|
|
রাবি ছাত্র নিহত হবার ঘটনায় মামলা দায়ের
রাজশাহী অফিস ও বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল্লাহ আল হাসান সোহেল নিহতের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোহেল হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতা তুহিনসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদিকে ভিসির পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম।
গত সোমবার সন্ধ্যায় ভিসি প্রফেসর আব্দুস সোবহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। রাত পৌনে ৯টায় সভা শেষে কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর গোলাম কবিরকে আহবায়ক করে গঠিত এই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন-সিন্ডিকেট সদস্য ডা. রুস্তম আলী, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মুন্সী মঞ্জুরুল হক, শের-ই-বাংলা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক জাফর সাদিক ও আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক বিশ্বজিৎ চন্দ। কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে ঘটনার তদন্ত করে উল্লিখিত ঘটনার কারণ অনুসন্ধানসহ দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণ ও যথাযথ শাস্তির সুপারিশ করে প্রতিবেদন প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হয়। সভায় ১৪ সিন্ডিকেট সদস্যের মধ্যে ১০জন উপস্থিত ছিলেন।
পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে রাবি ছাত্রলীগের দু'পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ছাত্রলীগ কর্মী সোহেল হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতা তুহিনসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে নগরীর মতিহার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করে। থানা সূত্র জানায়, সোহেল হত্যার ঘটনায় মামলা হলেও এখনো কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। পুলিশ আসামীদের ধরতে তৎপর রয়েছে।
এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল মঙ্গলবার থেকে ভিসির পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম। ছাত্রলীগের দু'পক্ষের সংঘর্ষে নিহত সোহেল হত্যার বিচার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ ভিসির পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে রাবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম। গতকাল বেলা ১১টার দিকে সোহেল হত্যার বিচার দাবিতে মৌন মিছিল শেষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনের সামনে আয়োজিত সমাবেশে শিক্ষকেরা এ দাবি জানান। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ভবনের সামনে থেকে সোহেল হত্যার প্রতিবাদ, হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ ‘দুর্নীতিবাজ' ভিসির পদত্যাগ দাবিতে একটি মৌন মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে প্রশাসন ভবনের প্রধান ফটকের সামনে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। এতে ফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রফেসর ড. শামসুল আলম সরকার বলেন, ‘‘বর্তমান ভিসি স্বেচ্ছায় ৭৩'র আইনের পরিপন্থী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। সোহেল হত্যা তদন্তের জন্য সিন্ডিকেটে দলীয় লোকদের তদন্ত কমিটির সদস্য করেছেন। এ কমিটি থেকে কখনো নিরপেক্ষ তদন্ত আশা করা যায় না।’’ তিনি বলেন, ‘‘বর্তমান প্রশাসনের সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চারজন ছাত্র নৃশংস হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে। ভিসির মদদেই সোহেল হত্যা হয়েছে। কারণ তিনিই পদ্মা সেতুর চাঁদা তোলার দায়িত্ব ছাত্রলীগকে দিয়েছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। আমরা এ ভিসিকে আর চাই না। আমরা অবিলম্বে এ ভিসির পদত্যাগ চাই।’’ একই দাবিতে আজ বুধবার শিক্ষকরা সকাল ১০ থেকে ১১ টা পর্যন্ত কর্মবিরতি ও কালো ব্যাচ ধারণ কর্মসূচি পালন করবেন। তাদের দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী সময়ে তারা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে জানান শিক্ষকেরা। সমাবেশে ইসলমী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর মু. রফিকুল ইসলাম, সাদা দলের আহবায়ক প্রফেসর মু. আজাহার আলী, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আমজাদ হোসেনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের শতাধিক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও তাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ ভিসির পদত্যাগ দাবি করেছেন। ভিসি পদত্যাগ না করলে তারা আন্দোলনে যাবেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন।

