Quantcast
ঢাকা, সোমবার 16 July 2012, ১ শ্রাবণ ১৪১৯, ২৫ শাবান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৮৩৫ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

প্রথম সাক্ষীর জেরা আজও চলবে

কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে সাক্ষী দিলেন দু'বার জেল পলাতক আসামী হামিদুল

শাহেদ মতিউর রহমান : জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রথম দিনে সাক্ষী দিলেন দু'বারের জেল পলাতক আসামী হামিদুল হক। গতকাল রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ তিনি প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন। দিনের প্রথমার্ধে তিনি তার জবানবন্দী দেন। আর দ্বিতীয়ার্ধে তাকে জেরা করেন ডিফেন্স পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট কফিল উদ্দিন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান এ টি এম ফজলে কবির এবং অপর দুই সদস্য ওবাইদুল হাসান ও শাহিনুর ইসলাম সাক্ষীর জবানবন্দী ও জেরা গ্রহণ করেন। জেরাতে সাক্ষী স্বীকার করেন, তিনি দুই বার জেল থেকে পালিয়েছেন। তিনি এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষাতেই তৃতীয় বিভাগের গন্ডি পার হয়ে ওপরে উঠতে  পারেননি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও জেলে চলে যাওয়ায় তিনি  কোন পরীক্ষাও দিতে পারেননি।  

গতকাল জেরাতে তিনি বলেন, কামারুজ্জামান শুধু দেশেই নয়, যুদ্ধের সময়ে কামারুজ্জামান পাকিস্তানেও সফর করেছেন। তবে ঠিক কবে বা কখন কামারুজ্জামান পাকিস্তানে গিয়েছিলেন তার কোন সঠিক জবাব তিনি জেরাতে দিতে পারেননি। আজ সোমবার আবার তাকে জেরা করা হবে।

সাক্ষীর জবানবন্দী

আমার নাম মোহাম্মদ হামিদুল হক। আমি ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজে এবং পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। '৭১ সালে আমার বয়স ছিল ২২-২৩ বছর। ঐ সময়ে আমি আনন্দ মোহন কলেজের ছাত্র সংসদের নির্বাচিত ভিপি ছিলাম। ১৯৬৬ সালে আমি আনন্দমোহন কলেজে ভর্তি হই। সেখান থেকেই উচ্চ মাধ্যমিক পাস করি এবং ঐ কলেজেই আমি অনার্সে ভর্তি হই। ১৯৭১ সালে আমি অনার্সের ছাত্র ছিলাম। ১৯৬৬ সালে আমি সক্রিয়ভাবে ছাত্র রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হই। ঐ সময়ই ৬ দফা ঘোষিত হয়। আমি ৬৬ সালে আনন্দমোহন কলেজে ছাত্রলীগের সেক্রেটারি হই। এরপর আমি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার জেলা ছাত্রলীগের এ্যাসিটেন্ট সেক্রেটারি ও পরে ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করি। তখন থেকেই আমি পাকিস্তানিদের নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই। '৬৯ সালে আইয়ুব বিরোধী গণঅভ্যুত্থান থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিষয়টি সামনে চলে আসে। '৭০ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করি। আমাদের বিপক্ষে তখন পাকিস্তান মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলামী, পিডিপি, এসব দল নির্বাচন করেছিল। তখন জামায়াতের নেতা ছিলেন গোলাম আযম, মুসলিম লীগের নেতা ছিলেন হাসিমউদ্দিন, ফজলুল কাদের চৌধুরী, পূর্ব পাকিস্তানের তদানিন্তন গবর্নর ছিলেন মুনায়েম খান। তখন কামারুজ্জামান ইসলামী ছাত্রসংঘের ময়মনসিংহ জেলা পর্যায়ের অন্যতম নেতা ছিলেন। '৭১ সালের মধ্য জুলাই অথবা আগস্ট মাসের প্রথম দিকে কামারুজ্জামান এর সাথে ময়মনসিংহ জেলা সদরদফতর ডাকবাংলোতে সর্বশেষ দেখা হয়েছিল এবং আজ ৪০ বছর পর আবার (ডকে) দেখলাম।

