|
|
ইবিতে ছাত্রলীগের হামলায় সাংবাদিক গুরুতর আহত
সংগ্রাম ডেস্ক : ছাত্রলীগের দু'টি গ্রুপের দ্বনেদ্বর কারণে নিরাপত্তাহীনতার অজুহাতে পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ ছাত্র সংসদের নির্বাচন বন্ধ করে দিয়েছেন। অপরদিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ এক সাংবাদিকের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করেছে।
আমাদের পিরোজপুর সংবাদদাতা জানান, নিরাপত্তাহীনতার অজুহাতে পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ করে দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। আজ রোববার নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও গতকাল শনিবার দুপুর ১২ টায় কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক গনেশ চন্দ্র অধিকারী এক লিখিত আদেশে নির্বাচন বন্ধের ঘোষণা দেন। এ নির্বাচনে ছাত্রলীগের বিবদমান দু'টি গ্রুপ পৃথক দু'টি প্যানেল দিয়েছিলো। এর একটি সরকার দলীয় এমপি একেএমএ আউয়াল সমর্থিত প্যানেল নির্বাচনে জয়ী হতে পারবে না সে কারণে পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে ছাত্রলীগের প্রতিদ্বনদ্বী অপর গ্রুপের প্যানেল অভিযোগ করেছে।
শুক্রবার মধ্য রাতে অধ্যক্ষ ও রিটার্নিং অফিসার সহযোগী অধ্যাপক সদানন্দ গাঈনের বাসার প্রাঙ্গণসহ জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে বোমা বিস্ফোরিত হয়েছে। এ ঘটনায় নিজ ও পরিবারের নিরাপত্তাহীনতা বোধ করে রিটার্নিং অফিসারসহ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ৫ সদস্য গতকাল কলেজ অধ্যক্ষের কাছে পদত্যাগপত্র দিলে টিচার্স কাউন্সিলের জরুরী সভা ডেকে আপাতত নির্বাচন বন্ধের সিন্ধান্ত নেয়া হয় বলে অধ্যক্ষ জানিয়েছেন। এদিকে গতকাল সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ কর্মীদের হামলায় ছাত্রদলের এক গ্রুপের ভিপি প্রার্থী নাইমুজ্জামান শেখ মিরন মারাত্মকভাবে আহত হয়। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ হামলার ঘটনায় ছাত্র দলের অপর দু'কর্মী রাহাত ও সাকিল এবং আল-আমিন নামে এক পুলিশ কনস্টেবলও আহত হয়। এ হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে পিরোজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি গাজী নুরুজ্জামান বাবুল ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আলমগীর হোসেন বিবৃতি দিয়েছেন। তারা তাদের বিবৃতিতে ছাত্রদল নেতার উপর যারা হামলা করেছে তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। তারা বলেন আওয়ামী লীগ একটি ফ্যাসিস্ট দল। তারা চায় না গণতান্ত্রিক পন্থায় কিছু হোক। কলেজ সংসদ নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি হবে বুঝতে পেরে নিজেরা সন্ত্রাস সৃষ্টি করে নির্বাচন বন্ধ করিয়েছে। এ ছাড়া দুপুর ২ টার দিকে এমপি সমর্থিত ছাত্রলীগের রানা গ্রুপ মিছিল করে তাদের প্রতিদ্বনদ্বী গ্রুপের ভিপি প্রার্থী ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও কলেজের সাবেক ভিপি ফয়সাল মাহাবুব শুভ'র বাসায় হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করা হয়েছে বলে শুভ অভিযোগ করেছে। এ ব্যাপারে তিনি তার বাসায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে ওই হামলাকারীদের বিচার দাবি করেছেন। শুভ জানিয়েছে এমপি সমর্থিত প্যানেলের নিশ্চিত পরাজয় অাঁচ করতে পেরে কলেজ কর্তৃপক্ষ যে কারো চাপের মুখে নির্বাচন বন্ধ করে দিয়েছে। ছাত্রলীগের রানা গ্রুপ শুভ'র বাসায় ওই হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে তারা কলেজে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন চায়।
কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কায় সাধারণ ছাত্রছাত্রী ও শহরের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠন আলাদা দু'টি প্যানেল দেয়ায় এ আশঙ্কার মাত্রা আরো বেড়ে গেছে। ইতোমধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বনেদ্বর ফলে একাধিক সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে ব্যবহারের জন্য কলেজ ছাত্রাবাসে মজুদ করা হচ্ছে দেশীয় অস্ত্র। পুলিশ বুধবার রাতে কলেজের শহীদ ওমর ফারুক ছাত্রাবাসে অভিযান চালিয়ে ছাত্রাবাসের একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে ২টি দা, ৪টি ছোঁরা, ৪টি হকস্টিক ও ১ বান্ডিল জিআই পাইপ উদ্ধার করে ।
উল্লেখ্য নির্বাচনে ছাত্রদল ও ছাত্রলীগ আলাদাভাবে ১৯টি পদে ৪টি প্যানেলে অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্রলীগের শুভ-বাবুন্তু ও মিঠু-বায়জিদ এবং ছাত্র দলের মিরন-সোহেল ও বাপ্পী-ইমরান প্যানেল এ ছাড়াও একজন ভিপি, একজন জিএস ও একজন সমাজকল্যাণ সম্পাদক স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ১৯টি পদ নির্বাচিত করতে কলেজের ৭ হাজার ৪৮৪ জন ছাত্রছাত্রী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার কথা ছিলো।
ইবিতে সাংবাদিকের ওপর ছাত্রলীগের
সন্ত্রাসী হামলা \ বহিষ্কারের
দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকের ওপর ছাত্রলীগের ক্যাডাররা সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে । এ হামলায় দৈনিক যায়যায়দিনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আয়াজ আজাদ গুরুতর আহত হয়। আহত আয়াজ আজাদকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয় । পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। এদিকে হামলার প্রতিবাদে ইমলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা তাৎক্ষণিকভাবে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে। জরুরি ভিত্তিতে ভিসির সাথে সাক্ষাৎ করে এবং ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীদের কঠোর শাস্তি ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে ভিসি বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে তারা। এ সময় ভিসি প্রফেসর ড. এম আলাউদ্দিন দোষীদের শাস্তি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
জানা যায়, গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় আইন ও মুসলিম বিধান বিভাগে এ হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দৈনিক যায়যায়দিনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ও আইন ও মুসলিম বিধান বিভাগের ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র (দ্বিতীয় বর্ষে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম) আয়াজ আজাদ ক্লাস শেষে রুম থেকে বের হলেই একই বিভাগের ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ও ছাত্রলীগ ইবি শাখার ক্রীড়া সম্পাদক মেহেদী হাসান ও ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষের তরিকুল ইসলামসহ কয়েকজন বহিরাগত ছাত্রলীগ ক্যাডার ও সন্ত্রাসী তার ওপর লোহার রড, হাতুড়ী , রামদা, চাপাতি দিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এ হামলায় আজাদ গুরুতর আহত হয়। আহত আজাদকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে হামলার প্রতিবাদে ইমলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা তাৎক্ষণিকভাবে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে। জরুরি ভিত্তিতে ভিসির সাথে সাক্ষাৎ করে এবং ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কারসহ ৩ দফা দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে । স্মারকলিপিতে হামলাকারী সন্ত্রাসীদেরকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা, সাংবাদিকরা যাতে একাডেমিক প্রতিহিংসার শিকার না হয় তার নিশ্চয়তা বিধান করা, বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের যথাযথ নিরাপত্তা প্রদানের ব্যবস্থা করার দাবি জানায় সাংবাদিকরা।
উল্লেখ্য, এর আগে গত বৃহস্পতিবার ক্লাস করা নিয়ে আয়াজ আজাদ ও তরিকুল ইসলামের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তরিকুল ইসলাম আজাদের মুখে ঘুষি মেরে আজাদকে আহত করে। বিষয়টি সমাধান করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরা তরিকুলের সাথে কথা বলতে গেলে ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক মেহেদী হাসান তাদের সাথে বাক বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে এবং সামান্য হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি ইবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সামসুজ্জামান তুহিন সাংবাদিকদের সাথে কথা বলে বিষয়টি সমাধান করে দেন। সেসময় তুহিন বলে বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে আর কোন সমস্যা নেই। কিন্তু তরিকুল ও মেহেদী হাসান, তুহিনের সিদ্ধান্ত অমান্য করে গতকাল সকাল ১০টায় কয়েকজন বহিরাগত ক্যাডারকে সাথে নিয়ে তার ওপর লোহার রড, হাতুড়ী, রামদা, চাপাতি দিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে।
এ ব্যাপারে ভিসি প্রফেসর ড. এম আলাউদ্দিন বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা দুঃখজনক। এটি একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা। আমি দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শাস্তি প্রদান করবো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মেহের আলী বলেন, অপরাধীরা যত শক্তিশালী হোক না কেন তাদের আমরা অবশ্যই শাস্তি প্রদান করবো।
এ ব্যাপারে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সামসুজ্জামান তুহিন দুঃখ প্রকাশ করে বলেন , সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও সংগঠনের শৃংখলা ভঙ্গের কারণে মেহেদী হাসানকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ইবি শাখার ক্রীড়া সম্পাদক থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এদিকে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, শিক্ষকদের সংগঠন গ্রীন ফোরাম, জিয়া পরিষদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, শাপলা ফোরাম, কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিষদ, ছাত্রশিবির, ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, ছাত্রলীগ জাসদ, ছাত্রমৈত্রী, ছাত্র ইউনিয়ন, কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাব, ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাব, ঢাবি প্রেস ক্লাব, রাবি প্রেস ক্লাব ও সাংবাদিক সমিতি, জাবি প্রেস ক্লাব, শাবি প্রেস ক্লাব, জবি প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

