|
|
রাফীক বিন সাঈদীর দোয়া অনুষ্ঠানে বক্তারা
গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জামিয়াতুল মুফাসসিরীন বাংলাদেশ আয়োজিত মরহুম মওলানা রাফীক বিন সাঈদীর স্মরণ সভায় বক্তব্য পেশ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন -সংগ্রাম
স্টাফ রিপোর্টার : মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে জামায়াতের সম্পদ হিসেবে চিন্তা করলে সরকার ভুল করবে। তিনি জাতীয় সম্পদ। তাকে নিয়ে বিবেচনা করার সুযোগ সরকারের আছে। তার বক্তব্য শুনে কেউ খারাপ হয়নি, ভাল নাগরিক হয়েছে। তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে এসবের সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। মাওলানা সাঈদীকে মুক্তি দিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য ভাল হবে, তার ইমেজ বৃদ্ধি পাবে। বিশ্বের মুসলমানরা খুশী হবে। এজন্য মাওলানা সাঈদীর মুক্তি কামনা করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে মাওলানা সাঈদীর ছেলে মাওলানা রাফীক বিন সাঈদীর মাগফিরাত কামনায় আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠানে বক্তারা একথা বলেন। জমিয়তুল মোফাসসিরীন বাংলাদেশ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রিন্সিপাল মাওলানা সাইয়্যেদ কামালুদ্দিন জাফরী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, হাফেজ মফিজুর রহমান (অন্ধ হুজুর), জমিয়তুল মোফাসসিরীনের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা শাহ আরিফ বিল্লাহ সিদ্দিকী, মাওলানা সাঈদীর ছেলে শামীম সাঈদীসহ বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন রাফীক বিন সাঈদীর মাগফিরাত কামনা করে বলেন, তিনি বাবার মতোই একজন বিজ্ঞ আলেম। তিনি তার বাবার মামলাগুলো দেখাশোনা করতেন। তার বাবার ওপর অন্যায় জুলুম তিনি সহ্য করতে না পারায় হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে ইন্তিকাল করেছেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। দাড়ি টুপি দেখলেই জঙ্গী মনে করার কিছু নেই। আলেম সমাজই মানুষের কাছে ইসলাম পৌঁছে দিয়েছে।
সাইয়্যেদ কামালুদ্দিন জাফরী বলেন, মাওলানা সাঈদী আমার বেয়াই, আর তিনি আমার আদর্শিক চলার পথের সাথী। অসুস্থ অবস্থায় রোগ নিয়ে তাকে কারাগারে থাকতে হচ্ছে। মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে জামায়াতের সম্পদ হিসেবে চিন্তা করলে সরকার ভুল করবে। তিনি জাতীয় সম্পদ। তিনি মুসলিম উম্মাহর সম্পদ। তাকে নিয়ে বিবেচনা করার সুযোগ সরকারের আছে। তার বক্তব্য শুনে কেউ চুরি করেনি, ডাকাতি করেনি, মদ্যপান করেনি, রাজনৈতিক বিশৃংখলা সৃষ্টি করেনি, কারো বাড়িতে অগ্নি সংযোগ করেনি। বরং তার বক্তব্য শুনে মানুষ ভাল হয়েছে। তিনি ভাল নাগরিক তৈরি করেছেন। এটি তার অপরাধ হতে পারে না। তিনি বলেন, মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তিনি এসবের সাথে জড়িত নন। তাকে মুক্তি দিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য ভাল হবে, তার ইমেজ বৃদ্ধি পাবে। বিশ্বের মুসলমান খুশী হবে। তিনি মাওলানা সাঈদীর মুক্তি কামনা করেন। তিনি আরো বলেন, রাফীক বিন সাঈদীও বাবার মতো যোগ্য আলেম হিসেবে দ্বীনের খেদমত শুরু করেছিলেন। সব জায়গায় তার পদচারণা ছিল। তার জন্য মাগফিরাত কামনা করতে তিনি সকলের প্রতি আহবান জানান।
মাহমুদুর রহমান বলেন, পিতার কাঁধে পুত্রের লাশের চেয়ে ভারী আর কিছু নেই। পিতার ওপর জুলুম-নির্যাতনের চিত্র দেখেছে রাফীক। রাফীকের মৃত্যুতে মাওলানা সাঈদী কষ্ট পেয়েছেন। তিনি রাফীকের জন্য মাগফিরাত কামনা করতে সকলের প্রতি আহবান জানান।
শামীম সাঈদী বলেন, ভাইয়ের মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না। সুপরিকল্পিতভাবে ধীরে ধীরে তাকে হত্যা করা হয়েছে। বাবার বিরুদ্ধে চোরের মিথ্যা সাক্ষ্য তিনি সহ্য করতে পারেন নাই বিধায় তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। আজ গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে কে এম সোবহান বলেন, শোককে শক্তিতে পরিণত করতে হবে। আজ কথা বলার স্বাধীনতা নেই। ইসলামকে ফুৎকার দিয়ে নেভানো যাবে না। তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।

