|
|
টঙ্গী শাখা তৃতীয় এবং পঞ্চম স্থানে রয়েছে মহিলা শাখা
স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত আলিম পরীক্ষায় এবারও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা মূল ক্যাম্পাস। একইভাবে তামীরুল মিল্লাতের আরো দুটি শাখা যথাক্রমে তৃতীয় ও পঞ্চম হয়েছে। ত্রিমুখী সমন্বয়ের কারণেই এই সফলতা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদীন। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবার তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা মূল ক্যাম্পাস থেকে ৪৭২ শিক্ষার্থী আলিম পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ (এ+ পেয়েছে ২২২ জন। জিপিএ ৪ (এ) পেয়েছে ১৮৯ জন। বাকি ৬১ জন পেয়েছে জিপিএ ৩ দশমিক ৫০। শতভাগ পাস করে মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের সেরা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে এই দ্বীনি প্রতিষ্ঠানটি।
তামীরুল মিল্লাত ট্রাস্ট পরিচালিত দ্বিতীয় শাখাটি ঢাকার অদূরে টঙ্গীতে অবস্থিত। এবার এই শাখা থেকে আলিম পরীক্ষায় অংশ নেয় ৪২৮ পরীক্ষার্থী। এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে (এ+) ২১০ জন। ১৬৭ জন পরীক্ষার্থী পেয়েছে জিপিএ ৪ পয়েন্ট। বাকি ৪০ জন শিক্ষার্থী পেয়েছে এ-। তাদের পরিচালনাধীন একমাত্র মহিলা শাখা থেকে (মাতুয়াইল) এবার ৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৬ জন। জিপিএ ৪ পয়েন্ট পেয়েছে ৩৪ জন। বাকিরা পেয়েছে (এ-)।
১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই দ্বীনি প্রতিষ্ঠানটি ইসলাম প্রচারে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রতিবারের মতো এবার মেধা তালিকার শীর্ষে রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটি। আধুনিক এবং ইসলাম শিক্ষার সমন্বয়ে এই প্রতিষ্ঠানটি জাতিকে পথ দেখাচ্ছে।
ফলাফল পেয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় অধ্যক্ষ যাইনুল আবেদীন বলেন, পরিশ্রম করলে তার সুফল অবশ্যই পাওয়া যায়। তামীরুল মিল্লাত তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ভালো ফলাফলের পেছনে কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বছরের শুরুতে ছাত্র/ছাত্রীদের মেধা যাচাই করতে একটি পরীক্ষা নেয়া হয়। তাতে ছাত্রদের দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করা হয়। সেই আলোকে শিক্ষক এবং অভিভাবকদের নির্দেশনা দেয়া হয়। কোন বিষয়ে দুর্বল থাকলে সেই বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে বিশেষ ক্লাস নেয়া হয়। প্রতি তিন মাস অন্তর অভিভাবকদের তার সন্তান সম্পর্কে জানানো হয়। তাছাড়া ছাত্র-শিক্ষক এবং অভিভাবকদের নিয়ে মতামত সভার ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে সকল ছাত্র/ছাত্রীর অবস্থা অভিভাবক ও শিক্ষকরা জানতে পারে। এভাবে ত্রিমুখী সমন্বয়ে সফলতা আনা সম্ভব।
তিনি আরো বলেন, দ্বীনি তালিম, আদর্শিক ও নৈতিক শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতি সভ্য হতে পারে না। একটি সুন্দর স্বচ্ছ আদর্শ সমাজ গঠনে ছাত্র-শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। এই সফলতার জন্য তিনি ট্রাস্ট গবর্নিং বর্ডির সকল সদস্য শিক্ষক ও অভিভাবক এবং এলাকাবাসীকে অভিনন্দন জানান।

