Quantcast
ঢাকা, বুধবার 18 July 2012, ৩ শ্রাবণ ১৪১৯, ২৭ শাবান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ২১০৬ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

সরবরাহকৃত ডকুমেন্টের ওপর জেরা করা নিয়ে দীর্ঘ বিতর্ক

পিরোজপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের দেয়া রাজাকারের তালিকায় মাওলানা সাঈদীর নাম নেই

শহীদুল ইসলাম : পিরোজপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সরবরাহকৃত রাজাকারের তালিকায় ৪৬ নম্বর ক্রমিকে দেলোয়ার শিকদার নামে একজন রাজাকারের নাম আছে যার পিতার নাম রসুল সিকদার উল্লেখ আছে। পিরোজপুর জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে প্রেরিত ঐ তালিকায় মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নাম নেই। দাখিল ও আলিমের সার্টিফিকেটসহ সব ধরনের ডকুমেন্টেই মাওলানা সাঈদীর নাম আছে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী এবং পিতার নাম আছে ইউসুফ সাঈদী। এই তালিকা সম্বলিত ডকুমেন্ট প্রসিকিউশন আদালতে দাখিল করেছেন এবং মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীকেও সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু প্রদর্শনী করা হয়নি বিধায় প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করা নিয়ে আপত্তি জানান। এ নিয়ে প্রসিকিউটর, ট্রাইব্যুনাল এবং ডিফেন্সের মধ্যে দীর্ঘ ৫০ মিনিট বিতর্ক হয়। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক  ও সদস্য এ কে এম জহির আহমদ মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী এডভোকেট মিজানুল ইসলামের সাথে একমত হন। তারা বলেন, প্রসিকিউশন যেসব ডকুমেন্ট সরবরাহ করেছেন তা তারা আসামীর বিরুদ্ধে ব্যবহার করবেন এটাই স্বাভাবিক। কাজেই ঐসব ডকুমেন্টের ওপর প্রশ্ন করার অধিকার ডিফেন্সের রয়েছে। প্রদর্শনী করা ছাড়াও সরবরাহকৃত অন্যান্য ডকুমেন্টের ওপরও তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করা যাবে। তাছাড়া ঐসব ডকুমেন্টের ওপর অন্য কাকে জেরা করা যাবে। অন্যদিকে প্রসিকিউটর হায়দার আলী বলেন, যেসব ডকুমেন্ট প্রদর্শনী করা হয়েছে শুধুমাত্র ঐসব ডকুমেন্টের ওপরই জেরা করা যাবে। তবে তদন্ত কর্মকর্তা জেরায় রাজাকারের ঐ তালিকা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের দেয়া এবং তিনি জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পেয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন। এই তালিকায় কথা তদন্ত কর্মকর্তার মুখ দিয়ে স্বীকার করার মাধ্যমে অবারো প্রমাণ হলো যে, প্রাসাদ সমান মিথ্যা, জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে দেলোয়ার সিকদারের ১৯৭১ সালের অপরাধ বিশ্ব বরেণ্য মোফাসসিরে কুরআন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ওপর চাপিয়ে অন্যায়ভাবে তাকে শস্তি দিতে চায় সরকার পক্ষ। অন্যদিকে তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন গতকাল জেরায় আরো স্বীকার করেছেন যে, যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দোহাকোলা গ্রামে জনৈক রওশন আলীর বাড়িতে মাওলানা সাঈদীর অবস্থান করার বিষয়ে তিনি রওশনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন, তার বাড়িতে থেকেছেন কিন্তু তাকে সাক্ষী করেননি। সত্য কথা বেরিয়ে আসবে, জালিয়াতি ও প্রতারণা ফাঁস হয়ে যাবে এই আশঙ্কায় তাকে সাক্ষী করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী এডভোকেট মিজানুল ইসলাম।

