। তবে তিনি গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা আমিনুল হত্যাসহ অবনতিশীল মানবাধিকার পরিস্থিতিতে আবারো উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বাংলাদেশের পণ্য কিনে নিজেদের সুনাম নষ্ট করার ঝুঁকি নেবে না মার্কিন ব্যবসায়ীরা।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাব ভিআইপি লাউঞ্জে এক ‘মিট দ্য প্রেস' অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত এসব মন্তব্য করেন। প্রেস ক্লাব কর্তৃপক্ষ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্লাব সভাপতি কামালউদ্দিন সবুজ। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী রওনক হোসেন, সাবেক সভাপতি খন্দকার মনিরুল আলম ও শওকত মাহমুদ, এনটিভির বার্তা প্রধান ও ক্লাবের সংশ্লিষ্ট উপকমিটির আহবায়ক জহিরুল আলমসহ মার্কিন দূতাবাসের পদস্থ কর্মকর্তাগণ।
আগামী সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র আছে এবং গণতন্ত্র থাকতেই হবে। আমেরিকাও এটা চায়। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের স্বার্থেই আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক হতে হবে। আশা করি এ বিষয়ে দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল একটি সমঝোতায় আসবে। দলগুলোর সাথে কথা বলে সমঝোতায় আসার ব্যাপারে তাদের নমনীয়তা লক্ষ্য করেছি।
পদ্মা সেতু ও দুর্নীতি প্রসঙ্গে ড্যান মজিনা বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন বাতিলের ঘটনায় আমি হতাশ হয়েছি। কিন্তু এটাও তো ঠিক যে, দুর্নীতির কারণেই এমনটি হয়েছে। এটা সরকারের জন্য একটি শিক্ষা। তবে তিনি মনে করেন, আরো আলোচনার মাধ্যমে এর সুরাহা করতে হবে। আমেরিকা এখানে হস্তক্ষেপের এখতিয়ার রাখে না। বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংককেই এ কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য পদ্মা সেতু খুবই জরুরি। বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থানে রয়েছে। এই অঞ্চলটি নেপাল, ভুটান, ভারত, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুরের সাথে যোগাযোগের মাধ্যম হতে পারতো। আর পদ্মা সেতু এতে বড় ভূমিকার পালন করতে পারতো। গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ড. ইউনূসকে বাদ দেয়ার কারণেই বিশ্বব্যাংক এই ঋণ চুক্তি থেকে সরে এসেছে এমন ধারণার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মজিনা বলেন, এটি ঠিক নয়। ইটজ অ্যা ক্রিটিক্যাল আইডিয়া।
বঙ্গোপসাগরে নৌঘাঁটি স্থাপনের কোনো ধরনের অভিপ্রায় যুক্তরাষ্ট্রের নেই- এমন কথা সাফ জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, এটা কি ঠাট্টা-তামাশার বিষয়? আপনি কিভাবে একটি যুদ্ধবিমান বহনকারী রণতরী চট্টগ্রামে নিয়ে আসতে পারেন? অবশ্য তিনি জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহেই মার্কিন নৌ-মন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে আসছেন। এ সময় তিনি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সাথে বৈঠক করবেন। একই সাথে তিনি যোগ করেন, মার্কিন নৌ-বহর বিষয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে তা ভুল। বলা যায় সেটি একটি বানানো গল্প।
মাকিন রাষ্ট্রদূত ‘মিট দ্য প্রেস' অনুষ্ঠানে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক দিন অবস্থন করে স্টেট ডিপার্টমেন্ট কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের সাথে কয়েক দফা বৈঠক করেছি। বাংলাদেশে তৈরি পোশাক খাতে শ্রমিক অধিকার পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন ক্রেতারা আলোচনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বাংলাদেশী পণ্য কিনতে চান। কিন্তু তারা তাদের সুনাম ঝুঁকির মুখে ফেলতে রাজি নন। গত এপ্রিলে শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলাম নিহত হওয়ার ঘটনা, কারখানায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও সংগঠন করার সুযোগ নিয়েই তাদের এ উদ্বেগ।
ড্যান ডব্লিউ মজিনা বলেন, ‘‘বাংলাদেশ আগামী ১৫ বছরের মধ্যে এশিয়ান অর্থনীতিতে টাইগার হিসেবে আবির্ভূত হতে পারবে। এ দেশে মার্কিন বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ ও ব্যবসার সম্প্রসারণ ঘটাতে চায়। এ জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, হরতাল ও দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। দীর্ঘ ঐতিহ্যের বাইরে গিয়ে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় না দেয়ায় বাংলাদেশের ভূমিকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হতাশ হয়েছে বলেও জানান তিনি। বাংলাদেশের গুম, খুন, মানবাধিকার লঙ্ঘন বিষয়ে আমেরিকার উদ্বেগের কথা পুনরুল্লেখ করেন তিনি। তারপরও তিনি কৌশলগত কারণে আমেরিকার প্রয়োজনেই বাংলাদেশের সঙ্গে সামরিক ও বেসামরিকসহ সব ধরনের অংশীদারিত্বমূলক কর্মকান্ড আরো গভীর ও প্রসারিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

