|
|
তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার : তৈরি পোশাক শিল্প কারখানা মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং বিটিএমএ-এর নেতৃবৃন্দ বলেছেন, ভারতীয় পোশাক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান লিলিপুট কিড্সওয়্যার লিমিটেড বাংলাদেশের ২২টি পোশাক রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৫০ লাখ ডলার (৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) রফতানি আদেশ দিয়েছিলো। তারা পণ্য গ্রহণ করলেও অর্থ পরিশোধ করছে না। ফলে সংশ্লিষ্ট রফতানিকারকগণ এলসি নিয়মিত করতে সক্ষম হচ্ছেন না। ডেপুটি গবর্নর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সাথে আলোচনা করে ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দেন।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বিজিএমইএ-এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাসির উদ্দীন চৌধুরীর নেতৃত্বে বিকেএমইএ ও বিটিএমএ নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গবর্নর-১ এস কে সুর চৌধুরীর সাথে বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনের সভাকক্ষে সাক্ষাৎকালে এ অভিযোগ করেন। এ সময় তারা তৈরি পোশাক ও বস্ত্রখাতের ব্যাংক সংক্রান্ত সমস্যাবলী নিয়ে ডেপুটি গবর্নরের সাথে আলোচনা করেন। নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ-এর সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান ও ব্যাংক সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান গোলাম সারোয়ার মিলন, বিটিএমএ-এর সাবেক সভাপতি মতিন চৌধুরী, পরিচালক আলি খোকন, মহাসচিব ফিরোজ আহমেদ এবং বিজিএমইএ-এর ব্যাংক বিষয়ক উপদেষ্টা ইউসুফ আলী হাওলাদার। আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ।
সভায় গত ১৪ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং নীতি (বিআরপিডি) বিভাগ থেকে দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারীর ব্যাপারে বলা হয়, প্রজ্ঞাপনের ফলে কারখানাসমূহ মজুরী দেয়াসহ অন্যান্য দৈনন্দিন কর্মকান্ড পরিচালনায় মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। বর্তমান বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও দেশীয় পরিস্থিতি পোশাক শিল্পের অনুকূলে নয়। অনেক সময় পোশাক শিল্পের কাঁচামাল আসতে দেরি হয়। তাছাড়া রফতানি আয় দেশে আসতে স্বাভাবিক অবস্থায় গড়ে প্রায় ১২০ দিন লাগে। এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে উল্লেক্ষিত প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের জন্য তারা বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ জানান।
এ ব্যাপারে ডেপুটি গবর্নর বলেন, প্রজ্ঞাপনে কিছু অস্পষ্টতা আছে। এগুলো স্পষ্ট করে নতুনভাবে প্রজ্ঞাপন দেয়া হবে। তিনি বলেন, ব্যাংকিং কোম্পানি আইন অনুযায়ী ২৭কক (৩), ৫গগ-এর আওতায় ঋণ সাব-স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে শ্রেণী বিন্যাষিত হলে খেলাপী হয় না। সুতরাং ব্যাংক যেনো সাব-স্ট্যান্ডার্ড হলেই খেলাপী চিহ্নিত করে ঋণ দেয়া বন্ধ না করে, সেজন্যে ব্যাংকসমূহকে যথাযথ নির্দেশনা দেয়া হবে। বিজিএমইএসহ সকল ঋণ গ্রহীতা পূর্বের ন্যায় ঋণ মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার ৬ মাসের মধ্যে যথারীতি ঋণ সুবিধা পাবে।

