|
|
স্টাফ রিপোর্টার : সংযম ও আত্মশুদ্ধির মাস পবিত্র রমযানুল করীমের প্রথম দিনেই বদলে যায় রাজধানীর দৃশ্যপট। রোজাদারদের অনন্য ত্যাগের কল্যাণেই এটি হয়েছে। আগের দিন চাঁদ দেখা যাওয়ায় গতকাল শনিবার থেকে রোযা রাখা শুরু করেছেন বাংলাদেশের মুসলমানরা। এদিন ভোরে সেহরী খেয়ে মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা শুরু করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। অবশ্য মাহে রমযানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় শুক্রবার দিবাগত রাতে তারাবীহ নামায আদায়ের মাধ্যমে। সকল ধরনের পানাহার বর্জন, কথাবার্তায় পরিমিতি বোধ, ইবাদত-বন্দেগীর দিকে বাড়তি মনোযোগ ও মসজিদে মসজিদে মুসুল্লী সমাগম বৃদ্ধিই বলে দেয় বছরের অন্য এগারটি মাসের চেয়ে মাহে রমযানের বিশিষ্টতা সুবিদিত। বিশ্বাসী মানুষরা এদিন ইসলামী হুকুমাত মেনে জীবনাচরণকে যেভাবে পরিচালিত করতে ব্রতী হয়েছেন সঙ্গত কারণেই বিশেষ করে দিবাভাগের চালচিত্রে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।
প্রথম রোজায় ফজর নামায থেকেই মসজিদে রোজাদার মুসুল্লীদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। সেহরী খেয়েই সুস্থ-সমর্থ পুরুষরা জামাতে নামায আদায় করতে মসজিদে ছুটে যান। অন্যান্য ওয়াক্তেও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ রাজধানীর মহল্লায় মহল্লায় মসজিদগুলোতে মুসল্লীর সমাগম ছিলো স্বাভাবিকের কয়েকগুণ বেশি। কুরআন তেলাওয়াতের মতো নফল ইবাদতের প্রতি রোজাদারদের বিশেষ মনোযোগ প্রথম দিনেই প্রতীয়মান হয়।
সাধারণ দিনে সকাল ৮টা থেকেই নগরীর দোকানপাট খুলতে থাকলেও এদিন ছিলো ব্যতিক্রম। সকাল ১১টা পর্যন্ত রাজধানীর রাস্তাঘাটও সরগরম ছিলো অপেক্ষাকৃত কম। শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় অফিসপাড়া, ব্যাংকপাড়া, আদালতপাড়া, স্টেডিয়ামপাড়ার মতো ব্যস্ত এলাকাগুলো অনেকটাই ম্রিয়মাণ ছিলো। রাজপথে যানবাহনের পরিমাণ বাড়তে থাকে এগারোটার পর। বিপণি বিতানগুলো বিলম্বে খোলায় বন্ধও হয় একটু দেরীতে। এদিন রোজাদার মুসুল্লীরা শুধু পানাহার থেকেই বিরত থাকেননি, বাক্য ব্যয়েও ছিলেন সংযমী। বাড়তি কথা পরিহার করার অভিপ্রায়ে রোজাদারদের বলতে শোনা যায়, ‘ভাই, আমি রোজা রেখেছি। বেশি কথা বলতে চাইছি না।' সুন্নাতী পোশাক পরিহিত রোজাদাররা ঘরে-বাইরে সেখানেই ছিলেন সেখানেই তাদের পার্থক্য করা গেছে।
রমযানের পবিত্রতা বাজায় রাখার স্বার্থে হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ ছিলো। ইফতার সামগ্রী বিক্রির জন্য তাদের বিকেল থেকে কার্যক্রম শুরু হয়। এবার ফুটপাতে ইফতার পণ্যের দোকান বসতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিষেধাজ্ঞা থাকায় গতকাল প্রথম রোজার দিন গতবারের চেয়ে অস্থায়ী দোকান কম ছিলো। তবে খেজুরসহ অন্যান্য দলের ভ্রাম্যমাণ হকার ছিল তুলনামূলক বেশি। রমযান উপলক্ষে টুপি-মেসওয়াক, কুরআন-হাদীস এবং ইসলামী বইয়ের দোকানেও ভিড় ছিলো লক্ষণীয়।
আসর নামাযের পর থেকে ঘরে-বাইরে ইফতার আয়োজন অন্যরকম আবহের সৃষ্টি করে। প্রথম দিনে প্রতিবারের মতো এবারো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইফতার করেন ইয়াতিম শিশু এবং প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ও গণভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে। বিরোধী দলীয় নেতা, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াও প্রথম রোজায় ইয়াতিম শিশুদের সাথে ইফতার করেন। এছাড়া ক্ষুদে রোজাদারদের ইফতার পরিবারের জন্য অন্যকরম আনন্দের ছিল।

