Quantcast
ঢাকা, বুধবার 18 July 2012, ৩ শ্রাবণ ১৪১৯, ২৭ শাবান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ২৩৯ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

ঈদের পর আবারো জেলা সফর করবেন খালেদা জিয়া

সরকার বিরোধী আন্দোলন চাঙ্গা করতে রমযানেই অপূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ অঙ্গ দলের কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশ

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল : সরকার বিরোধী আন্দোলন চাঙ্গা করতে রমযানেই সারাদেশের অপূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি গঠন এবং মেয়াদোত্তীর্ণ অঙ্গ দলের কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। এরই লক্ষ্যে আগামীকাল বৃহস্পতিবার দলের সর্বকনিষ্ঠ ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের কমিটি গঠন নিয়ে তাদের সাথে বৈঠক করবেন তিনি। এরপর অন্যান্য অঙ্গ দলের সাথেও বৈঠক করবেন তিনি। এছাড়া সরকার বিরোধী আন্দোলনকে জোরালো করতে রমযানের পর আবারো জেলা সফরে যাবেন বিএনপি চেয়ারপার্সন। কয়েকটি জেলায় ঝটিকা সফর করে এসেই তিনি আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। এদিকে গত সোমবারে অনুষ্ঠিত দলের নীতি-নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ‘রমযানকে সাংগঠনিক মাস' হিসাবেও ঘোষণার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।  আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে সরকার বিরোধী চূড়ান্ত আন্দোলনে যাওয়ার ব্যাপারে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা অভিমত ব্যক্ত করেন। তবে এর আগেও ধারাবাহিক কিছু কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি ও ১৮ দলীয় জোট।

বিএনপি সূত্র জানায়, তত্তাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে পুনর্বহালসহ বিভিন্ন দাবিতে চলমান আন্দোলনকে গতিশীল করতে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে নতুন করে সদস্য সংগ্রহ অভিযানে নামবে বিএনপি। চলতি মাসেই তা শুরু করা হবে। একইসঙ্গে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটি গঠনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। জানা যায়, সিলেটের বিশ্বনাথের মধ্য দিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন সারাদেশের বেশ কয়েকটি জেলা সফর করবেন। এর মধ্যে রয়েছে, রাজবাড়ী, বগুড়া, টাঙ্গাইলসহ বেশ কয়েকটি জেলা। এছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা রমযানে ও পরে বেশ কয়েকটি জেলায় সফর করবেন। এই সফরের উদ্দেশ্য, সরকারের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করে আন্দোলনকে জোরদার করা।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, রমযান মাসে দলের সাংগঠনিক কর্মকান্ড গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসাবে সদস্য সংগ্রহ অভিযান চলবে। অসম্পূর্ণ কমিটিও পূর্ণাঙ্গ করা হবে। তাছাড়া রমযানের পর ম্যাডাম দেশের কয়েকটি জেলা সফর করবেন। সরকারবিরোধী আন্দোলনে জনমত তৈরি করতেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

দলের আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, রমযানে আন্দোলনের তেমন কোনো কর্মসূচি না থাকলেও আমরা মাসটিতে দল গোছানোর কাজ করবো। এ মাসেই আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত করা হবে। তিনি বলেন, রমযানে আমরা দলের সদস্য বৃদ্ধিসহ অঙ্গ দল সমূহের পুনর্গঠনের কাজ করবো।

 স্থায়ী কমিটির বৈঠক সূত্রে জানা যায়, সরকারবিরোধী আন্দোলনকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যেতে ধারাবাহিক কর্মসূচি দিবে বিএনপি। বর্ষা, কুরবানী ও শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা মাথায় রেখেই নবেম্বর-ডিসেম্বরে চূড়ান্ত আন্দোলনে যাওয়ার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। তবে এরমধ্যে মাঝে মধ্যে দুই একটি হরতাল কর্মসূচি আসতে পারে। এছাড়া রাজপথের স্বাভাবিক সভা-সমাবেশ, অবস্থান কর্মসূচিও থাকবে বলে জানা গেছে।  এদিকে স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পদ্মা সেতু নির্মাণের আগে সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও ব্যর্থতার অভিযোগ এনে এর প্রতিবাদে আগামী রোববার ঢাকাসহ সারাদেশে মহানগর ও জেলা পর্যায়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করবে বিএনপি। রাজধানীতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিকাল তিনটায় এই কর্মসূচি পালিত হবে।

 এদিকে গত সোমবার রাতে চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে বিএনপি'র স্থায়ী কমিটির একটি জরুরী সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সোহেল তাজের পদত্যাগে শূন্য আসনে উপ-নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে না বিএনপি। নিরপেক্ষ নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান সংবিধানে পুনরায় সংযোজন না করা পর্যন্ত বিএনপি জাতীয় সংসদের আর কোনো উপ-নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে না। একই সঙ্গে অবিলম্বে নিরপেক্ষ নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়ে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংশোধন আনার জোর দাবি জানিয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি। সভা মনে করে, যেহেতু আওয়ামী লীগ সরকার একতরফা ভাবে নিরপেক্ষ নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিধান বাতিল করে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিধান সংবিধানে সংযোজন করেছে, যা জনগণের আশা আকাক্মখার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং দেশের প্রায় সকল রাজনৈতিক দল, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সুশীল সমাজ এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাই পুনরায় নিরপেক্ষ নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়েছে বিএনপি।

