Quantcast
ঢাকা, শনিবার 21 July 2012, ৬ শ্রাবণ ১৪১৯, ১ রমযান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৩৮৬ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

যুবদলের বিক্ষোভ সমাবেশে মির্জা ফখরুল

তত্ত্বাবধায়কের দাবি না মানলে ঈদের পর সরকারকে টেনে-হিঁচড়ে নামানো হবে

গতকাল শুক্রবার বিএনপি'র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী যুবদলের উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহাল করা না হলে ঈদের পরে হরতাল-অবরোধের মাধ্যমে এ সরকারকে টেনে-হিঁচড়ে ক্ষমতা থেকে  নামানো হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এ সরকারের হাতে দেশ ও দেশের মানুষ নিরাপদ নয়। তাই সরকারকে সরাতে হবে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের যুবদল ঢাকা উত্তরের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাহাঙ্গীরের মুক্তির দাবিতে আয়োজিত যুবদলের বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মামুন হাসানের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির  যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু এমপি, কেন্দ্রীয় অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর কমিটির সদস্য সচিব আব্দুস সালাম, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সিনিয়র সহ-সভাপতি এডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নিরব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম মিরাজ প্রমুখ।

দলীয় সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ কথা বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে আগামী নির্বাচন যদি নির্দলীয় সরকারের মাধ্যমে হয়, তাহলে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থীর জামানত থাকবে না। এ ভয়েই প্রধানমন্ত্রী আবোল-তাবোল বকছেন।

আওয়ামী মহাজোট সরকারের নিজেদের অধীনে নির্বাচন করার স্বপ্ন এদেশের গণতন্ত্রমনা মানুষ কখনোই পূরণ হতে দেবে না উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ভোটের ও ভাতের অধিকার, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যে আন্দোলন চলছে, সে আন্দোলন ঈদের পর আরো দুর্বারগতিতে শুরু হবে। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এদেশের মানুষ সে আন্দোলন সফল করবে এবং দেশে আগামীতে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করবে। তিনি বলেন, জনমত উপেক্ষা করে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিলে এ দেশের মানুষ বসে বসে আঙ্গুল চুষবে না।

মির্জা ফখরুল বলেন, পদ্মা সেতুর জন্য চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র খুনের জন্য সাজেদা চৌধুরী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে হুকুমের আসামি করে মামলা করা দরকার। কারণ সাজেদা চৌধুরীর নির্দেশের পর সারা দেশে চাঁদা তোলা শুরু হয়। আর ভিসি মহোদয় ফিতা কেটে চাঁদা তোলা শুরু করেন। তিনি বলেন, দুর্নীতির ক্ষুধার তাড়নায় সরকার পদ্মা সেতু খেয়ে ফেলেছে। শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সমন্বয়ে ঘুষ নেয়ার কারণে বিশ্বব্যাংক ঋণ চুক্তি বাতিল করেছে। আর এখন নিজস্ব অর্থায়নে সেতু করার কথা বলে সারা দেশে চাঁদাবাজি শুরু করেছে।

তিনি বলেন, বিরোধী দলকে নির্যাতন নিপীড়ন করা আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য। কারণ ৭২ থেকে ৭৫ সালে  এ দলটির বিরোধিতা করার কারণে প্রায় ৪০ হাজার তরুণ যুবককে হত্যা করা হয়েছিল। অবিলম্বে খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং যুবদল নেতা জাহাঙ্গীরসহ আটক নেতাদের মুক্তি না দিলে ঈদের পর দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, আমাদের গার্মেন্টস শিল্প, টেক্সটাইল, কৃষিসহ সকল সেক্টরই ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। সরকার দুর্নীতি করে আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার পদ্মা সেতুও খেয়ে ফেলেছে। তিনি বলেন, পিলখানা ট্র্যাজেডি থেকে শুরু করে পদ্মার দুর্নীতি পর্যন্ত সরকারের ব্যর্থতা ছাড়া কিছু খুঁজে পাওয়া যায় না। কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্লান্টের কথা বলে সেখানে লুটপাটের মহা উৎসব হয়েছে। এভাবে সর্বক্ষেত্রে তারা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।