|
|
বার কাউন্সিল নির্বাচন
নাজমুল আহসান রাজু : সারা দেশের আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচনকে ঘিরে চলছে জোর প্রচার-প্রচারণা। বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ এবং আওয়ামী লীগ-বাম সমর্থক সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বনিদ্বতা করছে। নির্বাচনের ভোট গ্রহণের বাকি আর সাতদিন, ১৮ জুলাই ভোট গ্রহণ হবে। এবারের নির্বাচনে ভোটারের সংখ্যা ৩৮ হাজার ৯৬০ জন। তিন বছর মেয়াদী নির্বাহী কমিটির মোট সদস্য ১৫ জন। এ্যাটর্নি জেনারেল পদাধিকার বলে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান। সে হিসেবে বার কাউন্সিলের ভোটাররা মূলত ১৪ জনকে নির্বাচিত করেন। দু'টি প্যানেল থেকে নির্বাচনী প্রচারণা চলছে।
আইনজীবী সূত্র জানিয়েছে, প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ প্যানেল। অন্যদিকে তিন দফায় প্যানেল পরিবর্তন ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলে সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ পিছিয়ে রয়েছে। আইনি জটিলতায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে তিনবার নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত হলেও জাতীয়তাবাদী আইনীজীবী ঐক্য পরিষদ প্যানেল শুরু থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। প্যানেলটি প্রার্থী মনোনয়নেও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছে। সুপ্রিমকোর্ট বার এসোসিয়েশনের দু'বারের নির্বাচিত সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন সাধারণ আসনে প্রার্থী হয়ে প্যানেলটিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এর আগেও তিনি একবার বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এদিক থেকে পিছিয়ে আছে সমন্বয় পরিষদ প্যানেল। দফায় দফায় প্রার্থী পরিবর্তন করায় সর্মথকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও হতাশা কাজ করছে। ফলে সমন্বয় পরিষদের ভরাডুবির আশঙ্কা রয়েছে এবার। গত কয়েক বছরের নির্বাচনে সমন্বয় পরিষদ বিপুলভাবে জয়ী হয়ে আসছে। বিশেষ করে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আব্দুল বাসেত মজুমদারকে সমন্বয় পরিষদের পক্ষ থেকে প্রার্থী করা হলেও গত ৭ জুলাই তাকে বাদ দেয়া হয়। সমন্বয় পরিষদের আহবায়ক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম নতুন প্যানেল ঘোষণা করলে তিনি বাদ পড়েন।
অথচ আব্দুল বাসেত মজুমদারের নেতৃত্বে ঘোষিত প্যানেল আইনজীবীদের মধ্যে প্রচারণা ও ভোট চেয়েছেন। এর মধ্যে সমন্বয় পরিষদ সাধারণ আসনে তাকেসহ ৬ জনকে এবং গ্রুপ আসনে ৩ জনকে বাদ দিয়ে নতুন প্যানেল ঘোষণা করে। ফলে নতুন ঘোষিত প্যানেল প্রচারণায় বেশিদিন সময় পায়নি। মাত্র ১০ দিনের প্রচারণায় তারা সকল ভোটারের কাছে যেতে পারবেন কি না এ নিয়ে সংশয় রয়েছে। বাদ পড়ায় আব্দুল বাসেত মজুমদারের সমর্থক আইনজীবীদের মধ্যে বিরাজমান ক্ষোভ এবং নতুন ঘোষিত প্যানেলের প্রার্থীদের ইমেজ সংকট নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদের সাধারণ আসনের প্রার্থী ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছি। সারা দেশে আইনজীবীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে। তারাও নেতৃত্বের পরিবর্তন চান। সারা জীবন আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার জন্য লড়াই করেছি। আইনজীবীদের অধিকার, স্বার্থরক্ষা এবং কল্যাণে কাজ করেছি। আশা করি, আইনজীবীরা অর্থবহ পরিবর্তনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।
এদিকে প্রার্থী বদলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এডভোকেট আব্দুল বাসেত মজুমদার। তিনি বলেন, আলোচনার ভিত্তিতে গত ২৮ মে প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছিল। এ প্যানেল নিয়ে সারা দেশে ঘুরেছি। এখন নতুন করে প্যানেল ঘোষণা করা হলো। এজন্যই আমরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছি। কারো মনগড়া প্রার্থী হতে চাই না। আমাদের ভেতরের একটি মহল এটা চায় না সমন্বয় পরিষদ জয়ী হোক।
এর আগে গত ২৮ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ঘোষিত সমন্বয় পরিষদের প্যানেল থেকে দ্বিতীয় দফায় বাদ পড়ে যান পরিমল চন্দ্র গুহ, শ ম রেজাউল করিম ও এ এম আমীন উদ্দিন। তাদের বাদ দিয়ে সুব্রত চৌধুরী, সাবেক আইনমন্ত্রী এডভোকেট আবদুল মতিন খসরু, আবদুল্লাহ আবু ও ব্যারিস্টার তানিয়া আমীরকে মনোনয়ন দেয়া হয়। এছাড়া দ্বিতীয় দফা প্যানেল ঘোষণা করার খবরে মতবিরোধ দেখা দেয়ায় এডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। তৃতীয় দফায় বাদ পড়েন আব্দুল বাসেত মজুমদারসহ অন্যরা। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ এই প্যানেলের সাধারণ ৭টি সদস্য পদে প্রার্থীরা হলেন-সুপ্রিমকোর্ট বার এসোসিয়েশনের দু'বারের নির্বাচিত সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ, নিতাই রায় চৌধুরী, মো. সানাউল্লাহ মিয়া, এ জে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও শেখ মোহাম্মদ আজাদ। এছাড়া গ্রুপ আসনের প্রার্থীরা হচ্ছেন- গোলাম মোস্তফা খান, মোহাম্মদ আব্দুল বাকী মিয়া, মো. কবির চৌধুরী, মো. কাইমুল হক, আব্দুল মালেক, মো. ইসহাক, এ কে এম হাফিজুর রহমান। সমন্বয় পরিষদ প্যানেলের প্রার্থীরা হলেন- সৈয়দ রেজাউর রহমান, আব্দুল মতিন খসরু, ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর, সুব্রত চৌধুরী, মো. আব্দুল্লাহ আবু, মো. জাহেদুল বারী ও মো. মাহবুব আলী। গ্রুপ আসনের প্রার্থীরা হচ্ছেন- খোন্দকার আব্দুল মান্নান, এইচ আর জাহিদ আনোয়ার, এ এম আনোয়ারুল কবির, শান্তিপদ ঘোষ, এম এম মুজিবুর রহমান, সিরাজ-উল ইসলাম ও মো. আব্দুল গণি।

