Quantcast
ঢাকা, মঙ্গলবার 17 July 2012, ২ শ্রাবণ ১৪১৯, ২৬ শাবান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৬২৭ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

রাবিতে ছাত্রলীগের নৃশংসতার শিকার আরো ৪ ছাত্র

নোমানী নাসিম সানি সজিব সোহেল রানা

রাজশাহী অফিস : গত সাড়ে তিন বছরে ছাত্রলীগের নৃশংসতার শিকার হয়ে রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আরো চারজন ছাত্র অকালে বিদায় নিয়েছে পৃথিবী থেকে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ স্থানীয় তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তিন বছরে পাঁচ ছাত্র নৃশংসভাবে খুন হয়। এদের মধ্যে নসরুল্লাহ নাসিম ও আবদুল আজিজ খান সজিব ছাত্রলীগের, শরীফুজ্জামান নোমানী ছাত্রশিবিরের এবং রেজোয়ানুল ইসলাম চৌধুরী সানি বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর নেতা। ছাত্রলীগের সঙ্গে শিবিরের সংঘর্ষের জের ধরে ফারুক হোসেন নিহত হয়। সর্বশেষ রাবিতে ছাত্রলীগ নিজেদের হাতে খুন করলো আরেক সহকর্মী সোহেল রানাকে। শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকেই নয়, ছাত্রলীগের বিভিন্ন গ্রুপের শক্তিশালী পক্ষ আরেক পক্ষের ওপর আক্রমণ চালিয়ে ছাত্র হত্যার ঘটনা ঘটায়। এভাবে নিহত ছয় ছাত্রের মধ্যে তিনজনই নিহত হয় নিজেদের অন্তর্দ্বনেদ্ব। বর্তমান সরকার আমলে ছাত্রলীগের ক্যাডারদের হাতে প্রথম খুনের শিকার হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান নোমানী। ২০০৯ সালের ১৩ মার্চ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ-ছাত্রশিবির সংঘর্ষের এক পর্যায়ে অবরুদ্ধ শিবির কর্মীদের উদ্ধার করতে গিয়ে শের-ই-বাংলা ফজলুল হক হলের অভ্যন্তরে ছাত্রলীগ ক্যাডারদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হন তিনি। এরপর ২০১০ সালের ৭ জানুয়ারি রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে সশস্ত্র ছাত্রলীগ ক্যাডারদের হাতে খুন হয় বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর নেতা রেজোয়ানুল ইসলাম চৌধুরী সানি। একই বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারুক হোসেন নিহত হয়। এই ঘটনার দায় শিবিরের ওপর চাপিয়ে দিয়ে শুরু হয় ছাত্রলীগ-পুলিশের তান্ডব। এ ধরনের অনেক ঘটনা ক্যাম্পাসে ঘটলেও ফারুক নিহত হওয়ার জন্য জামায়াতে ইসলামীর আমীর, নায়েবে আমীর, সেক্রেটারি জেনারেল এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে পর্যন্ত জড়িয়ে ফেলে মামলা দেয়া হয়। এই ঘটনায় ১৪টি পর্যন্ত মামলা করা হয়। এসব মামলার আসামী ধরার নামে জামায়াত-শিবিরের শত শত নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করে দিনের পর দিন কারাবন্দি রাখা হয়। এই সর্বব্যাপি অভিযানের ফলে জনমনে সন্দেহ হয় যে, জামায়াত-শিবিরের ওপর দমন-পীড়ন চালানোর জন্যই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছিল। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে ব্যাপক সন্দেহ ও প্রশ্নের জন্ম দেয়। এদিকে, একই বছরের ১৫ আগস্ট রাবিতে দলীয় কোন্দল ও ইফতারের টোকেন ভাগাভাগির জের ধরে ছাত্রলীগের একটি গ্রুপের কর্মীরা প্রতিপক্ষ গ্রুপের ছাত্রলীগ নেতা নসরুল্লাহ ওরফে নাসিমকে হাতুড়ি, লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে এসএম হলের দোতলা থেকে নিচে ফেলে দেয়। ২৩ আগস্ট ঢাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। এ বছর ১২ মার্চ সকালে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-রুয়েট'র ক্যাফেটেরিয়ায় ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল আজিজ খান সজিব ও আলী হাসান চৌধুরী রনি প্রতিপক্ষ গ্রুপের ক্যাডারদের হামলায় আহত হয়। পরে আব্দুল আজিজ খান সজিব ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। উল্লিখিত ৫টি হত্যাকান্ডের মধ্যে একমাত্র রেজোয়ানুল ইসলাম সানি হত্যা মামলার বিচার ও আসামীদের শাস্তি হয়েছে অপর চারটি হত্যা মামলার তদন্ত এখনো চলছে। এর মধ্যে শিবির নেতা নোমানী হত্যা মামলা অনিশ্চয়তার আবর্তে হাবুডুবু খাচ্ছে। অন্যদিকে, ছাত্রলীগের এক গ্রুপের হাতে নিহত নাসিমের ওপর হামলায় এসএম হলের ছাত্রলীগের কর্মী জহিরুল ইসলাম, লুৎফর রহমান, জাহিদুল ইসলাম, তৌফিকুল ইসলাম, রুহুল আমিন ও মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। ঘটনার পর তাদের গ্রেফতার করা হলেও এখন জামিন নিয়ে বহাল তবিয়তেই তারা ক্যাম্পাসে অবস্থান করছে। অন্য মামলাগুলো ‘তদন্তের মধ্যে' দিন অতিবাহিত করছে।