|
|
অসত্য প্রমাণ হবে না বলেই ফয়জুর রহমানের স্ত্রী ছেলে মেয়েদের আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি
শহীদুল ইসলাম : মুক্তিযুদ্ধের ওপর তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত এবং কবি হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র বইয়ের পিরোজপুর অংশে রাজাকার, শান্তিকমিটি বা স্বাধীনতাবিরোধীদের যে বর্ণনা ও তালিকা রয়েছে তাতে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নাম নেই। মুক্তিযুদ্ধের পিরোজপুর অঞ্চলের সাব সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউদ্দিন লিখিত সুন্দরবনের সেই উন্মাতাল দিনগুলো বইতেও রাজাকার বা স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকায় মাওলানা সাঈদীর নাম নেই। পিরোজপুরের তৎকালীন এসডিপিও ফয়জুর রহমানকে হত্যার ব্যাপারে তা স্ত্রীর দায়েরকৃত মামলার আসামীর তালিকায় মাওলানা সাঈদীর নাম নেই। এমনকি দালাল আইনে পিরোজপুরের একজনের হত্যাকান্ডের মামলায় ২৭৯ জন স্বাধীনতাবিরোধীকে আসামী করা হয়েছিল। তাতেও সাঈদীর নাম নেই। মিথ্যা অভিযোগ প্রমাণ হবে না বিধায় এসডিপিও ফয়জুর রহমানের পরিবারের কাউকে আদালতে হাজির করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী এডভোকেট মিজানুল ইসলাম। বিশ্ববরেণ্য মোফাসসিরে কুরআন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আনীত ১৯৭১ সালের কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনকে গতকাল বুধবার দিনভর জেরা করা হলে বেরিয়ে আসে এসব তথ্যসহ মিথ্যার বেসাতির নানা তথ্য। তবে এসব অসঙ্গতি যখনই বেরিয়ে আসে তখনই সরকার পক্ষ আপত্তি দিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হওয়ার কারণে বার বার জেরা থমকে যায়। বিচারপতি নিজামুল হক, বিচারপতি আনোয়ারুল হক এবং এ কে এম জহির আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ গতকাল সকাল ১১টা থেকে ১টা এবং ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত জেরা করা হয় হেলাল উদ্দিনকে। আজ বৃহস্পতিবার পুনরায় তার জেরা অনুষ্ঠিত হবে।
গতকাল জেরায় এডভোকেট মিজানুল ইসলামকে সহায়তা করেন এডভোকেট মনজুর আহমেদ আনসারী, এডভোকেট কফিল উদ্দিন চৌধুরী ও ব্যারিস্টার তানভীর আল আমিন। গুরুতর অসুস্থ মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর অনুপস্থিতিতে গতকালও চলে এই বিচার প্রক্রিয়া।
তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনকে গতকাল বুধবারের জেরার বিবরণ নিম্নরূপ :
প্রশ্ন : এই মামলার তদন্তকালীন সময়ে তদন্ত সংস্থার প্রধান ছিলেন আব্দুর রহিম?
উত্তর : প্রথম দিকে তিনি ছিলেন। পরে আরেকজন হয়েছেন।
প্রশ্ন : তদন্তকালীন সময়ে আপনি তদন্ত সংস্থার কার্যালয় থেকে মামলা সংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র গ্রহণ করেছেন?
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : তদন্ত সংস্থার প্রধান বরাবর পিরোজপুর জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের ২৫/০১/২০১১ তাং, স্মারক নং- ৪৪/২৫/১/২০০১ তারিখের ৩৪৪.০০৬.০৭.০৪.০১২.২০১০/৭৬ প্রেরিত প্রতিবেদন আপনি সংগ্রহ করেছেন?
উত্তর : জি, আমি সংগ্রহ করেছি, তবে প্রদর্শনীতে আনি নাই।
প্রশ্ন : এই প্রতিবদনে জিয়ানগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মাহবুবুল আলম স্বাক্ষরিত একটি প্রতিবেদনও আছে যাতে জিয়ানগরের তথ্য-উপাত্ত আছে?
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : এই প্রতিবেদনের ৩নং ক্রমিকে লেখা আছে যে, জিয়ানগর উপজেলায় কোনো বীরাঙ্গনা নেই?