গুরুতর অসুস্থ মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ঢাকার ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় গতকালও তার অনুপস্থিতিতেই তদন্ত কর্মকর্তার জেরা অনুষ্ঠিত হয়। গত ১৩ই জুনের পর থেকে তার অনুপস্থিতিতেই চলছে বিচার কার্যক্রম। গতকাল সকাল পৌনে ১১টা থেকে পৌনে ১টা এবং বিকেল পৌনে ২টা থেকে পৌনে ৪টা পর্যন্ত চলে তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনের জেরা। এর মধ্যে শেষ দিকে পিরোজপুর জেলা রাজাকারের তালিকা নিয়ে বিতর্ক চলে পৌনে ১ ঘণ্টা। ফলে গতকাল আর জেরা হয়নি। আজ বুধবার পুনরায় তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার দিন ধার্য করা হয়েছে। গতকালের জেরায় এডভোকেট মিজানুল ইসলামকে সহায়তা করেন এডভোকেট মনজুর আহমেদ আনসারী, এডভোকেট কফিল উদ্দিন চৌধুরী, আবু বকর সিদ্দিক প্রমুখ।

গতকাল মঙ্গলবারের জেরার বিবরণ নিম্নরূপ:

প্রশ্ন : ১৪/৪/২০১১ তারিখে আপনার অবস্থান কোথায় ছিল?

উত্তর : ঢাকায় তদন্ত সংস্থার অফিসে।

প্রশ্ন : ২৫/৭/২০১০ তারিখে আপনি জনকণ্ঠ ৫/৩/২০০১ তারিখের পত্রিকা জব্দ করেছেন তাতে উল্লেখ আছে যে স্বাধীনতার পরে সাঈদী সাহেব যশোরে ছিলেন?

উত্তর : জি, আছে।

প্রশ্ন : এই সংবাদের সত্যতা সম্পর্কে আপনি কোন কোন অনুসন্ধান করেননি?

উত্তর : আমার সোর্সকে বলেছিলাম।

প্রশ্ন : ২০১০ সালের জুলাই মাসে সাক্ষী সোলায়মানের সাথে দেখা হয়েছিল আপনার?

উত্তর : না, দেখা হয়নি। আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : ২০১০ সালের জুলাই মাসে আপনি যশোরে গিয়েছিলেন?

উত্তর : আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : সোলায়মান হোসেনের জবানবন্দি কত তারিখে গ্রহণ করেন?

উত্তর : ২৭/৪/২০১১ তারিখে প্রথমে উপজেলা পরিষদে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। পরে দোহাকোলা গ্রামে গিয়ে বাকি জবানবন্দি রেকর্ড করেছি।

প্রশ্ন : যশোরে আপনি প্রথম কবে যান?

উত্তর : ২৬/৪/২০১১ তারিখে।

প্রশ্ন : যশোর যাওয়ার আগে আপনি কি উপস্থিত হওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে সাক্ষীদের নোটিশ দিয়েছিলেন?

উত্তর : বাঘারপাড়া থানার ওসিকে ম্যাসেস দিয়েছিলাম সাক্ষী হাজির করার জন্য।

প্রশ্ন : কোন কোন সাক্ষীকে হাজির করতে হবে তাদের নাম দিয়েছিলেন?

উত্তর : নাম দেইনি।

প্রশ্ন : ওসি বাঘারপাড়া আপনার তদন্ত টিমের সদস্য ছিল না?

উত্তর : জি, না।

প্রশ্ন : তিনি কতজন সাক্ষী আপনার সামনে হাজির করেছিলেন?

উত্তর : ৯ জন। যথা ১. কাওসার মোল্লা, ২. ফশিয়ার রহমান, ৩. তোজাম্মেল হোসেন, ৪. সোলায়মান হোসেন, ৫. মোহাম্মদ সদরুদ্দিন, ৬. হোসেন আলী, ৭. আব্দুল আজিজ বিশ্বাস, ৮. খন্দকার শহীদুল্লাহ, ৯. জুলফিকার আলী।

প্রশ্ন : সোলায়মানসহ ৯ জনের সাথেই আপনার একই দিন ২৭/৪/১১ তারিখে দেখা হয়?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : ৯ জনেরই আংশিক জবানবন্দি উপজেলা পরিষদে রেকর্ড করেন?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : সাক্ষীদের রাজনৈতিক পরিচয় আপনি নিয়েছিলেন?

উত্তর : আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : ৯ জনের মধ্যে কাওসার মোল্লা, ফশিয়ার রহমান ও আব্দুল আজিজ বিশ্বাসকে আপনি সাক্ষী করেননি, বাকিদের সাক্ষী করেছেন?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : আপনি যশোরে ক'দিন ছিলেন?