বিএনপি মনে করে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। যেহেতু এই দাবিতে সকল বিরোধী দল আন্দোলন করছে এবং যেহেতু সরকার এই গণদাবির প্রতি বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না, সেহেতু বিএনপি এই উপ-নির্বাচনে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া বর্তমান নির্বাচন কমিশন আইনানুগ পদ্ধতিতে গঠিত হয়নি, সেজন্য ওই নির্বাচন কমিশনের অধীনে উপ-নির্বাচনে অংশ নেয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। সভায় আসন্ন রমযান মাস উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিশেষ করে চাল-ডাল-তেল-লবণ-সবজি, মাছ মাংসের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসার জোর দাবি জানানো হয়।

সভায় দফায় দফায় বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধিতে জনগণের যে দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে তাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিনা টেন্ডারে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ে কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্লান্ট স্থাপন করে সরকার যে দুর্নীতি করেছে তার দায়ভার জনগণকে বহন করতে হচ্ছে এর নিন্দা জানানো হয়। স্থায়ী কমিটির সভা মনে করে যে, এই দুর্নীতির তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এবং বিদ্যুতের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার জোর দাবি জানায়। সেই সঙ্গে গ্যাস, পানি ও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে মূল্য সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার জোর দাবি জানায়। পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংক ইতোপূর্বে সম্পাদিত চুক্তি বাতিল করেছে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের দুর্নীতির কারণে। বিশ্বব্যাংকের বিবৃতির মধ্য দিয়ে এটা স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়েছে যে, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। সভা মনে করে, কোনো তদন্ত না করে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ার কারণে বিশ্বব্যাংক ঋণ চুক্তি বাতিল করেছে।

পদ্মা সেতু এই দেশের মানুষের দীর্ঘকালের স্বপ্ন। অর্থনৈতিক ও সামাজিক কারণে এই সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতির কারণে এই প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবে এটা কারো কাম্য নয়। সরকার এখন মুখ রক্ষার জন্য বিশ্বব্যাংক, ড. ইউনূস এবং বিরোধী দলকে দায়ী করে অসংলগ্ন বক্তব্য রাখছে এবং নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে। ইতোমধ্যে জনগণের কাছ থেকে চাঁদা তোলার জন্য অপকর্ম শুরু করেছে। ব্যাংক একাউন্ট খুলেছে। সরকারের এই ধরনের উক্তি, বক্তব্য, মন্তব্য বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরো ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং এই সব আচরণ সরকারের কান্ডজ্ঞান বিবর্জিত বলে বিবেচিত হচ্ছে।

সভা সরকারকে এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন তৎপরতা থেকে সরে এসে বিশ্বব্যাংকের চিঠিগুলো প্রকাশ, দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানায়। জনগণকে বিভ্রান্ত করে নিজেদের ব্যর্থতাকে আড়াল করবার অপচেষ্টা থেকে বিরত থাকার আহবান জানায়। সভায় পদ্মা সেতু নির্মাণের পূর্বেই সরকারের দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও ব্যর্থতার প্রতিবাদে আগামী ২২ জুলাই রোববার সারাদেশে মহানগর (ঢাকা মহানগর ব্যতীত) ও জেলা পর্যায়ে প্রতিবাদ সমাবেশের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একই প্রতিবাদ সমাবেশ আগামী ১৯ জুলাই বৃহস্পতিবার নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বেলা ৩ টায় অনুষ্ঠিত হবে।

সভায় ক্রমাবনতিশীল আইন-শৃক্মখলা পরিস্থিতি ও সরকারের নির্যাতনমূলক নীতির তীব্র নিন্দা জানানো হয়। এখন পর্যন্ত বিএনপি-এর সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলী ও তার গাড়ী চালককে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হওয়ায় সরকারের তীব্র সমালোচনা করা হয়। ইতোপূর্বে নিখোঁজ হওয়া ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের কমিশনার চৌধুরী আলম, শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলামসহ প্রায় ১৩০ জন রাজনৈতিক কর্মী গুম হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। অবিলম্বে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড বন্ধ, জবরদস্তি গুম করা, মিথ্যা মামলা দিয়ে বিরোধী দলীয় শীর্ষ নেতাদের হয়রানি, গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা জানানো হয়। বিশেষ করে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির সিনিয়ার ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বিরোধী দলীয় সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং গ্রেফতারকৃতদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করা হয়।

সভায় আসন্ন রমযান মাসে গণসংযোগ, ইফতার মাহফিল, এলাকায় শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সফর, সাংগঠনিক সভার মাধ্যমে সংগঠনকে আরো গতিশীল ও সক্রিয় করবার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। রমযানের পরে নিরপেক্ষ নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিকে আরো জোরদার করার লক্ষ্যে সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি করবার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।