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : এতে মুক্তিযোদ্ধা এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা আছে। ১১নং ক্রমিকে মোকাররম হোসেন পিতা এ এম হাসান মিয়া, ঠিকানা পাড়েরহাট বলে একজন মুক্তিযোদ্ধার নাম আছে?
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : ৫ (খ)-তে আছে জিয়ানগর উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধকালে অগ্নিসংযোগে কোনো হাট-বাজার ব্রিজ-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি?
উত্তর : জি, আছে।
প্রশ্ন : ক্রমিক-৬-এ রাজাকারের যে তালিকা আছে তাতে ৬৭ জন আছে।
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : জিয়াগনর উপজেলায় আল বদর, আল শাসম বাহিনীর কোনো সদস্য ছিল না?
উত্তর : জি, লেখা আছে।
প্রশ্ন : ৬ (ক)-এর পরে চিহ্ন দিয়ে বলেশ্বর বেদীতে গুলী করে হত্যা করা ব্যক্তিদের ২৬ জনের নাম আছে?
উত্তর : জি, আছে।
প্রশ্ন : এই তালিকার ১ নং ক্রমিকে বিসা বালী পিতা- ললিত বালী, সাং- ওমেদপুর, উপজেলা- জিয়ানগর, জেলা- পিরোজপুর উল্লেখ আছে?
উত্তর : জি, আছে।
প্রশ্ন : ওমেদপুর গ্রামে পাক আর্মি ও তাদের সহযোগী কর্তৃক একাধিক বিসা বালীকে হত্যার কোনো তথ্য পাননি?
উত্তর : জি। তবে এই বিসা বালী পিতা মৃত ললীত বালীকে ওমেদপুরে তার নিজ বাড়িতে নিহত হয়েছে বলে তদন্তে পাওয়া গেছে।
প্রশ্ন : ২৬ নং ক্রমিকে ইব্রাহিম কুট্টি পিতা গফুর শেখের নাম উল্লেখ আছে। ঠিকানার কলামে ‘গ্রাম- বাদুরা, উপজেলা ও জেলা- পিরোজপুর। তার শ্বশুরবাড়ি পাড়েরহাট নলবুনিয়া থেকে ধরে নিয়ে পাড়েরহাট বন্দরের পোলের নিকট খালের পাড়ে গুলী করে হত্যা করে মর্মে উল্লেখ আছে?
উত্তর : জি। তবে এই ইব্রাহিম ওরফে কুট্টিকে চিতলিয়া গ্রামের মানিক পসারীর বাড়ি থেকে পাক আর্মিরা ধরে নিয়ে পাড়েরহাট পোলের ওপর গুলী করে হত্যা করা হয় বলে আমার তদন্তে পেয়েছি। (ডিফেন্সের আপত্তিসহ)।
প্রশ্ন : ৪টি রাজাকারের তালিকা আপনার সংগ্রহে আছে। তাতে ৪টার মধ্যে সংখ্যাগত কোনো মিল নেই?
উত্তর : জি, মিল নেই।
প্রশ্ন : প্রদর্শনী-৩৫ মূলে যে পিরোজপুর জেলা রাজাকারের তালিকা দিয়েছেন তাতে মোসলেম মওলানা, রাজ্জাক রাজাকার, সেকান্দার সিকদার, মোমিন কারিদের নাম নেই?
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : ঐ তালিকায় দেলোয়ার সিকদার পিতা রসুল সিকদার নাম নেই?
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : বাকেরগঞ্জ জেলা রাজাকার এডজুটেন্ট কে ছিলেন?
উত্তর : আমার জানা নেই।
প্রশ্ন : মুক্তিযুদ্ধকালে বাকেরগঞ্জ জেলার এসপি কে ছিলেন?
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : মুক্তিযুদ্ধকালে বাকেরগঞ্জে পুলিশের বিশেষ শাখার প্রধান কে ছিলেন?
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে পুলিশের বিশেষ শাখা এবং জেলা পুলিশ প্রধান কি একই ব্যক্তি ছিলেন না ভিন্ন ব্যক্তি ছিলেন?
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : স্বাধীনতাযুদ্ধকালে আব্দুর রাজ্জাককে হত্যার পর এসডিপিওর দায়িত্ব কে নিয়েছিলেন?
উত্তর : আমার রেকর্ডে নেই।
প্রশ্ন : মুক্তিযুদ্ধকালে পিরোজপুরের এসডিও, এসডিপিও এবং পিরোজপুর থানার ওসি কে ছিলেন?
