Quantcast
ঢাকা, শনিবার 14 July 2012, ৩০ আষাঢ় ১৪১৯, ২৩ শাবান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ১৮১ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

বিভিন্ন মন্ত্রণালয় অধিদফতরে টেন্ডার বাণিজ্য-৪

টেন্ডার সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণহীন মন্ত্রীর হুঁশিয়ারিতেও কাজ হয় না

মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামান : সরকারি দলের মন্ত্রীর অভিযোগেও টেন্ডারবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয় না। এ যেন দলীয় নেতাদের অর্থ উপার্জনের মাধ্যম করে দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ ব্যাপারে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করলেও তাদের কথায় ভ্রুক্ষেপ করছেন না নেতারা। টেন্ডার সন্ত্রাস সরকারের নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। গত বছরের নবেম্বরে মোমেনশাহীর আইনশৃক্মখলা কমিটির বিশেষ সভায় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব:) ডা. মজিবুর রহমান ফকির টেন্ডারবাজির অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, গৌরিপুরের কয়েকজন যুবক যারা আমাদেরই দলের তারা আমার কাছে ফোন দিয়ে টেন্ডার সিডিউল কিনতে পারছে না বলে জানান। বিষয়টি দেখার জন্য নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলার পরও কোন কাজ হয়নি। অধিকাংশ মন্ত্রী এমপিরা তাদের ক্যাডার বাহিনী দিয়ে টেন্ডার বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করায় সাধারণ ঠিকাদাররা অসহায় হয়ে পড়েছে। সিটি করপোরেশন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর, এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ অধিদফতর, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদফতর, খাদ্য অধিদফতর, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর, ওয়াসা, ক্রীড়া পরিষদ ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে সরকারি দলের নেতাদের ছত্র-ছায়ায় গড়ে উঠেছে বিশাল টেন্ডার নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী।

মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদফতর : এখানেও সরকারি দলের বাইরে কারো কাজ পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সিন্ডিকেটের বাইরে কেউ এখানে টেন্ডার জমা পর্যন্ত দিতে পারে না। সাড়ে ৩'শ কোটি টাকার টেন্ডারকে কেন্দ্র করে তেজগাঁওয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংলগ্ন সরকারি মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদফতরে (বিজি প্রেস) হামলা এবং কর্মচারীদের মারধরের ঘটনা ঘটেছে। ছাত্র নামধারী ঠিকাদার রফিকুল ইসলাম ও শরফুল ইসলামের নেতৃত্বে যুবলীগ পরিচয় দিয়ে একদল সন্ত্রাসী এ হামলা চালায়। ২০১১ সালের ১৬ জুন সকালে তেজগাঁও মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদফতরের প্রধান কার্যালয়ে রফিকুল ইসলাম ও শরফুল ইসলামের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা এ হামলা চালায়। শরফুল ৩৭ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি বলে জানা যায়। সন্ত্রাসীরা অধিদফতরের কর্মচারী মুহিবুল ওয়াহাব জাফরিকে বেধড়ক মারপিট করে। শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে সহকারী পরিচালক আইয়ুবকে। উভয়কে প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়া হয়। ওইদিনই তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।  এজাহারে বলা হয়েছে, মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদফতর কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি কাগজ ও কম্পিউটার কেনার জন্য ৩৫০ কোটি ১৮ লাখ টাকার টেন্ডার আহবান করে। দরপত্র অনুযায়ী ঠিকাদারদের সিডিউল গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় কর্তৃপক্ষ ১৫ জুন তা বাতিল করে দেয়। দরপত্র বাতিলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই দুই নামধারী ঠিকাদার প্রকাশনা অধিদফতরে হামলা চালায়। রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি ওই এলাকার ঠিকাদারি ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে। পরে ২০ জুন সহকারী পরিচালক আতিকুল ইসলাম বাদি হয়ে এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় এস আই আলমগীর হোসেনকে। প্রকাশনা অধিদফতর কর্তৃপক্ষের অভিযোগ আসামীরা সরকারি দলের ক্যাডার হওয়ায় পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না।  