১৯৭১ সালে দুটি পক্ষ ছিল। একটি ছিল স্বাধীন করার পক্ষ্যে আরেকটি পক্ষ ছিল মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে মানবতার বিরুদ্ধে দখলদার পাকিস্তান বাহিনীর পক্ষে। পাকিস্তানের পক্ষে দুটি পক্ষ ছিল। একটি ছিল পাকিস্তান অখন্ডতার পক্ষে অপর গ্রুপটি ছিল দখলদার বাহিনীর পক্ষে গণহত্যা পরিচালনা ও পরিকল্পনাকারী। তারা গণহত্যায় অংশগ্রহণ করেছে। তারা জনগণের সম্পত্তি লুটতরাজ করেছে। ময়মনসিংহে ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতৃত্বে আলবদর বাহিনী গঠিত হয়। পাকবাহিনী তাদেরকে আশ্রয় দেয়।

কামারুজ্জামান, কামরান, আশরাফ, দিদার শেলী তারা আলবদর বাহিনীর একটিভ সদস্য ছিলেন। এছাড়া মুসলিম লীগের হান্নান সাহেব, শামসুদ্দিন ওরফে সুরুজ মিয়া বড় মসজিদের ইমাম মাওলানা ফয়জুর রহমান তারা পাক আর্মীদের সার্বক্ষণিক সহযোগী ছিলেন। ১৯৭১ সালের জানুয়ারি মাস থেকেই আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধ সংগঠিত করতে শুরু করি। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত আমরা স্বাধীনতার পক্ষে প্রচার, জনসভা, মিছিল করতে থাকি। ১ মার্চ সংসদ অধিবেশন ইয়াহিয়া খান কর্তৃক স্থগিত করার পর ময়মনসিংহে সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থান ঘটে। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের পর প্রকৃতপক্ষে ময়মনসিংহ শহর স্বাধীনতার চেতনায় মুক্ত ছিল। ৭ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকে। ২৫ মার্চ ঢাকা ক্র্যাকডাউনের পর ঢাকা পাক সেনাদের দখলে চলে গেলেও তখনো প্রায় ময়মনসিংহ ১ মাস মুক্ত ছিল। পরে ময়মনসিংহ থেকে হাজার হাজার বাঙালি ও ইপিআর আমাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে। আমি নিজে মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম। মধুপুরে গিয়ে আমরা একটি ব্যারিকেট দিলাম যাতে পাক সেনারা ময়মনসিংহে প্রবেশ করতে না পারে। পাক সেনারা পরে ময়মনসিংহে প্রবেশ করার পর আমরা গ্রামে চলে যাই। তখন স্বাধীনতা বিরোধীরা মুসলিম লীগ জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রসংঘ, নেজামী ইসলামী, পাক সেনাদের সহযোগিতা করে। আমরা গ্রাম থেকে শুনতে পাই ছাত্রসংঘের নেতা কামারুজ্জামান, শেলী, দিদার, ইউসুফ এদের সাথে পাক বাহিনীর খুব দহরম-মহরম সম্পর্ক ছিল। আমরা হালুয়াঘাটের ঢালু, বারাঙ্গাপাড়া, শিববাড়ি এলাকায় এফ এফ ক্যাম্প গড়ে তুলি। এরপর আমি প্রয়াত আবদুর রাজ্জাক, সৈয়দ আহমেদের নেতৃত্বে মুক্তি বাহিনীতে যোগদান করি। আমরা মুজিব বাহিনীর ক্যাম্প গড়ে তুলি। আমরা যখন বিএনএফ এবং এফ এফ-এর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করি তখন পাকিস্তান আর্মি গ্রামে-গঞ্জে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ধ্বংস করার জন্য সচেষ্ট হয়। পাক বাহিনীর সহযোগী হিসেবে একাধিক বাহিনী গঠিত হয়। এগুলোর মধ্যে ছিল রাজাকার, আল-বদর, আল-শাম্স। পরবর্তীতে আমি মুজিব বাহিনীর একটি দল নিয়ে জুলাই মাসের প্রথম দিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করি। ময়মনসিংহের চর অঞ্চলে পাক আর্মির সাথে যুদ্ধ হয়। পরে আমি ও প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা ওহিত রাতের বেলা শহররটাকে রেকি করার জন্য ময়মনসিংহ শহরে প্রবেশ করি। আমরা প্রয়াত