উত্তর : এটা আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে যুদ্ধ শুরুর পর পরই পিরোজপুর থানার ওসি কে ছিলেন?
উত্তর : তোফাজ্জল হোসেন।
প্রশ্ন : তিনি টিঠি লিখে ফয়জুর রহমান সাহেবকে কাজে যোগদান করতে অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : এসডিপিও ফয়জুর রহমান সাহেবের হত্যাকান্ডের পরে তার বাড়িও লুটপাট করা হয়েছিল। তদন্তকালে আপনি এই তথ্য পেয়েছিলেন?
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : যুদ্ধ পরবর্তীকালে এসডিপিও শহীদ ফয়জুর রহমান সাহেবের স্ত্রী আয়েশা ফয়েজ তার স্বামীর হত্যাকান্ডের বিষয়ে হত্যাকারীদের সুনির্দিষ্ট নাম উল্লেখ করে মামলা করেছিলেন। এটা আপনি তদন্তকালে পেয়েছিলেন?
উত্তর : তিনি মামলা করেছিলেন, কিন্তু আমি কোনো রেকর্ডপত্র পাইনি।
প্রশ্ন : ঐ মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নামে কোনো অভিযোগ করা হয়নি এই তথ্যটিও আপনি তার স্ত্রী আয়েশা ফয়েজ, পুত্র ড. জাফর ইকবাল এবং কন্যার কাছ থেকে পেয়েছিলেন।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : ঐ মামলার কপি সংগ্রহের জন্য আপনি পিরোজপুর থানাকে কোনো চিঠি দিয়েছিলেন?
উত্তর : তদন্তকালে এ ধরনের কোনো চিঠি দেইনি।
প্রশ্ন : এই মামলার জি আর রেজিস্ট্রার পর্যবেক্ষণের জন্য কোর্টে গিয়েছিলেন?
উত্তর : যেহেতু মামলার নম্বর পাইনি তাই আর ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে তথ্য সংগ্রহের জন্য যাইনি।
প্রশ্ন : পুলিশ কর্মকর্তা যখন একটি মামলা তদন্ত করেন তখন তার ৩টি কেস ডায়েরি থাকে?
উত্তর : ২টি ডায়েরি থাকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৩টি ডায়েরি থাকে।
প্রশ্ন : মামলার তদন্ত শেষে একটি কেস ডায়েরি বিচার পরিচালনাকারী অফিসার বা পিপির কাছে পাঠানো হয়। একটি সার্কেল অফিসারকে দেয়া হয়?
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : একটি মামলার এজাহার হওয়ার পর তার কপি এসপি অফিসেও পাঠানো হয়?
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : ১৯৭২ সালে এসডিপিও ফয়জুর রহমানের হত্যা মামলার এজহারের কপি চেয়ে এসপি অফিস বা সার্কেল অফিসে তথ্য চেয়ে কোনো চিঠি দিয়েছিলেন?
উত্তর : জি, না। কারণ ঐ মামলার বাদী ও তাদের ছেলে মেয়েদের আমি সন্ধান চেয়েছিলাম। তাদের কাছ থেকেই তথ্য পাব বলে আশা করেছিলাম।
প্রশ্ন : ১৯৭২ সালে পিরোজপুর মহকুমার পিআরও কে ছিল সে সম্পর্কেও আপনি কোনো অনুসন্ধান করেননি?
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : আয়েশা ফয়েজের দায়েরকৃত মামলায় সাঈদী সাহেবের নাম ছিল না, বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাবে এজন্য আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে আয়েশা ফয়েজকে এই মামলার সাক্ষী করেননি, ফয়জুর রহমানের পুত্র ও কন্যা ড. জাফর ইকবাল ও সুফিয়া হায়দারকে একই কারণে আদালতে হাজির করেননি।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : একই কারণে ঐ মামলার সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি আপনি এড়িয়ে গেছেন?
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : একই কারণে ঐ মামলার রেকর্ড (জিআর রেজিস্ট্রার) পর্যালোচনা করার পরেও তা দেখেননি বলে অসত্য বক্তব্য দিয়েছেন?
