Quantcast
ঢাকা, বৃহস্পতিবার 19 July 2012, ৪ শ্রাবণ ১৪১৯, ২৮ শাবান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৩৪৫ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

জিসাসের আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণীতে মির্জা ফখরুল

নিজেদের দুর্নীতি চাপা দিতেই প্রধানমন্ত্রী বিপ্লবী নেতার সুরে বক্তব্য দিচ্ছেন

গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সংস্কৃতি ও শহীদ জিয়া শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য পেশ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : দুর্নীতি ছাড়া আ'লীগ চলতে পারে না মন্তব্য করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নিজেদের দুর্নীতি চাপা দিতেই সরকার এখন দেশের অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের ‘হজুগ' তুলে চাঁদাবাজির পথ খুলে দিয়েছে।  এ সরকার যত কথাই বলুক না কেন সেতুর দুর্নীতি ও পরবর্তীতে চাঁদা তোলার সময় রাবিতে ছাত্র নিহতের দায়-দায়িত্ব সরকার কোনোভাবেই এড়াতে পারবে না। তিনি বলেন, মন্ত্রী আবুল হোসেনকে বাঁচাতে সরকার দেশের ওপর কলঙ্ক লেপন করেছে। এখন সেই দুর্নীতিকে ঢাকতে বিপ্লবী নেতার সুরে প্রধানমন্ত্রী বলছেন, আমরা কোনোদিন অন্যায়ের কাছে মাথা নত করিনি, করব না। মনে করেছেন, এসব বিপ্লবী কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে।  দেশের মানুষকে এত বোকা ভাবলে ভুল করবেন।

গতকাল বুধবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন-জিসাস'র উদ্যোগে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী সংস্কৃতি ও শহীদ জিয়া' শীর্ষক আলোচনা সভা ও শিশু-কিশোরদের মধ্যে ‘নতুন তারার সাংস্কৃতিক পদক' বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জিসাসের সভাপতি আবুল হাশেম রানা। আরও বক্তব্য দেন কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিশ্ব ব্যাংক গতকালও (মঙ্গলবার) বিবৃতিতে বলেছে, ১০ মাস আগে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু সরকার কোনো কিছুই করেনি। সর্বশেষ প্রতিষ্ঠানটির ইনটিগ্রিটি ডিপার্টমেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট ঢাকায় এসে সরকার প্রধানসহ সবার সঙ্গে আলোচনা করে বলেছিলেন, দয়া করে দুর্নীতির অভিযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। কিন্তু সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী, সচিব ও প্রকল্প পরিচালকসহ দুইজন নিকটতম ব্যক্তিকে রক্ষার স্বার্থে সরকার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই বিশ্বব্যাংক তাদের ঋণ দেয়া প্রত্যাহার করেছে।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, নিজেদের অর্থায়নে পদ্মাসেতু করার ঘোষণা দিয়ে সরকার চাঁদাবাজির লাইসেন্স তুলে দিয়েছে তার দলের নেতাকর্মীদের হাতে। সারাদেশে এখন চলছে চাঁদাবাজির মহোৎসব। চাঁদার টাকার ভাগ নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছে। এই হত্যার দায় সরকার কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। তিনি বলেন, দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ করুন, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে পদ্মাসেতু শুরু করুন।

সরকারের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জাতীয় সংসদকে একদলীয় সংসদে পরিণত করেছে। বিচার বিভাগ ও প্রশাসনে দলীয় লোকজনকে বসিয়েছে। তারা দেশকে একদলীয় শাসনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। বিরোধী দলকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে গুম-হত্যাসহ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিচ্ছে। 

তিনি বলেন, আমরা কথা বললেই প্রধানমন্ত্রী বলে ওঠেন, আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাতে কথা বলছি। কী সুন্দর প্রধানমন্ত্রীর কথা। সরকার মানুষ হত্যা করবে, গুম করবে, শেয়ারবাজার থেকে কোটি কোটি টাকা চুরি করবে, কিন্তু কোনো কথা বলা যাবে না। সরকারের মন্ত্রীরা আবোল-তাবোল কথা বলছেন। মির্জা ফখরুল বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, খুন, দুর্নীতিসহ নানা কারণে মানুষের মধ্যে স্বস্তি নেই। তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের ভোটারাধিকার ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সবাইকে লড়াই করতে হবে।

তিনি বলেন, এ সরকারের আমলে ১৩০ জনকে গুম করা হয়েছে। বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর মেয়ে সাইয়ারা নাওয়ালকে বলা হয়েছিল তার বাবাকে ফিরিয়ে আনা হবে। কিন্তু তিন মাসেও তা হয়নি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকার ইতিহাস বিকৃত করে জিয়াউর রহমানের সুনাম নষ্ট করে অপপ্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু জিয়া এ জাতির ধ্রুব তারা। মিথ্যাচার করে জিয়াকে ইতিহাসের খলনায়ক বানানো যাবে না। তিনি স্বাধীনতার ঘোষক ও গণতন্ত্রের মহানায়ক।