উত্তর : ২ দিন ছিলাম।

প্রশ্ন : ২ দিন অবস্থানকালে আপনি মোট কতজন সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন?

উত্তর : মোট ১০ জনের জবানবন্দি রেকর্ড করি (এই ৯ জন সহ)।

প্রশ্ন : রওশন আলীর বাড়িতে কত তারিখে ক'টার সময় গিয়েছিলেন?

উত্তর : ২৭/৪/২০১১ তারিখে ১১টা ৪৫ মি.।

প্রশ্ন : ঐ সময় কি ৯ জন উপস্থিত ছিল?

উত্তর : জি। সাথে বাঘারপাড়া থানার ওসিও ছিলেন?

প্রশ্ন : রওশনের বাড়িতে কতক্ষণ ছিলেন?

উত্তর : ৬ ঘণ্টারও বেশি সময়।

প্রশ্ন : রওশনের মা তখন বেচে ছিলেন?

উত্তর : না।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে দোহাকোলা গ্রাম কি ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে ছিল?

উত্তর : আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বর বা কমিশনার কে ছিলেন তা খোজ নিয়েছিলেন?

উত্তর : আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : ১৯৭২ সালে ঐ এলাকার রিলিফ কমিটির চেয়ারম্যান কে ছিলেন?

উত্তর : আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : ১৯৭০ সালের নির্বাচনে দোহাকোলা গ্রামে কতজন ভোটার ছিলেন?

উত্তর : আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে দোহাকোলা গ্রামে কত ঘর বসতি ছিল?

উত্তর : আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : ২৪/৪/১১ তারিখে রওশনের বাড়িতে যখন যান তখন তার বাড়ির উত্তর পাশে কার বাড়ি ছিল?

উত্তর : আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে রওশনের বাড়ির আশপাশে কাদের বাড়ি ছিল তা খোজ নিয়েছেন?

উত্তর : আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : যে ৬ জনকে আপনি সাক্ষী করেছেন তাদের কার বাড়ি রওশনের বাড়ির সবচেয়ে নিকটবর্তী?

উত্তর : আমার নোটে নেই। তবে সব বাড়িই নিকটবর্তী।

প্রশ্ন : কাওসার মোল্লা ও জুলফিকার আলীর মধ্যে বয়সে বড় কে?

উত্তর : কাওসার মোল্লা বড়?

প্রশ্ন : আজিজ বিশ্বাস ও ফসিয়ার রহমান কাওসার মোল্লার চেয়ে বড় না ছোট?

উত্তর : আজিজ বিশ্বাসের বয়স ৬০, ফসিয়ার রহমানের বয়স ৬২ বছর।

প্রশ্ন : ১৯৭০ সালে নির্বাচনী জনসভা এবং ২০০৬ সালে দোহাকোলা যেখানে জামায়াতের ধর্মসভা হয়েছিল সেই মাঠে গিয়েছিলেন?

উত্তর : আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : ১৯৭০ সালে ঐ স্কুলের কর্মরত কোন শিক্ষক বা কর্মচারী বেচে আছেন কি না সে মর্মে কোন খোজ খবর নিয়েছেন?

উত্তর : আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : দোহাকোলা স্কুল মাঠে মাওলানা সাঈদী ২০০৬ সালে যে ধর্মসভা করেছিলেন মর্মে বলা হয়েছে তার কোন অডিও বা ভিডিও ক্যাসেট আপনি সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন?

উত্তর : আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : ১৯৭০ সালে যশোরের পুলিশের বিশেষ শাখার নথি দেখেছেন?

উত্তর : আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : যশোরের পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে স্বাধীনতা পরবর্তীকালে যশোরে সাঈদী সাহেবের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য চেয়ে কোন চিঠি দিয়েছিলেন?

উত্তর : না।

প্রশ্ন : ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বাঘারপাড়া যে নির্বাচনী এলাকার অন্তর্গত ঐ এলাকার প্রার্থীরা বেচে আছেন কি না সে সম্পর্কে কোন অনুসন্ধান করেছেন?

উত্তর : আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : ১৯৭৩ সালে ঐ এলাকার নির্বাচিত এমপি কে ছিলেন তা খোজ নিয়েছেন?

উত্তর : আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : যে ৬ জনকে আপনি সাক্ষী করেছিলেন তাদের মধ্যে কতজনকে হাজির করার জন্য প্রসেস চেয়ে সমন দিয়েছিলেন?