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনি পিরোজপুর আদালতে দালাল আইনে দায়েরকৃত মামলাগুলো পর্যালোচনা করেছেন।
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : একটি মামলায় আপনি ২৭৯ জন পাক আর্মির সহযোগিতার নাম পেয়েছেন।
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : দালাল আইনে দায়ের করা কোনো মামলায় সাঈদী সাহেবের নাম না থাকায় দালাল আইনের মামলার বিষয়টি পর্যালোচনা করেননি মর্মে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের পরে কতজন স্বাধীনতা বিরোধী পিরোজপুর থানায় গ্রেফতার হয়েছিল এই মর্মে পিরোজপুর থানায় আপনি রিপোর্ট চাননি?
উত্তর : এরূপ কোনো চিঠি পাঠাইনি।
প্রশ্ন : ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার গ্রেফতারকৃত স্বাধীনতা বিরোধীদের ভূমিকা মূল্যায়ন করে রিপোর্ট প্রদানের জন্য প্রত্যেক জেলায় পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে কমিটি হয়েছিল।
উত্তর : সত্য।
প্রশ্ন : পাক আর্মিরা আসার আগ পর্যন্ত এসব এলাকা ইপিআর এবং স্বাধীনতাকামীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
উত্তর : পিরোজপুরের কথা বলতে পারবো যে স্বাধীনতা ঘোষণার পর কিছুদিন স্বাধীনতাকামীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। পরে আবার পাকিস্তানপন্থীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
প্রশ্ন : বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার পর পিরোজপুরে এমএনএ এনায়েত হোসেন খান সাহেবের নেতৃত্বে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়।
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের সাথে এসডিপিও ফয়জুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত এসডিপিও শহীদ আবদুর রাজ্জাক এবং ট্রেজারী অফিসার শহীদ সাইফ মিজানুর রহমান একাত্মতা ঘোষণা করেছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করেছিলেন।
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : ২৬ মার্চ মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে পিরোজপুরের অস্ত্রাগার থেকে অস্ত্র বিতরণ করা হয়েছিল।
উত্তর : তারিখ জানা নেই। তবে অস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া হয়েছিল ২৬ মার্চের পর।
প্রশ্ন : পরবর্তীতে ৩রা মে ট্রেজারী থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের নিকট বিতরণের জন্য অর্থ নিয়ে নেয়া হয়েছিল।
উত্তর : তারিখ মনে নেই, তবে অর্থ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এটা সত্য।
প্রশ্ন : যে তারিখে অর্থ নেয়া হয় সেই তারিখ পর্যন্ত সাইদ মিজানুর রহমান ট্রেজারীর দায়িত্ব পালন করেন এবং এসডিপিও ফয়জুর রহমান ও আব্দুর রাজ্জাক স্ব স্ব দায়িত্ব পালন করেছেন।
উত্তর : তারিখ বলতে পারবো না। সাইদ মিজানুর রহমান ট্রেজারীর দায়িত্ব পালন করেছেন। বাকি ২ জন স্ব স্ব দায়িত্ব পালন করেছিলেন কি না জানি না।
প্রশ্ন : অর্থ ও অস্ত্র নেয়ার জন্য পাকিস্তান আর্মি এই ৩ কর্মকর্তাসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল।
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : এই ৩ জন কর্মকর্তাই পিরোজপুর শহর এলাকা থেকে পাকিস্তান আর্মি ও তাদের সহযোগীদের দ্বারা ধৃত ও নিহত হন।
উত্তর : সত্য।
প্রশ্ন : ৩ মে'র আগে পর্যন্ত পিরোজপুরের এসডিপিও আব্দুর রাজ্জাককে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল কি না।
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : এসডিপিও ফয়জুর রহমান ও সাইদ মিজানুর রহমানকেও সরিয়ে তদস্থলে অন্য কাউকে বসানো হয়নি।
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : পাকিস্তান আর্মি কোন তারিখে প্রথম পিরোজপুর যায় এই মর্মে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো রিপোর্ট তলব করেছেন কি না?
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন কর্তৃক প্রকাশিত পিরোজপুর জেলার ইতিহাস নামক বইটি আপনি পর্যালোচনা করেছেন কি না?
উত্তর : তদন্তকালে বইটি আমি পড়েছি।
প্রশ্ন : ঐ বইয়ে পিরোজপুর জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তি, মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বাধীনতা বিরোধীদের নাম আছে।
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের উপর পিরোজপুর অঞ্চলের সাব সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউদ্দিন আহমেদ লিখিত ‘সুন্দরবনের সেই উন্মাতাল দিনগুলো' বইটি পড়েছেন কি না?
