|
|
পবিত্র মাহে রমযানকে সামনে রেখে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য লাগামহীনভাবে বাড়ছে-সংগ্রাম
স্টাফ রিপোর্টার : নিয়ন্ত্রণহীন ভোজ্য তেলের বাজার। সরকারের কোন ঘোষণায় তেলের বাজার স্থিতিশীল হচ্ছে না। দিন যত যাচ্ছে বাড়ছে তেলের দাম। গত সপ্তাহে কেজিতে দু' টাকা বৃদ্ধির পর এ সপ্তাহেও বাড়ানো হয়েছে দু' টাকা। সরকারী তথ্যে গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে সয়াবিন (খোলা) বাড়ানো হয়েছে প্রতিকেজিতে ২ টাকা। পবিত্র রমযানের আগে এ রকম দাম বৃদ্ধি কাম্য নয় বলে জানান ক্রেতারা। তারা বলেন, তেলের দাম কয়েক দফা বাড়িয়ে এমন পর্যায়ে নেয়া হয়েছে যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য কেনা কষ্টকর। তারপরও দিনের পর দিন বেড়ে যাচ্ছে দাম। তেলের দাম বৃদ্ধির পেছনে সরকারের অপ্রতুল তদারকীকে দায়ি করলেন তারা।
পবিত্র রমযানকে সামনে রেখে ইফতার তৈরীর সামগ্রীর দাম বাড়ছে বেশি। রমযানের ইফতারির আরেক প্রয়োজনীয় পণ্য পিঁয়াজের দাম কয়েক দফা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সপ্তাহে প্রতিকেজি পিঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৮ থেকে ৩০ টাকায়। বর্তমানে তা কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়। আর আমদানী পিঁয়াজ ২ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৪ থেকে ২৫ টাকায়। খুচরা বাজারে তা ২৮ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা যায়। আলুর দাম বেড়েছে কেজিতে ৪ টাকা। গত চার দিন আগের বাড়ানো দাম ছাড়িয়ে ২২ টাকার স্থলে বিক্রি হচ্ছে ২৬ টাকায়। গত শুক্রবার আমদানি রসুন বিক্রি হয়েছিল ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে। গত চার দিনের ব্যবধানে দাম বাড়ার সকল মাত্রা ছাড়িয়ে কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা। বর্তমানে প্রতিকেজি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা। দেশী রসুন বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৫০ থেকে ৬৫ টাকায়। গত রমযানে ছোলার দাম কয়েক দফা বৃদ্ধি করে ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। এ বছর দাম বাড়ানোর সব নিয়ম বদলে গেছে। টিসিবির তথ্যে এখনো ৮০ থেকে ৮৫ টাকা কেজি দেখানো হচ্ছে। কিন্তু বাজারে তার উল্টো চিত্র। খুচরা বাজারে ১০০ টাকা কেজি দরে ছোলা বিক্রি হচ্ছে। নিত্যপণ্যের দাম প্রতিদিন বাড়লেও সরকারের কার্যত কোনো তদারকি নেই। নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে বাজার অভিযান আর ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক এই দুই কৌশলই জানা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের। বাজার তদারকির জন্য ১৪টি টিম করেই মন্ত্রণালয় মনে করছে দাম নিয়ন্ত্রণ হয়ে যাবে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থাই কার্যকর হচ্ছে না। রমযানকে সামনে রেখে ভোজ্য তেলের দাম বাড়বে না সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা বাস্তবে প্রতিফলন ঘটলো না। রমযান না আসতেই দাম বৃদ্ধি ক্রেতাদের অসন্তষ্টি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ক্রেতাদের ভয় রমজানে আরও বাড়ানো হয় কি-না। সয়াবিন (খোলা) তেলের দাম কয়েক দফা বেড়ে বর্তমানে ১২৪ টাকায় ঠেকেছে। এটা সরকারী হিসেব হলেও সরেজমিনে দেখা যায় রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে আরও বেশি দামে বিক্রি হতে। খুচরা বাজারে পামওয়েল সুপার বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি দরে। অথচ টিসিবির তথ্যে পামওয়েল বিক্রির দর দেখানো হচ্ছে ৯৭ থেকে ৯৮ টাকা।
এ ব্যাপারে বাণিজ্যমন্ত্রী জি এম কাদের বলেন, রোযা আসলে চাহিদা বেড়ে যায় এ জন্য পণ্যের দামও কিছুটা বেড়ে যায়। কিন্তু রোযা আসার আগেই কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরি করে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সয়াবিন তেল (খোলা) বিক্রি হচ্ছে ১২৪ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে। ভোজ্য তেলের মধ্যে বোতলজাত প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকায়। প্রতি ৫ লিটার সয়াবিল তেল ৬৭০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। মশুর ডাল (দেশি) প্রতিকেজি ১২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা যায়। ইন্ডিয়ান ডাল ৮০ টাকা। ব্রয়লার মুরগী ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগি ২৮০- ৩২০ টাকা। গরুর মাংশ ২৭০ টাকা, খাশির মাংশ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবজি গত সপ্তাহের তুলনায় কয়েকটির দাম বেড়েছে এবং কয়েকটির দাম কমেছে । শশা ২৫, কাঁচা মরিচ ৮০, বেগুন ৩৫, ঢেরশ ২৫, করলা ৩০, টমেটো ৪০ থেকে ৪৫, কচুর লতি ৩০, চিচিংগা ২৫, ঝিংগা ২৪, পটল ২৬, কাকরোল ৩২, বরবটি ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। মুরগীর ডিম ৩৬ টাকা হালি বিক্রি হচ্ছে। ইলিশ প্রতি কেজি ৮শ থেকে ১০০০ টাকা, তেলাপিয়া ১১০ থেকে ১৫০ টাকা, রুই প্রতি কেজি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, কাতলা ৩৫০ টাকা, পাঙ্গাস ৯০ থেকে ১১০, কারপু ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাল-মিনিকেট ৪০ থেকে ৪৮টাকা, পাড়ি বি আর (২৮) ৪০ থেকে ৪৬ টাকা, নাজির খুচরা ৪২ থেকে ৪৮ টাকা, গুটি স্বর্ণা ২৮ থেকে ৩৭ টাকা, লাল স্বর্ণা ৩৮ টাকা, হাসকি ৩৬ থেকে ৩৭ টাকা, লতা ৩৭ থেকে ৩৮ টাকা, পোলাও চাল ৮০-১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আটা ২৮ থেকে ৩০ টাকা, ময়দা ৩৭ থেকে ৪৬ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। মুগ ডাল ৯০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ ২৮ টাকা, শুকনা মরিচের গুড়া ২৪০, হলুদ ২০০ টাকা, আদা ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

