Quantcast
ঢাকা, বুধবার 18 July 2012, ৩ শ্রাবণ ১৪১৯, ২৭ শাবান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ১২৮ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

মানববন্ধনে সাংবাদিকনেতৃবৃন্দ

অবিলম্বে সাগর-রুনি হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা না হলে ঈদের পর বৃহত্তর আন্দোলন

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএফইউজে, ডিইউজে, জাতীয় প্রেস ক্লাব ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির যৌথ উদ্যোগে সাগর-রুনিসহ সকল সাংবাদিক হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : ঈদের আগে সাগর-রুনি হত্যাকারীদের গ্রেফতার করার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। অন্যথায় ঈদের পর সারা দেশে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি পালন করা হবে, তখন এ আন্দোলন জনগণের আন্দোলনে পরিণত হবে বলে তারা ঘোষণা দিয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সাগর-রুনিসহ সকল হত্যাকান্ডের বিচার করা, পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপত্তা প্রদান, সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধ করা ও মুক্ত স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে নেতৃবৃন্দ এ ঘোষণা দিয়েছেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), জাতীয় প্রেস ক্লাব ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বিএফইউজে সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, মহাসচিব শওকত মাহমুদ, ডিইউজে সভাপতি আব্দুস শহীদ, ওমর ফারুক, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, ডিইউজে সাধারণ সম্পাদক শাবান মাহমুদ, ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইশারফ হোসেন ইসা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু।

সভাপতির বক্তব্যে ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, গত পাঁচ মাস যাবত সাগর-রুনির হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে সাংবাদিকরা আন্দোলন করছে। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়ীদের  গ্রেফতাদের নির্দেশ দেয়ার পরও কোন অদৃশ্য শক্তির কারণে আইনশৃক্মখলা বাহিনী তাদের গ্রেফতার করছে না। তা আমরা জানতে চাই।’’

সাংবাদিকদের ঐক্যে যারা ভাঙন ধরাতে চায় তাদের হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, একদিন না একদিন সত্য  প্রকাশ পাবে। যারা বেঈমানী করবে তারা ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।

মাহফুজুর রহমানের ক্ষমা চেয়ে বক্তৃতাকে স্বাগত জানিয়ে ইকবাল সোবহান বলেন, শুধু ক্ষমা চাইলেই হবে না, কাজে প্রমাণ দিতে হবে। আমাদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে তার চ্যানেলগুলোতে ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্ট প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে সকল তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। যারা সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেছিল তাদের ক্ষমা চাইতে হবে।

রুহুল আমীন গাজী বলেন, দিন দিন সাংবাদিক নির্যাতন বেড়েই চলছে। বেনাপোলে কামালকে হত্যা করা হয়েছে, হবিগঞ্জে জুনায়েদকে হত্যা করে ২০ টুকরা করা হয়েছে। অথচ এসব হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না। ডিবি পুলিশ সুমনকে ধরে নিয়ে নির্যাতন চালিয়েছে। ডিবি পুলিশের আত্মীয়ের কাছে সাগর-রুনির বাসার দারোয়ানের মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। তাকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া না হলে পুলিশের ওপর মানুষের আস্থা থাকবে না।

তিনি বলেন, আমাদের এ আন্দোলন সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য, মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য ও মৌলিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন। মাহফুজুর রহমানের এটিএন বাংলার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান সবাইকে বর্জন করার আহবান জানিয়েছিলাম। আমাদের আহবানে সাড়া দিয়ে যারা সেখানে যাননি তাদের ধন্যবাদ জানাই। তবে দু'জন সম্পাদক সেখানে গিয়েছিলেন। একজনের চাকরি আছে আর একজনের চাকরি নেই। এর মধ্যে একজন সাবেক সম্পাদক আছেন তিনি যেখানে টাকা দেখেন সেখানেই ঘুরে বেড়ান। এদের বয়কট করতে হবে। প্রয়োজনে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে। দালালী করে আন্দোলন দমানো যাবে না বলে তিনি ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, সাগর-রুনি হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলতেই থাকবে। সাগর রুনি হত্যার বিচারের বাইরে আমরা কিছু বুঝি না। সিডি চুরি হয়েছে বলে মাহফুজুর রহমানের পক্ষ থেকে জিডি করা হয়েছে। হঠাৎ করে সিডি চুরি হলো কেন? মাহফুজুর রহমানের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত না নিলে রমযান ও ঈদের পর এই আন্দোলন আরো তীব্র থেকে তীব্রতর হবে। কেউ দালালি করে এই আন্দোলনে ভাঙন ধরাতে পারবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন।

শওকত মাহমুদ বলেন, আমরা আর স্মারকলিপি দিতে চাই না, খুনীদের গ্রেফতার দেখতে চাই। ঈদের আগে খুনিরা গ্রেফতার না হলে, ঈদের পর বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সারাদেশের সাংবাদিকের নিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচি দেয়া হবে। তখন এ আন্দোলন সারা দেশের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে যাবে।

তিনি বলেন, ডিবি পুলিশ এর আগেও অনেক সাংবাদিককে নির্যাতন করেছে। সম্প্রতি জাস্ট নিউজের সাংবাদিক সুমনকে ডিবি কার্যালয়ে তিনদিন আটকে রেখে নির্যাতন করেছে। পরে তাকে চুরি মামলায় আদালতে হাজির করলে আদালত তাকে জেলে পাঠিয়েছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। ডিবি পুলিশের নির্যাতন বন্ধ না হলে ডিবি পুলিশের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া  হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সাংবাদিক নির্যাতন নিয়ে মানবাধিকার কমিশন কোন কাজ না করায় তিনি কমিশনের সমালোচনা করেন।

আবদুস শহীদ বলেন, মাহফুজুর রহমান নিজেই আপত্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন, আন্দোলনকে ভিন্নখাতে নিতে হামলা পরিচালনা করেছেন। তাকে এনিমি অব প্রেস ঘোষণা করা হয়েছে। সুশীল সমাজের কেউ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তাকে অভিনন্দন জানাতে যাননি। কিন্তু দু'একজন সম্পাদক গিয়েছেন। তাদের একজন হাইব্রীড সম্পাদক। দালালী করে কেউ সফল হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।