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : তদন্তকালে মেজর জিয়াউদ্দিনের সাথে আপনি দেখা করেছেন।
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : উনার বাড়ি পিরোজপুরে এবং বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করেন।
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : পিরোজপুর সদরের পারেরহাট এলাকায় মেজর জিয়াউদ্দিনের নেতৃত্বে ৮ ডিসেম্বর প্রথম শত্রুমুক্ত হয়।
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : ক্যাপ্টেন শাজাহান ওমরের নেতৃত্বে ৮ ডিসেম্বর পিরোজপুর সদর এলাকা শত্রুমুক্ত হয়।
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : পিরোজপুর কোন তারিখে শত্রুমুক্ত হয়।
উত্তর : আমার নোট অনুসারে ১৭ ডিসেম্বর পিরোজপুর শত্রুমুক্ত হয়।
প্রশ্ন : এই তথ্য আপনাকে কে দিয়েছিল?
উত্তর : রুহুল আমিন নবীন।
প্রশ্ন : পিরোজপুর জেলার তথ্য জানার জন্য পিরোজপুর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক তদন্ত সংস্থা প্রধান বরাবর একটি ওয়েবসাইটের কথা জানিয়েছিল। www.dcpirozper.gov.bd.
উত্তর : আমার জানা আছে।
প্রশ্ন : এই ওয়েবসাইটটিতে উল্লেখ আছে যে, ৮ ডিসেম্বর পিরোজপুর শত্রুমুক্ত হয়।
উত্তর : ওয়েবসাইটটি আমি ব্রাউস করেছি। কিন্তু ৮ ডিসেম্বর পিরোজপুর শত্রুমুক্ত হয় কি না তা আমার মনে নেই।
প্রশ্ন : হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ও তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত বইটি আপনি পর্যালোচনা করেছেন।
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : এই বইয়ে এসডিপিও ফয়জুর রহমানের হত্যাকান্ড সম্পর্কে তার জামাতা এডভোকেট আলী হায়দার খান কর্তৃক লিখিত একটি বর্ণনা আছে। এটা আপনি পর্যালোচনা করেছেন?
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : এই বইয়ে পিরোজপুরের অনেক মুক্তিযোদ্ধার নাম নেই?
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : ঐ বইয়ে মাহবুবুল আলম হাওলাদারের নাম নেই?
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : ঐ বইয়ে স্বাধীনতা বিরোধীদের নাম আছে। তবে তাতে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নাম নেই?
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : ঐ বইয়ে এসডিপিও ফয়জুর রহমান, ট্রেজারার সাঈফ মিজানুর রহমান এবং ভারপ্রাপ্ত এসডিও আব্দুর রাজ্জাক সাহেবের হত্যাকান্ড এবং হত্যাকারীদের নাম উল্লেখ আছে?
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : ঐ বই আদালতে উপস্থাপিত হলে সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হবে না বিধায় আপনি বইটি পড়ার পরও আপনার নোটে নেই বলে আপনি সত্য গোপন করছেন?
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : কবর থেকে এসডিপিও ফয়জুর রহমানের লাশ তুলে জানাযা হলে তাতে ৫০ হাজার লোক উপস্থিত ছিল। ঐ ৫০ হাজারের একজনকেও আপনি সাক্ষী করেননি?
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : ঐ জানাযায় উপস্থিত ২/১ জনের নাম বলুন?
উত্তর : আছে।
প্রশ্ন : উনার পরিবারের কয়েকজনের নাম বলতে পারেন?
উত্তর : এডভোকেট আলী হায়দার ও জাফর ইকবালকে সাক্ষী করেছি।
প্রশ্ন : উনাদের বাইরে কাউকে সাক্ষী করেছেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : বলেশ্বর ঘাটে যেদিন হত্যাকান্ড ঘটে ঐ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত কাউকে সাক্ষী করেছেন?
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : সাইফ মিজানুর রহমান ও আব্দুর রাজ্জাককে ধৃত করার কোন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী আপনি তদন্তকালে পেয়েছেন?
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : যে হাসপাতাল থেকে মিজানুর রহমানকে ধরা হয় সেখানে তখনও বসতি ছিল এখনো আছে?
উত্তর : আছে।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে যাদের বসতি ছিল তারা এখন কোথায় আছে?
উত্তর : তারা এখন সেখানে নেই।
প্রশ্ন : এই তথ্য আপনাকে কে দিয়েছে?