উত্তর : নোটে না থকায় বলতে পারছি না।

প্রশ্ন : সোলায়মানকে হাজির করার প্রসেস করেছিলেন?

উত্তর : আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন  ১৯৭১ সালে আমি ঝুমঝুমপুরে বিহারী হত্যাকান্ড, কাবুলিওয়ালা হত্যাকান্ড এবং মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের অসহযোগ আন্দোলনের সময় রওশন আলীর বাড়িতে আমি ছিলাম মর্মে সাক্ষী সোলায়মান হোসেন আদালতে যা বলেছেন তা তদন্তকালে আপনাকে বলেছিলেন?

উত্তর : না, ওটা সে জবানবন্দিতে বলেনি।

প্রশ্ন : আপনার শেখানো মতে সাক্ষী দিতে রাজি না হওয়ায় রওশন আলী, কাওসার মোল্লা, আলিম বিশ্বাস ও ফসিয়ার রহমানকে আপনি এই মামলায় সাক্ষী করেননি?

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : আপনার শেখানো মতে সাক্ষী দিতে রাজি না হওয়ায় খন্দকার শহীদুল্লাহ, সদরুদ্দীন ও তোজাম্মেলকে সাক্ষী করার পরও আদালতে উপস্থাপন করেননি?

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন :  যশোরের গণ্যমান্য কোনো ব্যক্তিকে আপনার শেখানো সাক্ষী দিতে রাজি না হওয়ায় আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের সাক্ষী করেননি?

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : রাজাকার বাহিনী ২রা আগস্ট ১৯৭১ তারিখে বিধিবদ্ধভাবে কার্যক্রম শুরু করে?

উত্তর : বিচারকরা বলেন, এটা রেকর্ডেড।

প্রশ্ন : রাজাকার অর্ডিন্যান্সের ফটোকপি কোথা থেকে সংগ্রহ করেছেন?

উত্তর : এই উত্তর নিয়ে বিতর্ক হয়।

ট্রাইব্যুনাল বলেন, আমাদের কাছে ডকুমেন্ট আছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্যায়িত।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালের মে মাসে মাওলানা এ কে এম ইউসুফের নেতৃত্বে খুলনায় ৯৬ জন জামায়াত কর্মীকে নিয়ে প্রথম রাজাকার বাহিনী গঠিত হয়, এই তথ্য আপনি কোথায় পেলেন?

উত্তর : সাক্ষীদের জবানবন্দি এবং বিভিন্ন বইপত্র পর্যালোচনা করে আমি তদন্তকালে পেয়েছি।

প্রশ্ন : একটি বইয়ের নাম বলতে পারবেন?

উত্তর : ফিরে দেখা একাত্তর -ডা. এম এ হাসান।

প্রশ্ন : ফিরে দেখা একাত্তর বইটি কত সালে প্রকাশিত হয়েছে প্রথম?

উত্তর : আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : এই বইটি কি আপনার সংগ্রহে আছে?

উত্তর : জবাব নেই।

প্রশ্ন : ঐ বইয়ে এ সংক্রান্ত তথ্য সূত্র উল্লেখ আছে?

উত্তর : বলতে পারছি না।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালের মে মাসে রাজাকার বাহিনী প্রথম গঠিত হয় আপনি বলেছেন- এ সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের জন্য ১৯৭১ সালের পত্র-পত্রিকা দেখেছেন?

উত্তর : আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : এ সম্পর্কে ডা. এম এ হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন?

উত্তর : জি, না।

প্রশ্ন : এম এ হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় উনি রাজাকার বাহিনী গঠন সংক্রান্ত কোনো তথ্য দিয়েছিলেন কিনা?

উত্তর : তার জবানবন্দি আমার কাছে নেই বিধায় বলতে পারব না।

প্রশ্ন : এম এ হাসানের স্টেটমেন্টে রাজাকার বাহিনী গঠনের তারিখ ১৭ই মে উল্লেখ থাকায় আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে ড. হাসান এবং মনোয়ারা বেগমকে ইচ্ছাকৃতভাবে এই মামলায় সাক্ষী করেননি?

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : মাওলানা ইউসুফ সাহেবকে আপনি এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন?

