Quantcast
ঢাকা, মঙ্গলবার 17 July 2012, ২ শ্রাবণ ১৪১৯, ২৬ শাবান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ১২২ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

দক্ষিণবঙ্গগামী যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার

মাওয়াঘাটে টোল আদায় নিয়ে আ'লীগের ও যুবলীগের দু'ইজারাদার গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০

লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) সংবাদদাতা : দক্ষিণবঙ্গের প্রবেশদ্বার মাওয়া খেয়াঘাটে টোল আদায়কে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের দুই ইজারাদার পক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার সকাল ৯টা থেকে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী এ অবস্থার সৃষ্টি হলে মাওয়া এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ সময় লৌহজং থানার ওসি ও এক পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। এ ঘটনায় ঘাট এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করতে থাকলে দক্ষিণবঙ্গগামী যাত্রীরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করে যাত্রীরা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে যেতে চরম দুর্ভোগের শিকার হন। পরবর্তীতে মাওয়া ঘাটে দক্ষিণবঙ্গের যাত্রীদের কাছ থেকে উভয়পক্ষের টোল আদায় একদিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও একাধিক সূত্রে জানা যায়, সকালে জেলা পরিষদের নিযুক্ত ইজারাদার মেদিনীমন্ডল ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি হামিদুল ইসলাম মাওয়া চৌরাস্তার লঞ্চঘাটে টোল আদায় করতে গেলে বিআইডব্লিউটি-এর নিযুক্ত ইজারাদার মেদিনীমন্ডল ইউনিয়ন আ'লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফ হোসেনের লোকজন তাতে বাধা প্রদান করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই ইজারাদার পক্ষের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে দুই ইজারাদার পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় মাওয়া এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ছুঁড়ে দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তবে কতো রাউন্ড রাবার বুলেট ছোঁড়া হয়েছে তা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি। এ সময় লৌহজং থানার ওসি আরজু মিয়া ও পুলিশ কনস্টেবল সোলায়মানসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। আহত লৌহজং থানার ওসি মো. আরজু মিয়াকে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। আহত কনস্টেবল সোলেয়ামানসহ অপর আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। এদের মধ্যে গুরুতর আহত হাসানকে (২৪) ঢাকায় চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

লৌহজং থানার ওসি আরজু মিয়া জানান, সংঘর্ষের কারণে আমার ডান হাতের নোখ উঠে যায় এবং পিঠে আঘাত লাগে। আর কনস্টেবল সোলেয়ামানের মাথা ফেটে গেছে।তারপর আমি ঘটনাস্থল ছেড়ে চিকিৎসা নিতে চলে আসি।

এদিকে জেলা পরিষদের নিযুক্ত ইজারাদার হামিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ওসিসহ জেলা পরিষদের লোকজন লঞ্চঘাটের মাটির অংশে নীচে আমাকে টোল কাটার জন্য বুঝিয়ে দিতে গেলে সীবোটঘাটের বিআইডব্লিউটিএর নিযুক্ত ইজারাদারের লোকজনেরা হামলা চালায়। হামলায় জামান, শামীম, সেলিম, হাসানসহ আমাদের ৬/৭ জন আহত হয়।পরবর্তীতে আমরা সেখান থেকে চলে আসি।

অপরদিকে বিআইডব্লিউটিএর নিযুক্ত ইজারাদার হানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফ হোসেন এ অভিযোগকে অস্বীকার করে বলেন, আমাদের লোকজন টোল কাটতে ছিল । আমাদের পক্ষ থেকে কোনো হামলা হয়নি। তবে বাড়ি ফেরার পথে দুপুর দেড়টায় মাওয়া বাজার এলাকায় আমাদের পক্ষের কাজল নামের একজনকে হামলা করে গুরুতর আহত করেছে জেলা পরিষদের নিযুক্ত ইজারাদারের লোকজন। কাজলকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ঘণ্টাব্যাপী দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় মাওয়া-ঢাকা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। ঘটনার পর দুই পক্ষকে নিয়ে মাওয়া ডাকবাংলো রেষ্ট হাউজে মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ এস এম মাহফুজুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দু'পক্ষকে নিয়ে সমঝোতা বৈঠকে বসেন। তাৎক্ষণিকভাবে উভয়পক্ষের টোল আদায় একদিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়। এ বিষয়ে সন্ধ্যায় স্থানীয় এমপি ও জাতীয় সংসদের হুইপ সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলির ঢাকার সংসদ ভবনন্থ বাসভবনে বসে চূড়ান্ত সমাধানের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, গত ১৮ জুন বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন (নম্বর ৭৮২১/২০১২) দায়ের করলে হাইকোর্ট মাওয়া অংশে জেলা পরিষদের টোল আদায় ৬ মাসের জন্য স্থগিত রাখার আদেশ প্রদান করেন। হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী ২০১২-২০১৩ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে জেলা পরিষদের নিযুক্ত ইজারাদারকে মাওয়া পাড় ঘাটের দখল বুঝিয়ে দেয়া না হলে পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের এ্যাপিলেট ডিভিশনে লীভ টু আপিল দায়ের করে। ১২ জুলাই আপিলের শুনানিতে হাইকোর্টের রিট পিটিশনের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের এ্যাপিলেট ডিভিশনের আদেশ অনুসরণ করে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মহিউদ্দিন জেলা পরিষদের নিযুক্ত ইজারাদার যুবলীগ নেতা হামিদুল ইসলামকে পূর্বের নির্দিষ্ট স্থানে গতকাল সোমবার থেকে টোল আদায়ের কার্যক্রম বুঝিয়ে দেয়। অপরদিকে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ মাওয়া নদীবন্দরের নিয়ন্ত্রণাধীন সীবোট ঘাট এলাকায় ‘স্পট কোটেশন'-এর নীতিমালার মাধ্যমে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফ হোসেনকে ৯ জুলাই থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত ইজারাদার নিয়োগ করে। এক্ষেত্রে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ নিযুক্ত ইজারাদারকে সীবোটঘাটে ৫ টাকা করে টোল আদায়ের অনুমতি দেয়া হয়।