|
|
পানিতে ভেসে গেছে কোটি টাকার মাছ, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে মিরসরাইয়ের লক্ষাধিক মানুষ। ছবিটি উপজেলার ফেনাপুনি গ্রাম থেকে তোলা হয়েছে -সংগ্রাম
ছায়েফ উল্লাহ, মিরসরাই (চট্টগ্রাম) : গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা দেখা দিয়েছে। পানিবন্দি হয়ে আছে উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। সেই সাথে পানিতে ভেসে গেছে উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত মৎস্য প্রকল্পের প্রায় কোটি টাকার মাছ। এছাড়া ফসলের ক্ষেত ও শাকসবজির ক্ষেত, আউশ ধানের বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া কাঁচা, পাকা, আধাপাকারাস্তাসহ গ্রামীণ সড়কগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ায় যানবাহনও জনচলাচলে দারুণ অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছে। কোন কোন অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলের কারণে মুহুরী নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় নদীভাঙনের আশংকায় দিন কাটাচ্ছে নদী তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলো।
জানা যায়, ভারি বর্ষণে পানি বৃদ্ধির ফলে মিরসরাইয়ের ওসমানপুর, ইছাখালী, কাটাছড়া, সাহেরখালী, ধুূম, মিঠানালা, মঘাদিয়া, ওয়াহেদপুর নিম্নাঞ্চল ও নদীতীরবর্তী এলাকা হওয়ায় এসব ইউনিয়নের অনেক কাঁচা বাড়ী ও সড়ক ধসে জনজীবনে ভোগান্তির অন্ত নেই। এসব ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম নদীতীরবর্তী হওয়ায় নদীভাঙনের আশংকায় রয়েছেন কয়েকশ পরিবার। খৈয়াছড়া ইউনিয়নের ফেনাপুনী গ্রামে পানিবন্দি হয়ে জীবন যাপন করছে শতাধিক পরিবারের লোকজন।
অপরদিকে, ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে পাহাড় ধসের আশংকায় দিন কাটাচ্ছে করেরহাট, খৈয়াছড়া, ওয়াহেদপুর, জোরারগঞ্জ, মিরসরাই সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন পাহাড়ে বসবাসকারী পাহাড়ী-বাঙালীসহ প্রায় ৩০ হাজার মানুষের পরিবার।
উপজেলার ৫ নম্বর ওছমানপুর ইউনিয়নের মুহুরী প্রকল্প এলাকার মৎস্যচাষী মোস্তফা চৌধুরী জানান, ‘টানা বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে ওই এলাকার বিভিন্ন মৎস্য খামার থেকে প্রায় কোটি টাকার মাছ পানিতে ভেসে গেছে। এতে করে মৎস্যচাষীদের চরম ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।'
পাহাড়ী ঢলে ডুবে গেছে প্রায় অর্ধশত গ্রামীণ সড়ক। সরেজমিনে উপজেলার ১৫ নম্বর ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের হাবীব উল্লাহ ভূঁইয়া সড়কে গিয়ে দেখা যায় পাহাড়ী ঢলের কারণে ওই সড়কের কোন চিহ্ন নেই। মানুষ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে পারছে না। রোববার স্কুলে যেতে পারেনি ওই এলাকার প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী। একই অবস্থা ওই ইউনিয়নের নিজামপুর রেল স্টেশন সড়ক ও গোবিন্দ মহাজন সড়কেরও।
উপজেলার ১২ নম্বর খৈয়াছড়া ইউনিয়নের ফেনাপুনি গ্রামে গিয়ে দেখা যায় ওই এলাকার প্রায় সবকটি ঘরের মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে। সবাই ব্যস্ত পানি নিষ্কাশনের কাজে। প্রবাসী বাবুল মিয়ার স্ত্রী জোবেদা বেগম বলেন, রান্না ঘরে পানি উঠার কারণে গত দুইদিন ধরে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। এভাবে আর কতদিন থাকতে হবে বুঝতে পারছি না।
এদিকে পাহাড়ী ঢলের কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলায় সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত শাকসবজি বরবটি, ঢেঁড়শ, পুঁইশাক, কাঁকরোল, চিচিঙ্গা, ঝিঙ্গাসহ বিভিন্ন ধরনের শাকসবজির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার ১৫ নম্বর ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের বাওয়াছড়া প্রকল্পের স্লুইচ গেইটের উপর দিয়ে অতিরিক্ত পানি প্রবাহিত হওয়ার কারণে কয়েকটি গ্রামীণ রাস্তা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এতে করে মানুষের চলাচলের বিঘ্ন ঘটছে বলে এলাকাবাসী জানান।
উপজেলার ১৫ নম্বর ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন সেলিম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে খালগুলো সংস্কার না করায় বর্ষা মওসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে। আমি সরকারের কাছে দাবি জানাই খালগুলো সংস্কারের জন্য। তাহলে পানি নিষ্কাশন হলে আরা জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আইয়ুব আলী জানান, উপজেলার আবাদকৃত প্রায় ৮ হাজার হেক্টর আউশের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে শীঘ্রই পানি সরে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমতে পারে।