মোশারফ হোসেন আকন্দ-এর জামাতা প্রকৌশলী রফিক হাসনাতের বাসায় আশ্রয় গ্রহণ করি। ঐ এলাকার আল-বদর নেতা তারেক, মোহন এবং সারোয়ার আমাদের অবস্থান জেনে যায়। আল-বদর ও পাক আর্মিরা ঐ বাড়ি ঘেরাও করে আমাদের মধ্যে আমাকে ও তাহের নামের এক মুক্তিযোদ্ধাকে চোখ বেঁধে নিয়ে যায়। ২৪ ঘণ্টা পরে আমরা জানতে পারলাম আমরা ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ ডাক বাংলায় অবস্থিত আল-বদর বাহিনীর ক্যাম্পে আটক আছি। চোক বাঁধা অবস্থায় আমাদের নির্যাতন করা হয় এবং বলা হয় দোয়া দরূদ পড়তে বলা হয়। ঐ সময়ে ক্যাম্প পরিদর্শনে আসেন পাক সেনা অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার কাদির খান। আমাকে আবু তাহের ও দবির খাঁনকে কাদির খাঁনের সামনে হাজির করা হলে কাদির খাঁন আমার পরিচয় পেয়ে বললেন, ডোন্ট কিল হিম। হামিদ একজন খ্যাতনামা ছাত্রনেতা। সে পাকিস্তানের পক্ষে জনমত সৃষ্টি করেছে। তখন আমাকে হত্যা না করে আল-বদর ক্যাম্পে নজরবন্দী করে রাখে। ঐ ক্যাম্পে আমার পূর্ব পরিচিত কামারুজ্জামান আমার সাথে দেখা করে পাকিস্তানের পক্ষে লড়াই করতে বলেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের উচ্ছেদ করতে সংগ্রামে অংশ নিতে আহবান জানান। তখন পাকিস্তানী সেনা ও আল-বদর নেতারা মনে করে আমি তাদের কথায় কনভিন্সড হয়ে গেছি। কিন্তু আমি একজন আল-বদর সুলতানকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কনভিন্সড করি। ঠিক সে সময় মুজিব বাহিনীর নেতা প্রয়াত আবদুর রাজ্জাক মোহাম্মদ মৌলাকে পাঠিয়ে আমাকে মুক্ত করে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। আমি সম্ভবত ২৬ দিন আল-বদর ক্যাম্পে বন্দী ছিলাম। নজরবন্দী অবস্থায় আমি ক্যাম্পে বিচরণ করতাম সবাই আমাকে বিশ্বাস করতেন। সেই সুবাদে সবার সাথে আমার কথা বলার সুযোগ হয়। তখন আমি লক্ষ্য করি আল-বদর নেতা কামারুজ্জামান মুক্তিযুদ্ধবিরোধী বিভিন্ন অপারেশনের পরিকল্পনা করতেন এবং রাতের বেলা ক্যাম্পের আল-বদররা বিভিন্ন অপারেশনে যেতেন। আমি আল-বদর সুলতানের মুখেই শুনেছি কামারুজ্জামান আনন্দ মোহন কলেজে অপারেশনে অংশ নিয়েছিল। সেই অপারেশনে ডিগ্রি হোস্টেলের বেয়ারার সাহেদ আলীকে হত্যা করে এবং কলেজের প্রিন্সিপাল ড. সিরাজ উদ্দিনকে আল-বদররা নির্যাতন করে। পরে সিরাজ উদ্দিন নিজেই আমাকে এ ঘটনা বলেন। বর্তমানে তিনি অসুস্থ অবস্থায় ঢাকায় অবস্থান করছেন। এছাড়া নালিতাবাড়ি সোহাদপুরে একটি বড় হত্যাকান্ড ঘটেছে যা বিধবা পল্লী হিসেবে পরিচিত। আরেকটি হত্যাকান্ড সংগঠিত হয় কিশোরগঞ্জ সদর থানার বড়ইতলা গ্রামে। বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার আল-বদর বাহিনীর সব অপারেশনই পাক বাহিনীর আঞ্চলিক সদর দফতর থেকে সমন্বয় করে পরিচালিত হতো ময়মনসিংহ শহরে টেপা মিয়ার ছেলে দারাকে হত্যা করে। জাতীয় পর্যায়ের আরেকজন ক্রীড়াবিদ শাহেদ আলীকে আল-বদর বাহিনী হত্যা করে। আমার যতদূর মনে পড়ে আমি আল-বদর বাহিনীর ক্যাম্পে থাকাকালেই কামারুজ্জামান পাকিস্তান সফরে যান এবং ফিরে এসে তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে পাকিস্তানকে রক্ষণ ও মুক্তি বাহিনীকে উচ্ছেদ করতে উজ্জীবিত করেন। কামারুজ্জামান পলিটিক্যাল ও আর্মড উভয উইংয়ের নেতা ছিলেন। আল-বদর বাহিনীর ক্যাম্প থেকে পালিয়ে যেতে সুলতান আমাকে সহায়তা করে।

