|
|
সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী
বাসস : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘রূপকল্প ২০২১' বাস্তবায়নে গভীর নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার এবং দায়িত্ব পালনকালে জনগণের প্রতি সহানুভূতিশীল থাকার জন্য প্রশাসনিক ক্যাডারের সদস্যদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ এডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশনের বার্ষিক নৈশভোজে ভাষণদানকালে তিনি বলেন, ‘রূপকল্প ২০২১' সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য পূরণ করতে চাই।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার সকল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে সচেতন রয়েছে এবং এ লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘সকল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে তার সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।'
শেখ হাসিনা দেশের নিজস্ব তহবিলে বহু প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতু নির্মাণে তার দৃঢ় সংকল্পের কথা পুনর্ব্যক্ত করে এ ব্যাপারে সমর্থন দেয়ার জন্য বাংলাদেশ এডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশনসহ সর্বস্তরের জনগণকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, যে জাতি যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হয়েছে তারা পদ্মা সেতুর মতো একটি সেতু নির্মাণ করতে পারবে না এটা হতে পারে না।
এসোসিয়েশনের সভাপতি আবু আলম মো. শহীদ খানের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এবং এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মইনুদ্দিন আবদুল্লাহও বক্তৃতা করেন।
শেখ হাসিনা বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠিত জেলা ই-সেব কেন্দ্র ও ইউনিয়ন তথ্য সেবাকেন্দ্র থেকে সেবা গ্রহণে জনগণকে আগ্রহী করে তোলার জন্য এডমিনিস্ট্রেটিভ ক্যাডার সদস্যদের প্রতি আহবান জানান।
তিনি বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইসিটি এবং সামাজিক উন্নয়ন খাতসহ বিভিন্ন খাতে তার সরকারের সাফল্যের বিবরণও তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের এই ধারা যদি আমরা বজায় রাখতে পারি তাহলে ২০২১ সালের আগেই দেশের প্রতিটি মানুষকে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও নিরক্ষরতা থেকে মুক্ত করতে পারবো।
শেখ হাসিনা বলেন, প্রশাসনসহ সর্বক্ষেত্রে যাতে কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকে সে ব্যাপারে সরকার খুবই সচেষ্ট রয়েছে। তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতকরণে প্রশাসনকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী ভূমি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান এবং জনগণের হয়রানি দূর করার জন্যও প্রশাসনিক সার্ভিস কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন এবং ভূমি রেকর্ড ব্যবস্থাপনা দ্রুত ডিজিটালাইজড করে আরও সুসংহত করার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।
যুগোপযোগী ও কার্যকর প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে সিভিল সার্ভিস এ্যাক্ট প্রণয়নসহ তার সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের প্রশাসন গড়ে তুলতে তার সরকার সকল প্রকার উদ্যোগকে সমর্থন করবে।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘জনগণের সেবক হওয়ার যে প্রতিজ্ঞা নিয়ে আপনারা চাকরিতে প্রবেশ করেছেন তার যথাযথ বাস্তবায়নে সচেষ্ট হবেন।'
প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে একটি সুখী, সমৃদ্ধশালী, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে বসবাস করতে পারে সে লক্ষে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে নিজেদের আত্মনিয়োগ করার জন্য তাদের প্রতি আহবান জানান।

