Quantcast
ঢাকা, বুধবার 11 July 2012, ২৭ আষাঢ় ১৪১৯, ২০ শাবান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৫২৭ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণ আজ জেরা

স্টাফ রিপোর্টার : জামায়াতে ইসলামী সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে সাক্ষী দিয়েছেন সৈয়দ শহীদুল ইসলাম মামা। গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে তিনি সাক্ষ্য দিয়েছেন। প্রথমার্ধে তিনি তার জবানবন্দী দেন আর দ্বিতীয়ার্ধে তাকে জেরা করেন ডিফেন্স টিমের আইনজীবী এডভোকেট ইকরামুল হক।

গতকাল জবানবন্দীতে শহীদুল ইসলাম মামা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও বিহারীদের নানা অপরাধের ঘটনা ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরলেও মামলার আসামী কাদের মোল্লা স্পেসিফিকেলী কোনো অপরাধের সাথে জড়িত ছিলেন কিনা তা বলতে পারেননি। তবে তিনি তার জবানবন্দীতে বলেছেন, কাদের মোল্লা গং ও জামায়াতিরাই সব অপরাধের হোতা। আজ বুধবার এই সাক্ষীকে পুনরায় জেরা করা হবে।

 

সাক্ষী শহীদুল ইসলাম

মামার জবানবন্দী

সাক্ষী শহীদুল ইসলাম তার জবানবন্দীতে বলেন, ২৬ মার্চ সকাল থেকেই দেখি মিরপুরের সব এলাকাতেই বাঙালিদের ঘরে ঘরে আগুন জ্বলছে। আমার বাড়ির কাছে ডি ব্লকে যখন আসি দেখলাম নির্বিচারে বাঙালি নিধন হচ্ছে। অনেক জায়গায় বিহারীরা একত্রিত হয়ে উল্লাস করছে। আমি ও আমার এক বন্ধু মন্টু যখন বিহারীদের কাছে আসলাম তখন কাদের মোল্লাসহ অন্যরা ‘পাকড়াও পাকড়াও' বলে চিৎকার করতে থাকে। তখন দৌড়ে আমরা পালিয়ে যাই। পরে আমি মিরপুরের নবাবের বাগ এলাকা দিয়ে তুরাগ নদী পার হয়ে ওপারে সাভারের বনগাঁ গিয়ে আশ্রয় নিই। তিনি বলেন, ২৭ মার্চ কবি মেহেরুন্নেসা, তার দুই ভাই ও মাকে জাকারিয়া রতন, আকতার গুন্ডা, হাক্কা গুন্ডা, হাসিব হাসমী, আববাস চেয়ারম্যান ও নেহালসহ অনেকে ধরে নিয়ে টুকরো টুকরো করে কেটে হত্যা করে। তিনি আরো বলেন, হাক্কা গুন্ডা ও তার চামচা চামুন্ডারা ৫ এপ্রিল ঠাটারী বাজার থেকে পল্লবকে গ্রেফতার করে মিরপুর ঈদগাহ মুসলিম বাজারে নিয়ে গিয়ে সবক'টি আঙ্গুল কেটে ফেলে। তারপর গাছে ঝুলিয়ে নির্যাতন করে হত্যা করে। পরে আমি ভারতের আগরতলায় চলে যাই। সেখানে আমরা গেরিলা আক্রমণের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। পরে দেশে এসে অনেক অপারেশনেও অংশ নিয়েছি। ভারতে আমাদের প্রশিক্ষক ছিলেন খালেদ মোশারফ ও জেনারেল হায়দার। আমাদের গেরিলা আক্রমণের ধরন ছিল ‘হিট এন্ড রান'। আমি যুদ্ধে অংশ নেয়ায় পাক সেনারা আমার বড় ভাইকে ধরে নিয়ে জিম্মি করে। পরে এডভোকেট জহির উদ্দিন আমার ভাইকে উদ্ধার করে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। তিনি বলেন, ১৬ ডিসেম্বর ৯৯ হাজার পাক সেনা আত্মসমর্পণ করে কিন্তু তারপরেও মিরপুরে খান সেনারা আত্মসমর্পণ না করে বরং বাংলাদেশকে পুনরায় পাকিস্তান বানানোর ঘোষণা দেয় এবং হত্যাকান্ড চালায়। এ কারণেই সারা দেশ ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন হলেও মিরপুর শত্রুমুক্ত হয় আমার নেতৃত্বে ৩১ জানুয়ারি।

সাক্ষীর জেরা

প্রশ্ন : আপনার মিরপুরের বাসার নম্বর কত?

