Quantcast
ঢাকা, মঙ্গলবার 17 July 2012, ২ শ্রাবণ ১৪১৯, ২৬ শাবান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ২২৩ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

আদম শুমারির প্রতিবেদন প্রকাশ

দেশের জনসংখ্যা ১৫,২৫,১৮,০১৫

বাসস : রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান আদম শুমারি ও গৃহগণনা ২০১১-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন এবং ঘোষণা করেছেন যে সোমবার দেশের জনসংখ্যা ১৫ কোটি ২৫ লাখ ১৮ হাজার ১৫ জন। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার এক দশমিক ৩৭ শতাংশ।

রাষ্ট্রপতি গতকাল সোমবার বঙ্গভবন থেকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ওয়েবসাইট ক্লিক করে এই চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশকালে ঘোষণা করেন যে মোট জনসংখ্যার মধ্যে সাত কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার ৫১৮ জন পুরুষ এবং সাত কোটি ৬১ লাখ ৬৭ হাজার ৪৯৭ জন নারী। এই আদম শুমারির প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশের ঠিক এক বছর পর এই চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হলো। গত বছরের ১৬ জুলাই পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় আদম শুমারির প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। একই বছরের ১৫ থেকে ১৯ মার্চ পরিচালিত গণনায় দেখা যায় দেশের জনসংখ্যা ১৪ কোটি ২৩ লাখে পৌঁছেছে এবং বৃদ্ধির হার এক দশমিক ৩৪ শতাংশ।

২০১১ সালের মার্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রতি বর্গকিলোমিটার জনসংখ্যার ঘনত্ব এক হাজার ১৪ এবং পুরুষ ও নারীর হার প্রায় একই অর্থাৎ ৫০ দশমিক ছয় ও ৪৯ দশমিক ৯৪। দেশে সাক্ষরতার হার ৫১ দশমিক ৮ শতাংশ। এর মধ্যে পুরুষের সাক্ষরতার হার ৫৪ দশমিক ১ ও নারীর হার ৪৯ দশমিক ৪। ওই আদম শুমারি ও গৃহগণনা অনুযায়ী মোট খানার সংখ্যা তিন কোটি ২১ লাখ ৭৩ হাজার ৬৩০টি। এর মধ্যে সাধারণ খানার সংখ্যা তিন কোটি ১৮ লাখ ৬৩ হাজার ৩৯৬টি, প্রাতিষ্ঠানিক খানা ২৬ হাজার ৬৭৭ এবং অন্যান্য খানার সংখ্যা দুই লাখ ৮৩ হাজার ৫৫৭টি। গড়পড়তা খানার আকার চার দশমিক ৪। ওই শুমারিতে দেখা যায়, দেশে প্রতিবন্ধীর সংখ্যা ২০ লাখ ১৬ হাজার ৬১২ জন, যা মোট জনসংখ্যার এক দশমিক চার শতাংশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠীর লোক সংখ্যা ১৫ লাখ ৮৬ হাজার ১৪১ যা মোট জনসংখ্যার এক দশমিক দুই শতাংশ। এদের খানার সংখ্যা তিন লাখ ৫৬ হাজার ১৭৫টি।

অনুষ্ঠানে ভাষণ দানকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আদম শুমারি ও গৃহগণনার গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি বলেন, ‘শুমারি থেকে প্রাপ্ত তথ্য জাতীয় সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিতকরণ, নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ ও চাকরির ক্ষেত্রে কোটা নির্ধারণ ইত্যাদি ব্যাপারে অতীব প্রয়োজনীয়।'

ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের এই অনুষ্ঠানে ডিসিগণ ও জেলা আদম শুমারি কমিটির প্রধানগণও অংশগ্রহণ করেন। প্রতিবেদন প্রকাশের পর রাষ্ট্রপতি ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জের ডিসি সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে কথা বলেন। অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকারও বক্তৃতা করেন। উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো আধুনিক আইসিআর প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্ভাব্য স্বল্প সময়ে ইউএনএফপিইএ, ইইউ, ইউএসএইড ও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্সাস ব্যুরোর সহায়তায় এই চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি করে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশের আগে এটি নিরীক্ষা ও সংশোধনের কাজ করে। রিপোর্টে মোট জনসংখ্যা নারী-পুরুষ, মোট গৃহ ও পরিবার এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পরিসংখ্যান ব্যুরো ২০১১ সালের ১৫ থেকে ১৯ মার্চ এই শুমারি পরিচালনা করে। রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গণনার মাধ্যমে এই শুমারি শুরু হয়। এটি হচ্ছে বাংলাদেশের ৫ম আদম শুমারি। এর আগে এই অঞ্চলে প্রথম শুমারি হয় ১৮৮২ সালে। স্বাধীনতার পর ১৯৭৪, ১৯৮১, ১৯৯১ ও ২০০১ সালে আরো ৪টি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি ১০ বছর পর পর এই শুমারি পরিচালিত হয়।

১৯৭৪ সালে দেশের জনসংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৩ লাখ ৯৮ হাজার, ১৯৮১ সালে ৮ কোটি ৯৯ লাখ ১২ হাজার, ১৯৯১ সালে ১১ কোটি ১৪ লাখ ৫৫ হাজার ১৮৫ এবং ২০০১ সালে ১৩ কোটি ৫ লাখ ২২ হাজার ৫৯৪ জন। এবারে আদম শুমারির জন্য দেশকে ১৩০ শুমারি জেলায় ভাগ করা হয়। এর মধ্যে একজন শুমারি তত্ত্বাবধায়কের অধীনে ২০ থেকে ২২টি জেলা ছিল। ২৭০০ আঞ্চলিক সমম্বয়ক সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের শুমারির তত্ত্বাবধান করেন। গোটা দেশকে ৩ লাখ ১০ হাজার গণনাঞ্চলে ভাগ করা হয়। গণনাকারীও ছিলেন প্রায় ৩ লাখ ১০ হাজার এবং পরিদর্শক ছিলেন ৫৭ হাজার। সম্ভাব্য স্বল্প সময়ে সংগৃহিত তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাইয়ে ডিজিটাল গণনা মানচিত্র ও জিও কোডিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়।