সেদিন সুলতান আমাকে জেলা পরিষদের নিকটে বড় মসজিদে মাগরিবের নামাজ পড়তে নিয়ে যায়। বিশ্বস্থ রিকশাচালক বাইরে অপেক্ষায় ছিল। আমি প্রথম রাকাতে নিয়ত ছেড়ে দিয়ে বেরিয়ে আসি। কিছু সময় পরে সুলতানও মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসে। রিকশা নিয়ে আমরা কাচারীঘাটে গিয়ে নৌকাযোগে অপর পাড়ে সম্ভুগঞ্জে চলে যাই। আমাদের সাথে নৌকায় ছিল মওলা। গ্রামে অবস্থানকালে আমরা শহরের অবস্থা জানার জন্য লোক পাঠাই। আমরা জানতে পারি, আমি ক্যাম্প থেকে পালিয়ে যাওয়ার পরে আলবদররা শহরের বিভিন্ন জায়গায় আমাকে খুঁজে পেতে অপারেশন চালায়। তাদের ধারণা ছিল আমি ময়মনসিংহে গুলকি বাড়িতে অবস্থান করছি। আলবদররা সেখানে আক্রমণ করে টুনু নামের একজনকে হত্যা করে। এই অপারেশন কামারুজ্জামানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে হয়েছে বলে আমি জানতে পারি।

শেরপুরে কামরানের নেতৃত্বে আলবদর ক্যাম্প ছিল। জামালপুরে আশরাফ সাহেবের নেতৃত্বে ক্যাম্প ছিল। এছাড়া থানা পর্যায়েও নালিতাবাড়ি ও ফুলপুর বোয়ালিয়া মাদরাসায় ক্যাম্প ছিল। সব ক্যাম্প কামারুজ্জামানের নিয়ন্ত্রণেই ছিল।

জেরার প্রশ্ন উত্তর

প্রশ্ন : আপনি আনন্দ মোহন কলেজ থেকে কত সালে এসএসসি পাস করেন এবং কোন বিভাগে?

উত্তর : আমি ১৯৬৮ সালে পাস করেছি দ্বিতীয় বিভাগে।

প্রশ্ন : সার্টিফিকেট দেখাতে পারবেন?

উত্তর : সব সার্টিফিকেট হারিয়ে ফেলেছি। আমি জেলে ছিলাম সব সরকারের আমলেই আমি জেলে ছিলাম।

প্রশ্ন : আপনি অসত্য কথা বলেছেন। আপনি তৃতীয় বিভাগে পাস করেছেন?

উত্তর : না; আমি ইনপ্রোভমেন্ট পরীক্ষা দিয়ে পরের বছর দ্বিতীয় বিভাগ পেয়েছি।

প্রশ্ন : অনার্স কোন কলেজ থেকে দিয়েছেন? কোন বিভাগ পেয়েছেন?

উত্তর : তৃতীয় বিভাগ পেয়েছি। আনন্দ মোহন কলেজ থেকে।

প্রশ্ন : কোন সালে পাস করেছেন?