উত্তর : স্থানীয়ভাবে তদন্ত করে জেনেছি।
প্রশ্ন : কোন ব্যক্তির নাম আপনি বলতে পারবেন?
উত্তর : জি, পারবো।
প্রশ্ন : স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র বইতে ফয়জুর রহমানের হত্যাকান্ডের তারিখ কি আছে? আপনার কথিত তারিখের সাথে মিল আছে কি?
উত্তর : ঐ বইয়ে কি লেখা আছে আমি জানি না।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে পাকিস্তান আর্মি পিরোজপুরে যাওয়ায় ৭ মে পিরোজপুর মহকুমা শান্তি কমিটি গঠিত হয়?
উত্তর : ইহা সত্য নয়।
প্রশ্ন : প্রদর্শনী-২৬, হিসেবে দেখানো হয়েছে ২৯/৩/২০১১ তারিখে আপনি বেশ কিছু পত্রিকা জব্দ করেছেন?
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : এই ক্রমিক নং- ৩-এ দৈনিক আজাদ তারিখ ৮/৫/১৯৭১ (প্রদর্শনী-২১৯) পত্রিকায় পিরোজপুর মহকুমা শান্তি কমিটি গঠিত মর্মে একটি শিরোনাম আছে?
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : এতে দেখা যায়, পূর্ব পাকিস্তানের সাবেক উজির খান বাহাদুর সৈয়দ মোহাম্মদ আফজালকে সভাপতি করিয়া পিরোজপুর মহকুমা শান্তি কমিটি গঠন করা হইয়াছে?
উত্তর : জি, খবর আছে।
প্রশ্ন : এই খবরের মধ্যে গঠিত শান্তি কমিটির সদস্যদের মধ্যে সাঈদী সাহেবের নাম আছে কি না?
উত্তর : নেই।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে দৈনিক আজাদ নিয়মিত প্রকাশিত হতো?
উত্তর : আমি জানি না।
প্রশ্ন : ঐ সংবাদে এলাকায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে মর্মে খবর আছে?
উত্তর : জি আছে।
প্রশ্ন : পিরোজপুর মহকুমার শান্তি কমিটির সদস্যদের নাম প্রকাশিত হয়েছিল এমন কোন পত্রিকা আপনি জব্দ করেননি?
উত্তর : জি, পাইনি।
প্রশ্ন : পত্রিকার মতে ১৯৭১ সালের ৭ মে পিরোজপুর মহকুমায় শান্তি কমিটি প্রথম গঠিত হয়েছে?
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : পিরোজপুরে শান্তি কমিটি গঠনের তারিখ সম্পর্কিত ভিন্ন কোন দালিলিক প্রমাণপত্র আপনার কাছে নেই?
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : পিরোজপুরে রাজাকার বাহিনী গঠনের তারিখ সংবলিত কোন দালিলিক প্রমাণ আপনার কাছে নেই?
উত্তর : জি, নেই।
প্রশ্ন : রাজাকাররা বিধিবদ্ধ আইন হওয়ার পর সরকারি কোষাগার থেকে বেতন পেত?
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেব রাজাকার বাহিনীর সদস্য হিসেবে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন তুলেছেন মর্মে কোন দালিলিক প্রমাণ আপনার কাছে আছে?
উত্তর : নাই। সংগ্রহ করতে পারি নাই কারণ ১৯৭৫-এর পরে এসব ডকুমেন্ট ধ্বংস করা হয়েছে।
প্রশ্ন : ১৯৭৫ সালে দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী পিরোজপুর বসবাস করতেন না?
উত্তর : আমার রেকর্ডে নেই।
প্রশ্ন : ১৯৭৫-এর পরবর্তী সময় বলতে আপনি কোন সময়কে বুঝিয়েছেন?
উত্তর : আমার তদন্তকালীন সময় পর্যন্ত।
প্রশ্ন : ট্রেজারীতে খবর নিয়েছেন যে ৭৫-এর পরে কোন কোন সময়ে কোন কোন কাগজ ধ্বংস করা হয় অফিস নোট সংগ্রহ করেছেন?
উত্তর : আমি পাই নাই।
প্রশ্ন : -৭৫ পরবর্তীতে কাগজপত্র ধ্বংস করা সংক্রান্তে অফিস নোট নেই কেন এই মর্মে আপনি ট্রেজারী অফিসারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন?
উত্তর : করি নাই।

