Quantcast
ঢাকা, শনিবার 21 July 2012, ৬ শ্রাবণ ১৪১৯, ১ রমযান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৩২৭ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

আরইবি'র নিয়ম ভেঙে দলীয় এমপিদের ইচ্ছায় কাজ

বিদ্যুৎ সংযোগের আশ্বাসে ১৮ লাখ গ্রাহকের সাথে আ'লীগের প্রতারণা

শাহেদ মতিউর রহমান : আগামী নির্বাচনে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে সাড়ে ৪৭ হাজার কিলোমিটার বিদ্যুতের সংযোগ লাইন নির্মাণের কথা বলে গ্রাহকদের প্রতারণা করার এক অভিনব কৌশল নিয়েছে মহাজোট সরকার। মূলত ভোটারদের আশ্বাসের ফাঁদে ফেলতেই সরকার এই পথে হাঁটছে বলেও অভিযোগ করেছেন অনেকেই। রাজনৈতিক বিবেচনায় বিদ্যুতের নতুন সংযোগ লাইন স্থাপনের এই কাজে প্রাক্কলিত ব্যয় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা ধরা হলেও এই অর্থ প্রকৃত অর্থে সঠিক পন্থায় ব্যয় হবে কিনা সেই বিষয়টি নিয়েও ইতোমধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আওয়ামী নেতৃত্বাধীন বর্তমান মহাজোট সরকার আগামী নির্বাচনকে টার্গেট করে ক্ষমতার বাকি  মেয়াদের দেড় বছর সময়ের মধ্যেই দেশের ১৮ লাখ নতুন গ্রাহককে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় নিয়ে আসার কথা বলছে। আর নতুন এই গ্রাহকদের বিদ্যুতের আওতায়  আনতে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা বাদে গোটা দেশে সাড়ে ৪৭ হাজার কিলোমিটার নতুন বিতরণ লাইন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) অধীনে নতুন এই গ্রাহকদের সংযোগ দেয়া হবে বলেও দলীয় এমপিরা স্থানীয় জনগণকে আশ্বস্থ করছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র  জানায়,  সরকারের এই  প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পাক্কলিত মোট  ব্যয় ধরা হয়েছে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা। তবে বিভিন্ন মহল থেকে এখনি অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে যে, নতুন এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে  বিতরণ লাইন নির্মাণে দুই-তৃতীয়াংশের অবস্থান ঠিক হয়েছে এমপিদের ইচ্ছা অনুযায়ী। পবিস এবং আরইবির নিয়মনীতি ভেঙে অনেক এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এতে লোকসানি পবিসগুলো আরও লোকসানের মুখে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে আরইবি'র শীর্ষ কর্মকর্তারা  অভিযোগের জবাবে বলেছেন, নিয়মের মধ্যে থেকে বিশেষ বিবেচনায় সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত জনপ্রতিনিধিদের অনুরোধ রাখার সুযোগ রয়েছে। বাকি এলাকার ক্ষেত্রে জনসংখ্যার ঘনত্ব, রাজস্ব আয় এবং ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে অগ্রাধিকার ঠিক করা হয়েছে। পবিসগুলোর নিজস্ব মাস্টারপ্ল্যানের (মহাপরিকল্পনা) ভিত্তিতে চূড়ান্ত হয়েছে প্রকল্প এলাকা।

পবিস এর একটি সূত্র জানায়, বিদ্যুতের নতুন বিতরণ লাইনকে কেন্দ্র করে কোনো কোনো এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে দ্বনেদ্বরও সৃষ্টি হয়েছে। এ সুযোগে অনেক সমিতিতে নতুন বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক ঘিরে এখন রীতিমতো বাণিজ্য চলছে। অভিযোগ, উৎকোচের বিনিময়েও ওইসব পবিসের শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রকল্প এলাকা বাছাই করেছেন। আবার এমপিদের ঘনিষ্ঠ একশ্রেণীর রাজনৈতিক নেতাও নতুন এলাকা বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনার কথা বলে মোটা অঙ্কের বাণিজ্য করেছেন। বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কের আওতায় আসবে এ আশায় অনেক জনপদের মানুষ নিজেরাও টাকা তুলে তাদের দিয়েছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে রাজনৈতিক বিবেচনায় বিদ্যুৎ এলাকা সম্প্রসারণ করা হলে তাতে প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। এতে পবিসগুলোর লোকসানের বোঝা আরও বেড়ে যাবে। বর্তমানে ৭০টি সমিতির ৬৫টিই লোকসানে চলছে। বিগত চারদলীয় জোট সরকার আমলেও একইভাবে রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যেক এমপির এলাকায় নতুন বিতরণ লাইন টানা হয়।

নতুন লাইনের জন্য গত বছরের শুরু থেকে মন্ত্রণালয় এবং আরইবিতে মন্ত্রী-এমপিদের ডিও লেটার (চাহিদাপত্র) জমা দেয়ার হিড়িক পড়ে যায়। অন্যান্য জনপ্রতিনিধিও এ জন্য এমপিদের কাছে ধরনা দেন। ডিও লেটারের চাপে রীতিমতো অস্থির হয়ে পড়েন বিদ্যুৎ বিভাগ এবং আরইবি ও পবিসের শীর্ষ কর্মকর্তারা। নিজ সংসদীয় এলাকায় বিদ্যুৎ লাইন এবং নতুন সংযোগের জন্য বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এনামুল হক এমপির কাছে যেসব মন্ত্রী-এমপি ডিও লেটার পাঠিয়েছেন তাদের সংখ্যা প্রায় ২০০। নির্বাচনী ওয়াদা পূরণ অথবা এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তারা এসব ডিও লেটার পাঠিয়েছেন।

অনেক এমপি নতুন বিদ্যুৎ বিতরণ লাইনকে ‘ভোটের দাওয়া' হিসেবে নিয়েছেন। আগামী নির্বাচনে নিজের পক্ষে ভোট টানতে বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ বিশেষ কাজে আসবে বলে তারা মনে করছেন। এ কারণে ভোটের হিসাব করে নতুন বিদ্যুৎ লাইনের এলাকা ঠিক করা হয়েছে।

সূত্রমতে, চলতি বছর ৭০টি সমিতিতে ৯ হাজার কিলোমিটার লাইন নির্মাণ হবে। এটাসহ আগামী বছর যে লাইন হবে তার বেশিরভাগই এমপিদের পছন্দের তালিকা থেকে নেয়া হয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই যাতে নিজেদের পছন্দের এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ আসে সে জন্য মরিয়া এমপিরা। বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু না হলেও অন্তত খুঁটি বসিয়ে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে চাচ্ছেন এমপিরা।

আরইবি সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী এনামুল হকের নিজ জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলতি বছর লাইন নির্মাণ হবে ২১৫ কিলোমিটার। আগামী চার বছরে এ প্রকল্পের অধীনে মোট ৭০০ কিলোমিটারের বেশি নতুন লাইন নির্মাণ হবে। এর মধ্যে সদর ও শিবগঞ্জে ২৫০ কিলোমিটার করে ৫০০ কিলোমিটার এবং গোমস্তাপুর-নাচোল-ভোলাহাটে ২০০ কিলোমিটার লাইন বসবে। আর বাগেরহাট ও নরসিংদীতে এ বছর মাত্র ২০ কিলোমিটার করে নতুন লাইন নির্মাণ হবে। গত বছর ৭০টি সমিতিতে গড়ে ১০ কিলোমিটার করে মোট ৭০০ কিলোমিটার নতুন লাইন বসানোর কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত বেশিরভাগ সমিতিই তা পারেনি। অর্থ ও সময় স্বল্পতার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।