উত্তর : এটা হবে ১৯৭২ বা পরের বছর। স্বাধীনতার পরে প্রথম পরীক্ষায়।

প্রশ্ন : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন সালে ভর্তি হয়েছেন?

উত্তর : ১৯৭৩ সালে ভর্তি হই তবে পরীক্ষা দেইনি পাস করিনি। '৭৪ সালে গ্রেফতার হই। আমি থানা থেকে একবার পালিয়ে যাই আবার জেল থেকেও একবার পালিয়ে যাই। তবে সুরঙ্গ করে পালিয়ে যাইনি। গোপনে পালিয়ে যাই।

প্রশ্ন : যুদ্ধের কতদিন আগে থেকে কামারুজ্জামানকে আপনি চিনেন?

উত্তর : ১৯৬৮ সাল থেকে তাকে আমি চিনি।

প্রশ্ন : ঐ সময়ে তিনি কোন কলেজের ছাত্র ছিলেন?

উত্তর : সম্ভবত ঐ সময়ে কামারুজ্জামান নাসিরাবাদ কলেজের ছাত্র ছিলেন। এই কলেজ আনন্দ মোহন কলেজ থেকে দেড় মাইল দূরে অবস্থিত।

প্রশ্ন : কামারুজ্জামান কোথায় থাকতেন?

উত্তর : আমি শুনেছি তিনি লজিং ছিলেন।

প্রশ্ন : '৭০-এর নির্বাচনের সময়কালে কামারুজ্জামান ছাত্রসংঘের কোন পদে আসীন ছিলেন?

উত্তর : সভাপতি-সেক্রেটারি অথবা গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন।

প্রশ্ন : ঐ সময়ে জেলা শাখা বা শহর শাখার ছাত্রসংঘের সভাপতি, সেক্রেটারি বা কোষাধ্যক্ষ পদে কারা ছিলেন বলতে পারেন?

উত্তর : না বলতে পারবো না।

প্রশ্ন : নাসিরাবাদ কলেজ শাখার বিভিন্ন পদে কারা ছিলেন?

উত্তর : বলতে পারবো না।

প্রশ্ন : আনন্দ মোহন কলেজে আপনার সাথে নির্বাচনে আর কোন কোন সংগঠন অংশ নিয়েছেন?

উত্তর : আমার সাথে ভিপি পদে ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রসংঘ অংশ নিয়েছে। ছাত্রসংঘের রেজাউল করিম তালুকদার নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।

প্রশ্ন : আপনিতো শহরের বাসিন্দা ছিলেন না। শহর থেকে আপনার বাড়ি কত দূরে?

উত্তর : ময়মনসিংহ শহর থেকে ৬০/৭০ মাইল দূরে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় আমার বাড়ি ছিল। আমি হোস্টেলে থেকে পড়ালেখা করেছি।

প্রশ্ন : কামারুজ্জামানের বাড়ি কোথায় জানেন?

উত্তর : শেরপুরে। এর দূরত্ব ছিল তখন ময়মনসিংহ শহর থেকে ৩০/৩৫ মাইল দূরে। চলেন যাই, মাপি।

প্রশ্ন : তাহলে আপনার বাড়ি থেকে কামারুজ্জামানের বাড়ির দূরত্ব একশ মাইলের বেশি হবে?

উত্তর : একশ মাইল হবে না। কিছু কম হবে।

প্রশ্ন : আপনি ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি কতদিন ছিলেন?

উত্তর : কিছু দিন ছিলাম। পরে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি হয়। আমি দায়িত্বে ছিলাম এক বা দেড় বছর। আমার কমিটিতে সৈয়দ আশরাফ ছিলেন দফতর সম্পাদক।

প্রশ্ন : ঐ সময়ে গ্রেটার ময়মনসিংহে কতটি সংসদীয় আসন ছিল?

উত্তর : এই মুহূর্তে বলতে পারবো না। তবে সব স্থানে সভা করেছি।

প্রশ্ন : কিশোরগঞ্জে কতটি আসন ছিল?