উত্তর : ১/বি এভিনিউ, ১/১৬।

প্রশ্ন : ১৯৬২ সাল থেকে আপনি মিরপুরে থাকেন। আপনার জন্ম কত সালে?

উত্তর :  আমার জন্ম ১৯৫৩ সালে।

প্রশ্ন : মিরপুরের বাড়িতে এখন কে থাকেন?

উত্তর : আমার ছোট ভাই সাঈদ থাকে।

প্রশ্ন : মিরপুর বাড়ি ছাড়লেন কবে?

উত্তর : ১৯৮৬ সালের পরে। তখন থেকেই বাইরের দেশে থাকি আমি।

প্রশ্ন :  মিরপুরে কী আপনার পরিবারের সদস্যরা থাকেন?

উত্তর : না। সবাই প্রবাসে থাকি।

প্রশ্ন :  মিরপুরের লোকজন কী আপনাকে চিনেন?

উত্তর : শুধু মিরপুর কেন সারা বিশ্বের লোকজনই আমাকে চিনে।

প্রশ্ন :  এসএসসি পরীক্ষা কবে দিয়েছেন?

উত্তর : ১৯৬৯ সালে দেয়ার কথা ছিল কিন্তু দিতে পারি নাই। ৭০ সালে মিরপুর বেঙ্গলী হাইস্কুল থেকে পরীক্ষা দেই।

প্রশ্ন : এসএসসি পাস করার পরে ইন্টারমিডিয়েটে কোথায় কবে ভর্তি হয়েছেন।

উত্তর : সম্ভবত ৭২ সালে টিএন্ডটি কলেজে ভর্তি হই।

প্রশ্ন :  এরপরে কোথায় ভর্তি হন?

উত্তর : ৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাসে ভর্তি হই।

প্রশ্ন : ঢাবির কোন হলে থাকতেন?

উত্তর : আমি মহসীন হলে থাকতাম। তবে বাড়ি থেকেও ক্লাস করতাম। ঐ সময়ে সম্ভবত মিয়া মোস্তাক ঐ হলের ভিপি ছিলেন।

প্রশ্ন : অনার্স শেষ করলেন কবে?

উত্তর : অনার্স কোর্স শেষ করতে পারি নাই। রাজনৈতিক কারণে শেষ করতে পারি নাই।

প্রশ্ন : চাকুরি করেছেন কোথায়? কবে যোগ দিয়েছেন?

উত্তর : বাংলাদেশ বিমানে চাকরী করেছি। শুরু করেছি ৭৬ সালে চাকরী ছেড়ে ৮৬ সালে বিদেশে চলে যাই পরিবার নিয়ে।

অদ্যাবধি বিদেশেই আছি।

প্রশ্ন : কোন দেশের পাসপোর্ট নিয়ে আপনি দেশে এসেছেন?

উত্তর : আমি সুইডেনের নাগরিক সেই দেশের পাসপোর্ট নিয়েই দেশে এসেছি।

প্রশ্ন : কবে এসেছেন দেশে?

উত্তর : সম্ভবত ২৬ জানুয়ারী ২০১২।

প্রশ্ন : পরিবার নিয়েই এসেছেন?

উত্তর : না আমি একাই এসেছি।

প্রশ্ন : দেশে কোথায় উঠেছেন?

উত্তর : রূপনগরে আমার নিজস্ব ফ্ল্যাটে উঠেছি।

প্রশ্ন : আত্মীয়দের সাথে দেখা হয়?

উত্তর : অবশ্যই হযেছে।

প্রশ্ন : ৭১ সালে মিরপুর এলাকায় বিহারী ও বাঙ্গালীদের সংখ্যা কত ছিল?

উত্তর : বিহারী ছিল ৯০ ভাগ আর ১০ ভাগ ছিল বাঙ্গালী।

প্রশ্ন : ৬৯ ও ৭০ সালে দেশে বড় রাজনৈতিক দল ছিল আওয়ামী লীগ ঠিক?

উত্তর : হ্যাঁ। বড় দল ছিল আওয়ামী লীগ।]

প্রশ্ন : আঞ্জুমানে মহাজেরিন দলের জন্ম কত সালে?

উত্তর : জন্ম কত সালে জানি না। এসব দলের আমি তোয়াক্কাই করি না।