Quantcast
ঢাকা, বৃহস্পতিবার 19 July 2012, ৪ শ্রাবণ ১৪১৯, ২৮ শাবান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ১৬৬ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

রাজউক উত্তরা কলেজ গতবারের মতো এবারও সেরাদের সেরা

স্টাফ রিপোর্টার : গতবারের ধারাবাহিকতায় এবারও এইচএসসি পরীক্ষায় সারা দেশে সেরাদের সেরা হয়েছে রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ। বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমে ১ হাজার ১৭৬ জন পরীক্ষার্থীর সবাই কৃতকার্য হওয়ার মাধ্যমে শতভাগ পাস করার গৌরব অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। জিপিও ৫ পেয়েছে ১ হাজার ১০৬ জন। ভাল ফলাফল অর্জন করায় অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ গোলাম হোসেন সরকার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের ধন্যবাদ জানান।

গতকাল বুধবার দুপুরে টিপ টিপ বৃষ্টির মধ্যে ঘোষিত হলো ২০১২ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল। ফলাফল ঘোষণা হওয়ার সাথে সাথে আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠে রাজউক উত্তরা কলেজের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকরা ফলাফলে খুশী হয়ে মিস্টি খাওয়াতে থাকেন। হালকা বৃষ্টি মধ্যেই শিক্ষার্থীদের উল্লাস গোটা ক্যাম্পাসকে করে তুলেছে মুখরিত।

ফলাফলে দেখা গেছে, রাজউক কলেজে বাংলা মাধ্যমের বিজ্ঞান বিভাগে ৬২৪ ন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬১৩ জন, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৩৫০ জনের মধ্যে ৩৩৬ জন, মানবিকে ৯০ জনের মধ্যে ৪৬ জন, এবং ইংরেজি মাধ্যমে বিজ্ঞান বিভাগে ৮২ জনের মধ্যে ৮১ জন, ব্যবসায় ৩০ জনের মধ্যে ৩০ জনই জিপিএ ৫ পেয়েছে। কলেজের জিপিএ প্রাপ্তির শকতরা হার ৯৪ দশমিক ০৫ ভাগ। ২০১১ সালেও এইচএসসিতে কলেজটি সারা দেশে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। সেই সাথে ২০১১ সালে জেএসসি, ২০১০,২০১১ ও ২০১২ সালে টানা ৩ বছর এসএসসিতে দেশের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।

সারাদেশে ফলাফলে শীর্ষস্থান অর্জন করায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিনন্দন জানিয়েছে বলেছেন, আমাদের কলেজ বিগত তিন বছর ধরে এসএসসিতে শীর্ষস্থান অর্জন করে আসছি। এর পেছনে শিক্ষার্থীদের পরিশ্রম, শিক্ষকদের তত্ত্বাবধান ও অভিভাবকদের সচেতনতা রয়েছে। আমরা এ তিনটি বিষয়কে সমন্বয় করেছি।

তিনি বলেন, আমাদের প্রতি কোন মহলে কোন চাপ নেই। আমরা মেধা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের ভর্তি করে থাকি। কারো কোন সুপারিশে ভর্তি করা হয় না। আমাদের গবর্নিং বডির চেয়ারম্যান শিক্ষা সচিব। তিনি আমাদের নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পরীক্ষা নেয়া হয়। দুর্বল ছাত্রদের প্রতি বিশেষ তত্ত্বাবধান করা হয়। এমন কী কোন বিষয়ে খারাপ হলে শিক্ষকদের জবাবদিহি করতে হয়। শিক্ষকদের দায়বদ্ধতাও আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরো বলেন, আমরা একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি শৃংখলা ও নৈতিকতাও শিক্ষা দিয়ে থাকি। পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য ও শ্রদ্ধার বিষয়গুলোও শিক্ষা দেয়া হয়। যাতে করে পিতা মাতা ও সন্তানের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি না হয়।

কলেজের বেতনের বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে সেনাপ্রধানের ছেলেও আছে আবার চা দোকানদারের ছেলেও আছে। সবাই যখন বেতন বাড়িয়েছে আমরা তখন বেতন কমিয়েছি। আমরা গরীব ছাত্রদেরকে বৃত্তি দিয়ে পড়ালেখায় সহযোগিতা করে থাকি। এ জন্য প্রতি বছর ২৫ লাখ টাকার মতো বৃত্তি প্রদান করছি। আমাদের ডিপোজিটের আয় থেকে শিক্ষকদের বেতন দিয়ে যাচ্ছি। শিক্ষক নিয়োগেও স্বচ্ছনীতিমালা অনুসরণ করা হয় বলে তিনি জানান। ধর্ম পালন ও ধর্মীয় চেতনা উন্নত রেখেই কলেজ পরিচালনা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

ভালো ফলাফল অর্জন করে উল্লাসরত অবস্থায় কথা হয় বাংলা মাধ্যমের ছাত্রী তাহমিনা আমিন ঝুমু, ফারিহা ঝিনুক, পিয়ান তাসনিম ও নদী করিমের সাথে। তারা এ ফলাফলের জন্য আল্লাহকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি এ ফলাফলের অবদান কলেজের ২৫ ভাগ, অভিভাবকদের ২৫ ভাগ এবং নিজেদের ৫০ ভাগ বলে তারা দাবি করেন। তারা কেউ ডাক্তার,  কেউ ইঞ্জিনিয়ার ও কেউ পাইলট হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। তারা জানান, কলেজের পড়ালেখা ও কলেজের শিক্ষকদের কাছে পড়ার পর আর বাইরে কোচিং করার প্রয়োজন হয় না।

নুসরাত রহমান বিজ্ঞানে এ কলেজ থেকে জিপিএ ৫ পেয়েছে। তার পিতা লুৎফর রহমান মেয়ের ভাল ফলাফলে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, অনেক কষ্ট করে পড়ালেখা করাতে হয়েছে। এ কলেজের ভাল পড়ালেখার কারণে বাইরে কোচিং করাতে হয়নি।

আকিব আব্দুল্লাহ জিপিএ ৫ পেয়ে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। তার বাবা ডা. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও মাতা হেলালুস্সামা।  সন্তান নিয়ে পিতা মাতার ইচ্ছা পূরণ হয়েছে বলে তারা জানান।