উত্তর : ৪টি আসন ছিল। ঐ ৪ আসনেও আমি '৭০ সালের নির্বাচনে প্রচারণায় অংশ নিয়েছি।

প্রশ্ন : ঐ ৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী কে কে ছিলেন?

উত্তর : সম্ভবত জামায়াতের কোনো প্রার্থী ছিল না।

প্রশ্ন : ঐ সকল আসনে আপনাদের প্রতিদ্বনদ্বী দলের প্রার্থীরা কারা ছিল?

উত্তর : একটি আসনে পিডিপি'র প্রার্থী ছিলেন মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন। অপর এক আসনে প্রার্থী ছিলেন মুসলিগ লীগের ডা. মালেক। বাকি ২ আসনের প্রার্থীদের নাম বলতে পারবো না।

প্রশ্ন : প্রাদেশিক পরিষদের প্রার্থীদের নাম বলতে পারবেন কি?

উত্তর : আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের নাম বলতে পারবো অন্য দলের সবার নাম বলতে পারবো না।

প্রশ্ন : গ্রেটার ময়মনসিংহে জামায়াতের প্রার্থী কে কে ছিলেন?

উত্তর : জামায়াতের প্রার্থীদের নাম বলতে পারবো না। তবে কিশোরগঞ্জ থেকে অধ্যাপক মাহতাব নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।

প্রশ্ন : কামারুজ্জামান কোন এলাকায় কি বক্তব্য দিয়েছেন বলতে পারবেন?

উত্তর : না, বলতে পারবো না।

প্রশ্ন : কামারুজ্জামান দেশের বিরুদ্ধে কি ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন তার কি কোন পত্রিকার কাটিং আপনি দেখাতে পারবেন?

উত্তর : না, দেখাতে পারবো না।

প্রশ্ন : কামারুজ্জামানের পরিচয় তখন কি ছিল?

উত্তর : আমি কোন মিটিংয়ে সশরীরে উপস্থিত ছিলাম না। আমি পরেও কামারুজ্জামানের পদবী জানতে পারিনি।

প্রশ্ন : আপনার কর্মকান্ড কোন এলাকায় ছিল?

উত্তর : গ্রেটার ময়ময়নসিংহ এলাকায় ছিল।

প্রশ্ন : ছাত্রসংঘের নির্বাচন কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ পদ বলতে কোন পদ আছে কি?

উত্তর : জানি না। তবে জনসম্মুখে প্রচারিত ছিল তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন।

প্রশ্ন : কামারুজ্জামান সম্পর্কে কবে থেকে প্রচার বেশি ছিল?

উত্তর : ৭০/৭১ সালের শুরু থেকেই।

প্রশ্ন : যুদ্ধকালে আপনি কি কোন সামারিক বাহিনীর কাছে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন?

উত্তর : না, আমরা বিএনএফ-এর কাছে ট্রেনিং করেছি। তছলিম আহমেদ স্বাক্ষরিত সনদ পেয়েছি।

প্রশ্ন : ২৫ মার্চ-এর পরে ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ গঠিত হলে আপনার পদ কি ছিল?

উত্তর : আমি সদস্য ছিলাম। তবে রাজনৈতিক দলের সংগ্রাম পরিষদের কোন সদস্য ছিলাম না।

প্রশ্ন : পাকিস্তানী সেনারা কবে ময়মনসিংহ শহর দখল করে?

উত্তর : সঠিক তারিখ মনে নেই। তবে এপ্রিলের মাঝামাঝি হবে।

প্রশ্ন : আপনাদের সাথে পাকবাহিনীর কি কোন সম্মুখ যুদ্ধ হয়েছে?

উত্তর : না। সম্মুখ যুদ্ধ হয়নি। আমরা গ্রামে চলে যাই।

প্রশ্ন : আপনার ভাইবোন কত জন?

উত্তর : ৭ ভাই ৪ বোন তখন মা-বাবা বেঁচে ছিলেন।

প্রশ্ন : আপনার পরিবারের অন্য কোন সদস্য কি যুদ্ধে অংশ নিয়েছে?

উত্তর : না। যুদ্ধে অংশ নেয়নি তবে সহায়তা করেছে।

প্রশ্ন : আপনার বাড়িতে কি পাকবাহিনী আক্রমণ করেছিল?

