|
|
আহত নিরাপত্তা প্রধানও মারা গেছেন
সংগ্রাম ডেস্ক : সিরিয়ায় বুধবারের হামলায় সরকারের শীর্ষস্থানীয় দুই কর্মকর্তা নিহত হওয়ার ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ উপকূলীয় প্রদেশ লাতাকিয়া এবং তার স্ত্রী আসমা আল আসাদ পালিয়ে রাশিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন বলে খবর বেরিয়েছে।
তবে এটি নিছকই গুজব কি না তা নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অপরদিকে বুধবারে বোমা হামলায় আহত জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান গতকাল মারা গেছেন। অবশ্য গত বৃহপতিবার নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে ফাহাদ জসিম আল ফ্রেইজের শপথ অনুষ্ঠানে বাশার আল আসাদকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেখা গেছে। তবে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়নি, ওই ফুটেজটি কখন এবং কোথায় ধারণ করা হয়েছে উল্লেখ করা হয়নি।
গত বুধবার বিদ্রোহীদের হামলায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও তার ডেপুটি নিহত হওয়ার পর এটিই প্রেসিডেন্ট আসাদের প্রথম জনসমক্ষে আসা। যদিও বিরোধীরা দাবি করছে, হামলায় আসাদও আহত হয়েছেন। বিরোধী এবং পশ্চিমা কূটনৈতিক সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট লাতাকিয়া থেকেই বুধবারের ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছিলেন। এ প্রদেশটি শিয়া মুসলমানদের একটি গোষ্ঠী আলভি মতাবলম্বীদের কেন্দ্রীয় ভূমি বলে পরিচিত। সিরিয়ার ক্ষমতাসীন পরিবার এ মতের বিশ্বাসী। লাতাকিয়া শহরে পাহাড়ি এলাকায় কারদাহা প্রেসিডেন্ট আসাদের পরিবারের আদি নিবাস।
ফ্রি সিরিয়ান আর্মির একটি সূত্র জানিয়েছে, বুধবার দিবাগত রাতে আসাদের মা আনিসা মাখলুফ এবং সদ্য বিধবা বোন বুশরা তার স্বামী আসেফ শওকাতের মৃতদেহ নিয়ে ব্যক্তিগত জেট বিমানে করে লাতাকিয়ায় গেছেন। ফ্রি সিরিয়ান আর্মি দাবি করছে, তাদের সোর্স সরকারের ভেতরে থেকে তথ্য পাচার করছে।
একই সূত্র আরো জানিয়েছে, আসাদ আহত হয়েছেন। তবে গত বুধবার ন্যাশনাল সিকিউরিটি সেন্টারে হামলায় নয় বরং পরবর্তী হামলায় বলে দাবি করেছেন তিনি। সূত্র বলছে, প্রেসিডেন্ট রাজধানী দামেস্কের আল শাব প্রাসাদে ছিলেন। বৃহপতিবার দুপুরে ফ্রি সিরিয়ান আর্মি হামলা চালানোর আগেই তাকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় তাদের ভারি গোলার বর্ষণ আসাদকে বহনকারী গাড়িতে আঘাত হানে, এতে তিনি সামান্য আহত হন। এদিকে রাশিয়াতে নিযুক্ত সিরীয় রাষ্ট্রদূত রিয়াদ হাদ্দাদ ফার্স্টলেডি আসমা আল আসাদের মস্কো পালিয়ে যাওয়ার খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
আরও একজনের মৃত্যু
দামেস্কে বুধবারের বোমা হামলায় আহত সিরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান মারা গেছেন। তার মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদ পরিবেশন করা হয় সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে। দামেস্কের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত সুরক্ষিত জাতীয় নিরাপত্তা ভবনের অভ্যন্তরে এক বৈঠক চলাকালে বোমাটি বিস্ফোরিত হয়। এতে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত হন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের ঘনিষ্ঠ তিন সহযোগী। জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান হিশাম ইখতিয়ার হলেন ওই ঘটনায় মারা যাওয়া চতুর্থ ব্যক্তি। মারা যাওয়া অপর ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন সিরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
এদিকে শুক্রবারও সিরিয়ায় প্রচন্ড লড়াই অব্যাহত আছে। লড়াইয়ে সরকার বিরোধী যোদ্ধারা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লাভ করেছে বলে জানিয়েছে সিরিয়ার সরকারবিরোধী রাজনৈতিক কর্মীরা। তুরস্ক সিরিয়া সীমান্তে অবস্থিত বেশ কিছু সীমান্ত ফাঁড়ি দখল করে নেয়ার দাবি করেছে বিদ্রোহী যোদ্ধারা। এদিকে বাশারের ক্ষমতা ত্যাগের ব্যাপারে ফ্রান্সে নিযুক্ত রাশিয়ার দূতের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বাশার আল আসাদ ক্ষমতা ত্যাগ করতে ইচ্ছুক বলে সম্প্রতি মন্তব্য করেন ফ্রান্সে নিযুক্ত রাশিয়ার দূত আলেকজান্ডার অরলোভ।
গত মাসে জেনেভায় অনুষ্ঠিত সিরিয়া বিষয়ক সম্মেলনের সময় বাশার আল আসাদ ক্ষমতা ত্যাগের
ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমকে জানান অরলোভ। অরলোভ বলেন, ক্ষমতা ত্যাগের ব্যাপারে বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছিলেন বাশার আল আসাদ। ওই সময় ক্ষমতা ত্যাগের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। তবে তার মতে, এই হস্তান্তর হতে হবে সভ্য উপায়ে। এদিকে অরলোভের এ মন্তব্যের ব্যাপারে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সিরিয়া। সিরিয়ার তথ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দাবি করেছে অরলোভের ওই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

