Quantcast
ঢাকা, মঙ্গলবার 17 July 2012, ২ শ্রাবণ ১৪১৯, ২৬ শাবান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৮৬৩ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

চাঁদা আদায় নিয়ে গভীর রাতে ক্যাম্পাসে দু'গ্রুপের ব্যাপক গোলাগুলী আতঙ্ক, উত্তেজনা

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সফরের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাবিতে ছাত্রলীগের অন্তর্দ্বনেদ্ব আবারো ছাত্র খুন

সোহেল রানা

রাজশাহী অফিস : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সফরের ৪৮ ঘণ্টা পার না হতেই রোববার গভীর রাতে ছাত্রলীগের দু'টি গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলীতে আরো এক ছাত্র খুন হয়েছে। বাম চোখে গুলীবিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মী সোহেল রানা গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়। নিহত সোহেল রানা  বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র ও শেরে বাংলা হলের আবাসিক। সে রংপুর জেলার হারাগাছা থানার কাউনিয়া উপজেলার সাব্দী গ্রামের আব্দুস সালামের পুত্র। সোহেল হত্যার মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাবিতে ছাত্রলীগের হাতে ছাত্র খুনের সংখ্যা ৩ জনে দাঁড়ালো। সোহেল রানার নিহত হবার খবরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হল ও ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। এছাড়াও গভীর রাতের এই ঘটনায় ক্যাম্পাস ও হলগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উল্লেখ করা যেতে পারে, গত শুক্রবার সকালে রাবি ক্যাম্পাস সফর করেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু। এখানে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি জামায়াত-শিবিরকে বয়কট করতে তরুণ শিক্ষার্থীদের প্রতি আহবান জানান। এসময় তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরকে রাজনীতি ও খেলাধুলাতেও পারদর্শী হবার কথা বলেন। তার সফরের মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে। এঘটনায় ছাত্রলীগের ৭ নেতাকর্মীকে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে  সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের জরুরি সভা ডাকা হয়। ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর আহবানে সাড়া দিয়ে গত ১২ জুলাই থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মা সেতুর জন্য অর্থ সংগ্রহ শুরু করে ছাত্রলীগ। তারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে টাকা তুলছিল। এনিয়ে সভাপতি আহমদ আলী ও সাধারণ সম্পাদক আবু হোসাইন বিপু গ্রুপের মধ্যকার দীর্ঘদিনের দ্বনদ্ব প্রকাশ্য রূপ নেয়। এর জের ধরে সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের নেতা তাকিম রোববার রাতে মাদার বখশ হলে গিয়ে পদ্মা সেতুর টাকা সংগ্রহ নিয়ে সভাপতি সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করে। এতে সভাপতির গ্রুপের নেতা-কর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর চড়াও হয়। এনিয়ে মাদার বখশ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে অবস্থানকারী দু'গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এই সংঘর্ষে ১০/১৫ রাউন্ড গুলী ও কয়েকটি বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এতে সাধারণ সম্পাদকের সমর্থক ছাত্রলীগ কর্মী সোহেল রানা চোখে গুলীবিদ্ধ হয়। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে রাত দেড়টার দিকে তাকে ঢাকায় নেয়া হয়। গতকাল দুপুরে তার মৃত্যু ঘটে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রাতেই মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এসএম মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে মাদার বখশ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে তল্লাশি চালায় পুলিশ। এসময় বহিরাগত হিসেবে ৩ জন আটক করা হয়। রাবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদ আল হোসেন তুহিন অভিযোগ করে, ‘আমরা ৩/৪টি গ্রুপে ভাগ হয়ে চাঁদা তুলছিলাম। কিন্তু সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের নেতা আখেরুজ্জামান তাকিমসহ বেশ কয়েকজন টাকা তুলে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করে নেয়। এর প্রতিবাদ করায় তারা রাতে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় তারা ১০ থেকে ১২ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে।' অন্যদিকে, ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির দাবী করে, ‘ছাত্রত্ব না থাকলেও তাকিম সাধারণ সম্পাদক বিপুর মদদে ক্যাম্পাসে ছিনতাই ও চাঁদাবাজি করে বেড়াচ্ছে। গতকাল রাতে সে উল্টো সভাপতির বিরুদ্ধে পদ্মা সেতুর জন্য তোলা ফান্ডের টাকা নিয়ে নানা কথা বলে বেড়াচ্ছিল। এনিয়েই এঘটনার সূত্রপাত।' উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকার সমর্থক সংগঠন ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠনের পর সৃষ্ট উত্তেজনার জের ধরে দু'পক্ষের মধ্যে প্রায়ই ছোট-খাটো সংঘর্ষ লেগে থাকতো। সম্প্রতি পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য তারা ক্যাম্পাসে অর্থ সংগ্রহে প্রতিযোগিতা করছিলো।