ডিসিসি : ঢাকা সিটি করপোরেশনে সাড়ে ৮ কোটি টাকার দু'টি ঠিকাদারির কাজ নিয়ে সম্প্রতি তুলকালাম কান্ড ঘটেছে। টেন্ডার সিডিউল জমা দেয়া নিয়ে সরকারদলীয় দুই গ্রুপের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। সংঘর্ষে একজন আহত হন। আহত ফজর আলী শাহবাগ ইউনিট আওয়ামী লীগের সভাপতি। সংঘর্ষের সময় দু'পক্ষই ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু' স্লোগান দিয়ে নগর ভবনের পরিবেশ উত্তপ্ত করে তোলে। এদিকে ৩৯ কোটি ১১ লাখ টাকার একটি গোপন টেন্ডার নিয়েও চরম বিপাকে পড়ে ঢাকা সিটি করপোরেশন। টেন্ডার আহবানে অনিয়ম হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠান দু'টি। টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির তদন্তে অনিয়ম ধরা পড়ায় কর্তৃপক্ষও কাজের অনুমোদন দিতে হিমশিম খায়। কাজটি ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের করার কথা থাকলেও বিশেষ প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেয়ার জন্য নজিরবিহীনভাবে দুই অঞ্চলকে ভাগ করে দেয়া হয়। এতে কাজ শুরুর জটিলতা আরও ঘনীভূত হয়। অন্যদিকে টেন্ডারে অনিয়ম হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে টেন্ডার বাতিলও করতে পারছে না ডিসিসি। এর আগে ঢাকা সিটি করপোরেশনে (ডিসিসি)  ৫ কোটি টাকার টেন্ডার নিয়ে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ ক্যাডারদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। যুবলীগ ক্যাডারদের কারণে সাধারণ ঠিকাদাররা দরপত্র জমা দিতে পারেনি।

গণপূর্ত বিভাগ : গণপূর্ত বিভাগের টেন্ডারবাজিকে কেন্দ্র করে একাধিক গ্রুপ সক্রিয়। এদের মধ্যে বাহাউদ্দিন নাসিম গ্রুপ ও মির্জা আজম গ্রুপ এখানে শক্ত অবস্থানে আছে। ২০১১ সালের ৭ মার্চ ২৩ কোটি টাকার টেন্ডার ভাগাভাগি নিয়ে গণপূর্ত ভবনে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সেগুনবাগিচা গণপূর্ত বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিভিন্ন ভবন নির্মাণ ও সংস্কারে প্রায় ২৩ কোটি টাকার টেন্ডার সিডিউল জমা দেয়ার তারিখ ছিল ওইদিন। এজন্য সকাল ১০টা থেকে সিডিউল জমা দেয়া শুরু হয়। এ সময় সাধারণ ঠিকাদাররা সিডিউল জমা দিতে গেলে সরকারদলীয় একাধিক ক্যাডার তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে গণপূর্ত ভবনের সামনে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কর্মীদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও হাতাহাতি শুরু হয়। এতে গণপূর্ত ভবনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে টেন্ডার সিডিউল জমা দেয়া বন্ধ হয়ে যায়। ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দিনাজপুর গণপূর্ত বিভাগের ১৪ কোটি টাকার টেন্ডার ক্ষমতাসীন দলের কর্মীরা ভাগা-ভাগি করে নেয়। এ ঘটনায় তাদের দু'গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ফিরিয়ে দেয়া হয় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ঠিকাদারদের। মে মাসে খুলনায় গণপূর্ত বিভাগের ৬৭ লাখ টাকার কাজ টেন্ডার ছাড়াই বরাদ্দ দেয়া হয়। এ নিয়ে সাধারণ ঠিকাদাররা বিক্ষোভ করে এবং অফিস ঘেরাও করে।