উত্তর : আক্রমণ হয়নি। বাড়িতে কোন লোক ছিল না। অগ্নিসংযোগ হয়নি তবে লুটপাট করেছে।

প্রশ্ন : কোন তারিখে লুটপাট হয়েছে?

উত্তর : তারিখ মনে নেই।

প্রশ্ন : পরিবারের কেউ কি আহত হয়েছে?

উত্তর : না, তবে একভাইকে ধরে নিয়ে গেছে এক বা দুদিন পরে ছেড়ে দেয়।

প্রশ্ন : আলবদর ক্যাম্পে আপনাকে কি কোন আঘাত করেছিল?

উত্তর : হ্যাঁ। আঘাত করেছিল। পরে তারাই আমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে চিকিৎসা করায়।

প্রশ্ন : আপনার সাথের বাকী দুজনের অবস্থা কি ছিল?

উত্তর : ঐ দিনই তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়।

প্রশ্ন : যুদ্ধকালে আপনার একভাই মারা যায়?

উত্তর : হ্যাঁ আমার চাচাতো ভাই মোবারক মারা যায়। তবে এটা নিয়ে কোন ভুল বুঝাবুঝি হয়নি।

প্রশ্ন : জেলা ডাকবাংলো কতটুকু এলাকায় অবস্থিত?

উত্তর : বড় এলাকায়। তবে কতটুকু জমি হবে বলতে পারি না। তবে ওপরে-নীচে ১৫/২০টি রুম ছিল এখানে।

প্রশ্ন : আপনি কোন রুমে থাকতেন?

উত্তর : আমাকে দোতলার একটি রুমে ৪/৫ দিন বন্দী করে রাখে। পরে ব্রিগেডিয়ার কাদের খানের নির্দেশে আমাকে মুক্ত করে। তবে নজরবন্দী করে রাখে।

প্রশ্ন : কামারুজ্জামান কোন রুমে থাকতেন?

উত্তর : আমার আশপাশের কোন রুমে থাকতেন না। তবে অন্য একটি রুমে থাকতেন।

প্রশ্ন : আপনি মুক্ত হওয়ার পরে কী ভেতরে মুক্ত ছিলেন?

উত্তর : হ্যাঁ কোন হাতকড়া ছিল না। বাইরে নামায পড়তে যেতাম তবে আলবদরা আমাকে নিয়ে যেত আবার নিয়ে আসতো।

প্রশ্ন : কামারুজ্জামান আপনার সাথে কবে দেখা করেন?

উত্তর : ক্যাম্পের লকআপে থাকার সময় আমার সাথে দেখা করেন। এছাড়া নজরবন্দী থাকাকালে নিচের ড্রয়িংরুমে কখনো কখনো কামারুজ্জামানের সাথে দেখা ও আলাপও হয়েছে।

প্রশ্ন : কামারুজ্জামান সাহেব কি তখন আর্মিদের পোশাক পরতেন?

উত্তর : না, সাধারণ পোশাক পরতেন। তখন তার দাঁড়ি ছিল না। প্রশ্ন : কামারুজ্জামান সাহেব কি কোন গাড়ি ব্যবহার করতেন?

উত্তর : হ্যাঁ গাড়ি ব্যবহার করতেন, তবে কার মালিকানা গাড়ি ছিল বলতে পারি না। এটা জীপ গাড়ি ছিল।

প্রশ্ন : কামারুজ্জামান কবে পাকিস্তান গিয়েছিলেন?

উত্তর : কবে গেছেন তা বলতে পারবো না। তবে আমি নরজবন্দী থাকা অবস্থায় গেছেন। অনুমান করেও বলতে পারবো না।

প্রশ্ন : কিভাবে জানেন তিনি পাকিস্তান গেছেন?

উত্তর : জুলাই মাসের শেষদিকে তিনি ফিরে আসার পর ড্রয়িংরুমে বসে গল্প করার সময় জানতে পারলাম তিনি পাকিস্তান গিয়েছিলেন। তার যাওয়া-আসার তারিখ বা কতদিন পাকিস্তানে ছিলেন তাও জানি না।