Quantcast
ঢাকা, বুধবার 11 July 2012, ২৭ আষাঢ় ১৪১৯, ২০ শাবান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ১৬১ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

ব্যবসায়ীদের কাছে সরকারের অসহায় আত্মসমর্পণ

পণ্যের দাম বাড়াতে পিছিয়ে নেই সরকারও বাড়ছে জ্যামিতিক হারে

0 গত বছরের ৬০ টাকার ছোলা এখন ১০০টাকা0 0 চারদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজ কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকা, আলু ৪ টাকা, রসুন ২০ টাকা0

মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামান : বাজারের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই সরকারের। তাই গত বছরের ন্যায় রমযানের আগে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কাজটা সফলভাবেই সেরে নিলেন ব্যবসায়ীরা। রমযানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকবে সরকারের এ ঘোষণা এখন অধরা। ব্যবসায়ীরা মিটিংয়ে সরকারকে দাম বৃদ্ধি করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিলেও সেখান থেকে এসেই দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। আর সরকারের বাজার মনিটরিং টিম শুধু কাগজ-কলমে। বাস্তবে মনিটরিং টিমের কোন অস্তিত্ব বাজারে দেখা যায় না। ক্রেতাদের অভিযোগ, সরকার ব্যবসায়ীদের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে যা লজ্জাজনক। দাম বাড়ানোর কাজটি এখন শুধু ব্যবসায়ীরা করছেন এমনটি নয়, বরং সরকার নিজে পণ্যের দাম বৃদ্ধি করে ব্যবসায়ীদের উৎসাহ জোগাচ্ছে। সরকার নিজেই বাড়িয়ে দিয়েছে চিনির দাম। এছাড়া টিসিবি তালিকাতেও বাড়ানো হয়েছে পণ্যের দাম। বাজারে যখন প্রতি কেজি চিনি ৫৩ থেকে ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে তখন শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি) চিনি বিক্রি শুরু করেছে প্রতি কেজি ৬০ টাকা। এ কারণে পাইকারী বাজারে চিনির দাম বেড়েছে কেজিতে ২ টাকা। বেশি দামে চিনি বিক্রির ব্যাপারে বিএসএফআইসি জানান, আমাদের চিনির উৎপাদন ব্যয় কেজিতে ৮০ টাকা। এই চিনি ৬০ টাকাও যদি বিক্রি না করি তাহলে অনেক লোকসান হবে। টিসিবি রাজধানীর ২৫টি স্থানে খোলা ট্রাকে করে সয়াবিন তেল, চিনি, ছোলা ও মসুর ডাল বিক্রি করছে। টিসিবির এ চার পণ্যের মধ্যে কেবল চিনিই বাজারে কম দামে বিক্রি হচ্ছে। টিসিবি তার ডিলারদের চিনি দিচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে। অন্য পণ্যগুলো চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে। এর ফলে বাজার নিয়ন্ত্রণে টিসিবি কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না। গত রমযানে ছোলার  দাম কয়েক দফা বৃদ্ধি করে ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। এ বছর দাম বাড়ানোর সব নিয়ম বদলে গেছে। কেউ দাম বৃদ্ধির এ নমুনা বুঝে উঠতে পারছেন না। রমযান না আসতেই ৬০ টাকার ছোলা একভাবে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ৭৫ টাকায় বিক্রি হতে থাকে। আরো এক দফা কেজিতে ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৮৫ টাকা করা হয়। টিসিবির তথ্যে এখনো ৮০ থেকে ৮৫ টাকা কেজি দেখানো হচ্ছে। কিন্তু বাজারে তার উল্টো চিত্র। খুচরা বাজারে ১০০ টাকা কেজি দরে ছোলা বিক্রি হচ্ছে। এখন আর পণ্যের দাম গাণিতিক হারে নয় জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রমযানের ইফতারির আরেক প্রয়োজনীয় পণ্য পেঁয়াজের দাম কয়েক দফা বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বশেষ গত চার দিন আগেও প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৮ থেকে ৩০ টাকায়। বর্তমানে তা  কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়। আর আমদানি পেঁয়াজ ২ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৪ থেকে ২৫ টাকায়। খুচরা বাজারে তা ২৮ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা যায়। আলুর দাম বেড়েছে কেজিতে ৪ টাকা। গত চার দিন আগের বাড়ানো দাম ছাড়িয়ে ২২ টাকার স্থলে বিক্রি হচ্ছে ২৬ টাকায়। গত শুক্রবার আমদানি রসুন বিক্রি হয়েছিল ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে। গত চার দিনের ব্যবধানে দাম বাড়ার সকল মাত্রা ছাড়িয়ে কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা। বর্তমানে প্রতি কেজি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা। দেশী রসুন বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৫০ থেকে ৬৫ টাকায়।

নিত্যপণ্যের দাম প্রতিদিন বাড়লেও সরকারের কার্যত কোনো তদারকি নেই। নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে বাজার অভিযান আর ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক এই দুই কৌশলই জানা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের। বাজার তদারকির জন্য ১৪টি টিম করেই মন্ত্রণালয় মনে করছে দাম নিয়ন্ত্রণ হয়ে যাবে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থাই কার্যকর হচ্ছে না। রোযার আগেই নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কথা স্বীকার করে বাণিজ্যমন্ত্রী জি এম কাদের বলেন, রোযা আসলে চাহিদা বেড়ে যায় এজন্য পণ্যের দামও কিছুটা বেড়ে যায়। কিন্তু রোযা আসার আগেই কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরি করে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে। এটা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করলে কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে আমরা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ট্যারিফ কমিশনের হিসাবের চেয়ে বেশি দামে পেঁয়াজ-রসুন বিক্রি হচ্ছে। বাজার তদারকির বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেয়া শুরু হলেও এখনই তার সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা ছাড়া বাজার তদারকি সম্ভব নয়। তিনি ব্যবসায়ীদের পক্ষ নিয়ে বলেন, শুধু ক্রেতাদের কথা চিন্তা করলেই হবে না। বিক্রেতার কথাও ভাবতে হবে। তা না হলে ব্যবসায়ীরা সব লোকসান দিয়ে ব্যবসা গুটিয়ে চলে যাবেন।

তিনি বলেন, টিসিবির মাধ্যমে কম দামে পণ্য বিক্রির মাধ্যমে বাজারে হস্তক্ষেপ করা যায়। তবে টিসিবিকে শক্তিশালী করা না গেলে এটি রাখার কোনো মানে নেই। নিত্যপণ্যের দাম সব সময় সবার ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখা সম্ভব নয়। তবে দ্রব্যমূল্য এখন মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে।

এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি, টাকার মান হ্রাস পাওয়া, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, পণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজি, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধিসহ সব ব্যবস্থাপনা ও অব্যবস্থাপনার ব্যয় পণ্যের দামের ওপর গিয়ে পড়ে। তিনি বলেন, দেশে তিন কোটি ব্যবসায়ী রয়েছেন। বাজারে সরকারের তদারকি আরো জোরদার করতে হবে।

কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, বাজার অর্থনীতিতে মূল্য নির্ধারণের সুযোগ না থাকলেও বাজারে হস্তক্ষেপ করা সম্ভব। এ অবস্থায় টিসিবিকে শক্তিশালী করার জন্য একে তহবিল দেয়া, দক্ষ জনবল নিয়োগ দেয়ার বিষয়ে সময় বেধে পদক্ষেপ নিতে হবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, মন্ত্রী অনেক আশার বাণী শোনাচ্ছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো সীমিত আয়ের মানুষেরা কষ্টে আছেন।