Quantcast
ঢাকা, রোববার 15 July 2012, ৩১ আষাঢ় ১৪১৯, ২৪ শাবান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ২৪৪ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

আন্দোলনকারীদের অংশগ্রহণে সমাবেশ

ভিসি অপসারণের দাবিতে শহীদ মিনারে ঐক্যবদ্ধ শপথ

গতকাল শনিবার বুয়েট ক্যাম্পাসে বুয়েট সকল শিক্ষার্থী-শিক্ষক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপাচার্য ও উপ-উপচার্যের অপসারণের দাবিতে মৌন মিছিল বের করে -সংগ্রাম

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ভিসি অধ্যাপক ড. এসএম নজরুল ইসলামের অপসারণের দাবিতে শপথ নিয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষক 'শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। গতকাল শনিবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তারা ভিসি ও প্রো-ভিসির পতনের শপথ পাঠ করেন। এ সময় আন্দোলনকারীরা মুস্টিময় হাত ওপরে উঠিয়ে বুয়েটের সম্মান রক্ষায় আন্দোলন অব্যাহত এবং বুয়েট ভিসির পতন পর্যন্ত ঘরে ফিরে না যাওয়ায় প্রতিজ্ঞা করেন। গতকাল শনিবার বেলা ১১ টায় মৌন মিছিল বের করা হয়। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা এ কর্মসূচী পালন করে। মিছিলটি রেজিস্ট্রার ভবন থেকে শুরু হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় কয়েক হাজার শিক্ষক শিক্ষার্থী কর্মকর্তা ও কর্মচারী এতে অংশগ্রহণ করেন। আন্দোলনকারীদের উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠে। এ সময় ভিসি বিরোধী স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।

মৌন মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মজিবুর রহমান বলেন, কোনো অবস্থাতেই বুয়েটের সুনাম ঐতিহ্য নষ্ট হতে দেয়া হবে না। তিনি বলেন, আমাদের এ আন্দোলন অনিয়ম, বিশৃক্মখলা-স্বেচ্ছাচারিতা বিরোধী আন্দোলন। তিনি অবিলম্বে ভিসি ও প্রো-ভিসিকে অপসারণ করে বুয়েটে শিক্ষার কার্যক্রম চালু করতে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কাছে আহবান জানান।

এ সময় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদিন বলেন, আন্দোলনকে দমাতে বর্ষাকালে দেয়া হয়েছে গ্রীষ্মকালীন ছুটি। তিনি বলেন, দুধের মধ্যে এক ফোটা চুনা পড়লে সে দুধ আর খাওয়া যায় না। তবে আমাদের বুয়েটে দুই ফোটা চুনা পড়েছে। তাই এভাবে আর বিশ্ববিদ্যালয় চলতে পারে না। তিনি আরো বলেন, বর্তমান ভিসি স্বৈরাচারী আচরণ  করে ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানটির সুনাম নষ্ট করছে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী সবসময় এ প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করে থাকেন। তিনি তাদের এ আন্দোলনকে বুয়েটের ইতিহাসে বৃহত্তর আন্দোলন বলে মন্তব্য করেন।

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আশরাফুল ইসলাম বলেন, দেশের সেরা এ প্রতিষ্ঠানটির সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক হবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা। তিনি দাবি আদায়ে আরো কঠোর আন্দোলনের দিকে  ঠেলে না দেয়ারও আহবান জানান।

সমাবেশ শেষে আন্দোলনকারী ঐক্যবদ্ধ হয়ে শপথ পাঠ করান শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আশরাফুল ইসলাম। শপথে তিনি বলেন আমরা শপথ করিতেছি যে, ভিসি ও প্রো-ভিসির পদত্যাগের আন্দোলনে আমরা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। বুয়েটকে রক্ষার দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী তথা বুয়েট পরিবারের যে ইস্পাত দৃড় ঐক্য গড়ে উঠেছে, তা যে কোন মূল্যে আমরা রক্ষা করবো। আমরা বুয়েটকে মেধা, যোগ্যতা ও ন্যায়ভিত্তিক জ্ঞান চর্চা ও প্রকৌশল শিক্ষার একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান হিসেবে সমুন্নত রাখবো।

