|
|
বিডিনিউজ : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্যানেল নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবির, আন্দোলনের মুখে দুই মাস আগে যিনি সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছিলেন।
শিক্ষক ও সিনেট সদস্যদের একাংশের বিরোধিতার মধ্যে গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সিনেট অধিবেশন কক্ষে এ নির্বাচন শুরু হয়। এর আগেই ক্যাপাসে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তৈরি রাখা হয় জলকামানও।
বেলা সোয়া ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধক আবু বকর সিদ্দিক নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন। তিনি জানান, ৯২ জন সিনেট সদস্যের মধ্যে ৬৩ জন তিনজনের ভিসি প্যানেল নির্বাচনের জন্য ভোট দিয়েছেন।
এতে সাবেক ভিসি অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবির পেয়েছেন সর্বাধিক ৫০ ভোট। বর্তমান ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন ৩৫, অধ্যাপক নূরুল আলম ৩৫ এবং অধ্যাপক আফসার আহমদ ১৮ ভোট পেয়েছেন।
অধ্যাপক আনোয়ার ও নূরুল আলম সমান ভোট পাওয়ায় প্যানেলের দ্বিতীয় নামটি নির্ধারণের জন্য লটারি হয়। তাতে জয়ী হন অধ্যাপক আনোয়ার।
মোট পাঁচজন এ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিলেও রেজিস্ট্রার্ড গ্যাজুয়েট ক্যাটাগরির প্রার্থী সিনেট সদস্য শামসুল কবির খান ‘একতরফা ও অগণতান্ত্রিক' নির্বাচনের অভিযোগ তুলে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।
সিনেটের অধিবেশন শুরুর পরপরই জাকসুর সাবেক ভিপি আশরাফউদ্দিন খানের নেতৃত্বে নির্বাচন ‘বয়কট' করে বেরিয়ে আসেন ছয় জন রেজিস্ট্রার্ড গ্যাজুয়েট সিনেট সদস্য।
আশরাফউদ্দিন খান বলেন, ‘‘একতরফা এ নির্বাচন আমরা চাই না। সবার অংশগ্রহণে আমরা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন চাই।’’
এদিকে ‘বিতর্কিত ও প্রতিনিধিত্বহীন' নির্বাচনের এই দিনকে ‘কালো দিবস' হিসেবে পালনের কথা জানিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সম্মিলিত শিক্ষক পরিষদ।
আগের দিন দেওয়া আদালতের নির্দেশের প্রতি ‘শ্রদ্ধা' রেখে অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করলেও প্রশাসনিক ভবনের সামনে মুখে কালো কাপড় বেঁধে মানববন্ধন করেন তারা। বিভিন্ন দল ও মতের শিক্ষক এবং কয়েকজন সিনেট সদস্যও এতে অংশ নেন।
সিনেট অধিবেশন শুরুর পর তিন শিক্ষকের অনশন ভাঙান সিনেট সদস্য ও জাকসুর সাবেক ভিপি আশরাফউদ্দিন খান। ভিসি প্যানেল নির্বাচন স্থগিতের দাবিতে এই তিন শিক্ষক বৃহস্পতিবার অনশনে বসেছিলেন।
গত ৮ জানুয়ারি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদ ছাত্রলীগকর্মীদের হামলায় নিহত হন। ওই ঘটনার পর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের মুখে ভিসি পদ থেকে সরে যেতে বাধ্য হন অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবির। গত ১৭ মে ওই পদে নিয়োগ পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন।
নতুন ভিসি দায়িত্ব নিয়ে ভিসি প্যানেল নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করার পর ‘সম্মিলিত শিক্ষক পরিষদ' ব্যানারে নতুন করে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষকরা।
তারা বলেন, সিনেট সদস্যরা যে তিনজনের প্যানেল মনোনয়ন দেবেন, তার মধ্য থেকেই একজনকে ভিসি হিসাবে নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি। কিন্তু সিনেটের ৯২ জন সদস্যের মধ্যে ৫২ জনের মেয়াদ ইতোমধ্যে পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় ভিসি প্যানেল মনোনয়নের আগে ডিন, সিন্ডিকেট ও সিনেট নির্বাচন করা জরুরি।
তাদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি ও সিনেট সদস্য অধ্যাপক আবুল খায়ের সকালে হাই কোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। এ বিষয়ে হাই কোর্টের আদেশে বলা হয়, শুক্রবার অনুষ্ঠেয় ভিসি প্যানেল নির্বাচন ‘স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ করতে' প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক ও আশুলিয়া থানার ওসিকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে হবে।
সে অনুযায়ী সকালে সিনেট ভবন ও ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ব্যাপক পুলিশি নিরাপত্তা নেয়া হয়। তবে এক পর্যায়ে সিনেট সদস্য সদরুল আলম হারুন পুলিশি পাহারার প্রতিবাদ জানালে প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে সরে গিয়ে কিছুটা দূরে অবস্থান নেন পুলিশ সদস্যরা।
ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ‘‘পুলিশি পাহারায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট নির্বাচন অসম্ভব। হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের কারণে আমরা এসেছি।’’
নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাড়ে চার শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম।