উত্তর : করি নাই।

প্রশ্ন : এই মামলার তদন্তের জন্য আপনি মোট কতটি জেলায় গিয়েছেন?

উত্তর : পিরোজপুর, খুলনা, যশোর, বাগেরহাট, নড়াইল এই ৫টি জেলায় গিয়েছি।

প্রশ্ন : আপনি সুন্দরবনে গিয়েছিলেন মেজর জিয়াউদ্দিনের মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পের অবস্থান দেখার জন্য?

উত্তর : না যাইনি।

প্রশ্ন : ৯৬ জন জামায়াত কর্মীকে নিয়ে খুলনায় যে রাজাকার বাহিনী গঠন হয় বলে আপনি উল্লেখ করেছেন তাদের পরিচয় নিয়েছিলেন?

উত্তর : আমার রেকর্ডে নেই।

প্রশ্ন : রাজাকার বাহিনীর ঢাকা জেলার প্রধান কে ছিলেন?

উত্তর : আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : আপনি পিরোজপুর জেলা রাজাকারদের ৪টি তালিকা সংগ্রহ করেছেন?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : এই ৪টি তালিকাই ২০০০ সালের পরে তৈরি করা হয়েছে?

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : প্রদর্শনী-৩৫ মূলে যে তালিকা আপনি দিয়েছেন সেটা কত সালে তৈরি করা হয়?

উত্তর : এতে কোনো তারিখ উল্লেখ নেই।

প্রশ্ন : যে ইমেইল থেকে রাজাকারদের তালিকা ডাউনলোড করেছেন সেটা কবে চালু হয়েছে?

উত্তর : আমার জানা নেই।

প্রশ্ন : আপনি কি জানতে পেরেছেন যে, এই ইমেইলটি কবে চালু হয়?

উত্তর : আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : এই ইমেইলে ডা. হাসান সাহেবের ফোন, ফ্রাক্স, মোবাইল নম্বর দেয়া আছে?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : ফোন, ফ্যাক্স বা মোবাইলের মাধ্যমেও আপনি তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেননি?

উত্তর : আমি যোগাযোগ করি নাই। এএসপি মনোয়ারা বেগম তার কাছে গিয়েছিল।

প্রশ্ন : এই তালিকা যাচাইয়ের জন্য জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের কাছে গিয়েছিলেন?

উত্তর : গিয়েছি। ফজলুল হক সেন্টু তার নাম।

প্রশ্ন : কত তারিখে তার সাথে দেখা করেন?

উত্তর : ১৭/০৮/২০১০ তারিখে।

প্রশ্ন : আপনি তাদের জবানবন্দিও নেননি?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : যে তালিকা আপনি প্রদর্শনী করেছেন তাতে পিরোজপুর জেলার ১৮ জন রাজাকারের নাম আছে?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : খান বাহাদুর সৈয়দ মোহাম্মদ আফজালের নাম এই তালিকায় নেই?

উত্তর : জি নেই।

প্রশ্ন : এই তালিকায় মাওলানা আব্দুর রহিমের নাম আছে?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : এই তালিকায় মাওলানা মাদ্রাসার মোহাদ্দেস কতজন, মোদাসসের কতজন এবং ছাত্র কতজন?

উত্তর : আমার নোটে না থাকায় বলতে পারছি না।

প্রশ্ন : আপনার প্রদত্ত তথ্য মতে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ১৯৭১ সালে মোহাদ্দেস, মোদাসসের, ছাত্র কোনোটাই ছিলেন না?

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : মহকুমা রাজাকার প্রধান মানিক খন্দকারের শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্ক আপনি তদন্ত করেছেন? তিনি কি আনসার বাহিনী থেকে এসেছিলেন?

উত্তর : আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ পিরোজপুর জেলা কমান্ড থেকে আপনি তালিকা সংগ্রহ করেছেন?

উত্তর : জি, সংগ্রহ করেছি। তবে প্রদর্শনী করি নাই। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে তালিকাটি সংগ্রহ করেছি।

প্রশ্ন : এই তালিকায় রাজাকারের নামের মধ্যে দেলোয়ার সিকদার পিতা রসুল সিকদার আছে?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : আপনি জিয়ানগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মাধ্যমে আরেকটি তালিকা সংগ্রহ করেছেন?

উত্তর : জি।