|
|
বর্জ্য আর দখলের কারণে ক্যানেলগুলোতে পানি সরবরাহের পথ রুদ্ধ
ভারি বর্ষণে ডিএনডির নিচু এলাকা তলিয়ে গেছে -সংগ্রাম
কামাল উদ্দিন সুমন : ভারি বর্ষণে ডিএনডির প্রায় এলাকায় পানিবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে নিচু এলাকার রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে আছে। আবার এসব এলাকার কোনো কোনো বসত বাড়িতে প্রবেশ করেছে বৃষ্টির পানি। ডিএনডি নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী কয়েক লাখ মানুষের দুর্ভোগ চরম আকারে বেড়েছে। ঘরের ভেতর পানি, বেহাল রাস্তাঘাট, পানির সংকট, লোডশেডিং সব মিলিয়ে নাকাল দশা এলাকায় বসবাসকারী মানুষের ।
সূত্র জানায়, ডিএনডি এলাকায় প্রায় ১০ লাখ মানুষের বাসবাস। ক্যানেলগুলো ময়লা-আবর্জনায় ভরে যাওয়ায় পানি প্রবাহে বাধা তার ওপর নিম্ন এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই, আর এ কারণে সামান্য বৃষ্টিতে ডিএনডির নিচু এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়। ভারি বর্ষণের কারণে পাড়া-মহল্লার সংযোগ সড়কে হাঁটু পানি আবার নিচু এলাকার অনেক বাড়িঘরে পানি ওঠেছে। টানা বর্ষণ হলে এবারো ভায়বহ পানিবদ্ধতার কবলে আটকা পড়বে ডিএনডির সাধারণ মানুষ। এখানকার লোকজনের জীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। কোনো কোনো স্থানে পয়ঃনিষ্কাসন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। ডিএনডি এলাকায় বসবাসকারী অসংখ্য মানুষের জীবনে দেখা দিয়েছে চরম বিড়ম্বনা। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ডিএনডির কদমতলী, শ্যামপুর, ডেমরা, দনিয়া, রায়েরবাগ, মাতুয়াইল , দেলপাড়া, খালপাড়, চিতাশাল, কুসুমবাগ, গোলাপবাগ, নূরবাগ, শাহীবাজার, নয়ামাটি, বউবাজার, নাককাটার বাড়ি, নন্দলালপুর, দেলপাড়া টাওয়ার পূর্বপাড়া, তক্কার মাঠ, রামারবাগ, লামাপাড়া, নিশ্চিন্তাপুর, রসুলপুর, ভুইগড়, মামুদপুর, মাদবর বাজার, রঘুনাথপুর, তুষারধারা, গিরিধারা, মাতুয়াইলসহ প্রায় এলাকার রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
সূত্র জানায়, প্রতিবছর এ সময় এসব এলাকায় ভয়াবহ পানিবদ্ধতা দেখা দেয়। আগে পুকুর কিংবা খালে পানি নেমে গেলেও এখন পুকুর ভরাট করে বাড়িঘর নির্মাণ করার কারণে এ সমস্যা সমাধান সম্ভব হয় না। দিন দিন এ সমস্যা বেড়েই চলছে। স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করে জানান, ডিএনডি এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে শিল্পকারখানা । এছাড়া পানি নিষ্কাশনের পথ না রেখেই বাড়িঘর নির্মাণ করার কারণে সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়।
শাহীবাজার এলাকার গৃহবধূ আসমা সুলতানা জানান, সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ার কারণে দুর্ভোগে কষ্ট বেড়ে গেছে। রান্না করা এবং টিউবওয়েল থেকে বিশুদ্ধ পানি তোলা সম্ভব হচ্ছে না এছাড়া পয় নিষ্কাসন সমস্যা প্রকট আকারে দেখা দিয়েছে।
তুষারধারা এলাকার ব্যাংক কর্মকর্তা সুলতানুজ্জামান জানান, বর্ষাকাল ডিএনডি এলাকার জন্য অভিশাপ হয়ে আসে। পানি নিষ্কাসনের জন্য অনেকে ড্রেন নির্মাণ না করেই বাড়িঘর তুলেছে যার ফলে বৃষ্টির পানি সরতে পারে না। এ কারণে ছোট ছোট সড়কেও পানি জমে যায়। মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।
সূত্র জানায়, এক সময় ইরি ধান চাষের জন্য ডিএনডি প্রকল্প চালু করলেও নিয়মনীতি না মেনে এ প্রকল্পে ঘরবাড়ি তুলতে থাকে মানুষ। যে যেভাবে পারছে বাড়িঘর তুলছে। এছাড়া ডিএনডি ক্যানলে শিল্প কারখানার বর্জ্যে ভরে যাওয়ায় পানি প্রবাহের পথ অনেকটা বন্ধ হয়ে থাকে। এমনকি এ ক্যানেল দখল করে গড়ে তোলা হয় পাকা দোকান ঘর।
সূত্র জানায়, সরকার এর আগে ডিএনডির পানিবদ্ধতা নিরসনে ১২ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। একদিকে উচ্ছেদ চলে অন্যদিকে দখল কাজ চালিয়ে যায় দখলদাররা। ক্যানেলগুলো দখল করে গড়ে তোলে পাকা ঘর। এছাড়া পানি নিষ্কাসনের পথে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করে অনেকে। এসব দখলদারের কারণে পানি চলাচলের পথ রুদ্ধ করে থাকে।
কুতুবপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার জাহাঙ্গীর আলম জানান, ডিএনডি এলাকার মূল সমস্যা পানিবদ্ধতা। এর স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় প্রতিবছর বর্ষকালে জনদুর্ভোগসৃষ্টি হয়। আর এবারও ভারি বর্ষণে নিচু এলাকায় পানি জমে মানুষের কষ্ট বেড়ে গেছে।