সমাবেশে বহিরাগতরা এ আন্দোলনে অংশ নিচ্ছে ভিসির এসব কথার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। সমাবেশে এক শিক্ষক বলেন, আন্দোলনকে দমানোর জন্য অনেকেই বুয়েটের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে হিজবুত তাহরীর বা জামায়াত-শিবিরের অপবাদ দিচ্ছে। এ সকল অপবাদ দিয়ে কোনো লাভ হবে না। স্বৈরাচারী ভিসি এবং অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া প্রো-ভিসিকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে। সমাবেশে বুয়েটের সকল শিক্ষার্থীরা তাদের আইডি কার্ড প্রদর্শন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধ ছাত্ররাই এ আন্দোলনে জড়িত তা উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রদর্শন করে। দুপুর ১২ টায় তারা পুনরায় অবস্থান ধর্মঘটস্থলে ফিরে যায়।

বৃষ্টি বা প্রখর রৌদ্র কোনো বাঁধাই মানছে না আন্দোলনকারীরা। গত বুধবার রাত থেকে শুরু করে এখনো হাজার হাজার শিক্ষক শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা স্বতস্ফূর্তভাবে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করছে। তবে আন্দোলনকে চাঙ্গা রাখতে মাঝে মাঝে কর্মসূচির পরিবর্তন হতে পারে বলে জানা গেছে। সে হিসেবেই তারা গতকাল ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে শহীদ মিনারে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। এর আগে শুক্রবার রাতে শিক্ষক সমিতির এক বৈঠকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে জামায়াত-শিবির ও হিযবুত তাহরীর অভিযোগ করায় তীব্র নিন্দা জানানো হয়। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদেরকে শিক্ষকদের টাকা দিয়ে বিভিন্ন জিনিস খাওয়ানো হচ্ছে এরূপ মন্তব্যেরও তীব্র সমালোচনা করা হয়।

এদিকে দাবির স্বপক্ষে গণস্বাক্ষরতা অভিযান শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা। সংগৃহীত স্বাক্ষরসহ দাবি রোববার চ্যান্সেলর রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন। ভিসি অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম ও প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমানের পদত্যাগ দাবিতে বুধবার থেকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থা নিয়ে আছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

ফলে দেশে প্রকৌশল শিক্ষার সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম অচল হয়ে পড়েছে। আন্দোলনের মুখে অবশ্য ঈদ ও  রোজার ছুটি এক মাস এগিয়ে এনেছে কর্তৃপক্ষ। তবে সেই ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে ক্যাম্পাসেই অবস্থান নিয়ে আছে শিক্ষার্থীরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুয়েট উপাচার্যকে আন্দোলনরত শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলেও দাবি থেকে সরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন শিক্ষক সমিতির নেতারা।

এ ব্যাপারে সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমরা তো দুই বছর ধরে তার সঙ্গে আলোচনা করে আসছি। তাতে কাজ হয়নি। এখন আর তার সঙ্গে আলোচনার সুযোগ নেই।’’ তবে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে কেউ আলোচনা করতে চাইলে তারা রাজি আছেন বলে এই শিক্ষক নেতা জানান। টানা অসন্তোষের মধ্যে বুয়েটে শিক্ষকদের গণপদত্যাগের পরদিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে  বৈঠক করে বুয়েট সিন্ডিকেটের একটি প্রতিনিধি দল। এতে ভিসি ও প্রো-ভিসিসহ ৬ জন সিন্ডিকেট সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

এখন পর্যন্ত পদত্যাগের আহবান প্রত্যাখ্যান করে আসছেন ভিসি। তিনি বলে আসছেন, ‘অনৈতিক' কোনো দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি পদত্যাগ করবেন না। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলনের মুখে কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার হঠাৎ করে রোজা ও ঈদের ছুটি এগিয়ে আনলে বুধবার থেকে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে বুয়েট ক্যাম্পাস। ওইদিন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এক প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে লাগাতার অবস্থান ধর্মঘট শুরুর ঘোষণা দেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। এ দাবিতে একযোগে পদত্যাগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পদে থাকা ২৫ জন শিক্ষক।

বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থার মধ্যে বুয়েট সিন্ডিকেট উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্তের সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নিলেও আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

উল্লেখ্য, ভিসি ও প্রো-ভিসির বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে বুয়েটের শিক্ষক সমিতি গত ৭ এপ্রিল  থেকে ৫ মে পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের দাবি বিবেচনার আশ্বাস দিলে সমিতি আন্দোলন এক মাসের জন্য স্থগিত করে। তবে দাবি পূরণ না হওয়ায় গত ৭ জুলাই  থেকে প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করছিলেন শিক্ষকরা। এরপর তারা ১৪ জুলাই থেকে পূর্ণ কর্মবিরতির কর্মসূচির হুমকি দিলে ১১ জুলাই থেকে ছুটি ঘোষণা করেন ভিসি।