|
|
গণশুনানি অনুষ্ঠিত ভোক্তারা আতঙ্কিত
স্টাফ রিপোর্টার : আবারও বিদ্যুতের পাইকারী মূল্যহার ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। এতে করে বিদ্যুৎ নিয়ে মহাসংকটে পড়বে প্রাহকরা। বিদ্যুৎ সংকট এবং ক্রমাগত মূল্য বৃদ্ধিতে ভোক্তারা আতঙ্কিত। কুইক রেন্টাল নির্ভরশীল হয়ে এভাবে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করলে কোন সমাধান হবে না। এ সংকট কাটিয়ে উঠতে কুইক রেন্টাল থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বিইআরসি ২২.৮৯ শতাংশ দাম বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে।
গতকাল সোমবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশনে (বিইআরসি) বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর গণশুনানিতে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। শুনানিতে অংশ নেন বিইআরসির চেয়ারম্যান সৈয়দ ইউসুফ হোসেন, সদস্য প্রকৌশলী ইমদাদুল হক, ডা. সেলিম মাহমুদ। শুনানিতে অংশ নেন, পিডিবি চেয়ারম্যান এএসএম আলমগীর কবির, উপ-পরিচালক বিদ্যুৎ হারুনুর রশিদ, দাম বৃদ্ধির বিরোধিতা করে শুনানিতে অংশ নেন কনজুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর জ্বালানি উপদেষ্টা প্রফেসর ড. এম শামসুল আলম। এ সময় গণশুনানিতে অংশ নেন কমিউনিস্ট পার্টির নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, নাগরিক সংহতির সভাপতি জুনায়েদ সাচি প্রমুখ।
পিডিবি বিদ্যুতের পাইকারী দাম বৃদ্ধির পক্ষ্যে যুক্তি তুলে ধরে বলেছে, প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি অর্থাৎ ২ টাকা শূন্য এক পয়সা বৃদ্ধি করতে হবে। তাদের প্রস্তাবিত এই বৃদ্ধি কার্যকর হলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম হবে ৬ টাকা ৩ পয়সা। বর্তমানে বিদ্যুতের পাইকারী মূল্য রয়েছে ৪ টাকা ২ পয়সা। পিডিবি তাদের প্রস্তাবে বলেছে, ৫০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি করলেও চলতি অর্থবছরে প্রতি ইউনিটে তাদের ঘাটতি থাকবে ৮৪ পয়সা। এতে করে চলতি অর্থবছরে তাদরে ঘাটতি দাঁড়াবে ৩৬ হাজার ৮৪২ মিলিয়ন টাকা। সরকার ভর্তুকি দিচ্ছেন স্বীকার করে পিডিবি বলেছে, সরকার গত অর্থ বছরেতাদের ৬ হাজার ৩শ' ৫৭ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। বর্তমানে এ টাকার সুদ দাঁড়িয়েছে ১২৬ কোটি টাকা। তাই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই।
দাম বৃদ্ধির এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে ক্যাবের প্রতিনিধি ড. শামসুল আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী ওয়াদা করেছিল বিদ্যুতের জন্য ৫ হাজার ২শ' কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়া হবে। কিন্তু সেই ভর্তুকি না দিয়ে পিডিবিকে ঋণ দিচ্ছে। এতে করে পিডিবির অর্থ সংকট প্রকট হচ্ছে। ক্রমাগত বিদ্যুৎ সংকট এবং দাম বৃদ্ধির কারণে জনগণ আতঙ্কিত। সরকার জ্বালানি নির্ভর এবং কুইক রেন্টাল নির্ভর হয়ে বিদ্যুৎ ক্রয় করছে। এতে করে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসাতে না পারলে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে কোন সমাধান হবে না। তিনি দাম বৃদ্ধির বিপক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে প্রতি ইউনিটে খরচ মাত্র ২ টাকা। সরকার আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে কয়লা ও গ্যাস ব্যবহার করতে পারছে না। তার দায় কেন জনগণ বহন করবে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কেন ভোক্তাকে ৬ টাকা দিয়ে ক্রয় করতে হবে। উল্লেখ্য, গত ৬ জুন বিইআরসিতে বিদ্যুতের পাইকারী মূল্যহার বৃদ্ধির প্রস্তাব করে পিডিবি। তাদের মূল্যবৃদ্ধির আবেদ্রুন পর্যালোচনা করে কমিশন ২১.৮৯ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করে।
বিইআরসির চেয়ারম্যান সৈয়দ ইউসুফ হোসেন বলেন, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং বর্তমান বছরের লোডশেডিং-এর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ২০১২-১৩ অর্থবছরের জন্য তরল জ্বালানি ভিত্তিক প্ল্যান্টসমূহের জন্য প্রকৃত গড় হারের সঙ্গে শতকরা ১৫ ভাগ যোগ করে ২১.৮৯ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি বিবেচনায় নেয়া যায়। তবে বিদ্যুতের দাম যতোই বৃদ্ধি পাক না কেন তা ১ জুলাই থেকেই কার্যকার হবে বলে সুপারিশে বলা হয়েছে। এ সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বিইআরসি।

