Quantcast
ঢাকা, রোববার 22 July 2012, ৭ শ্রাবণ ১৪১৯, ২ রমযান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৩৭৭ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

সংশোধনের পরিবর্তে সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিদের লাগামহীন ও লাগাতার বক্তব্য

বিশ্বসংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে বিষোদগারে হুমকিতে বাংলাদেশের ইমেজ

Logo

সরদার আবদুর রহমান : আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও বিখ্যাত বিশ্বসংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিদের লাগাতার লাগামহীন ও বিষোদগারমূলক বক্তব্য অব্যাহত রয়েছে। এসব বক্তব্যে এসব সংস্থা-প্রতিষ্ঠানের কোন ক্ষতি না হলেও হুমকির মুখে পড়েছে বাংলাদেশের ইমেজ। সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের বিষোদগারের মুখে পড়েছে বিশ্বব্যাংক, নোবেল প্রাইজ ইনস্টিটিউট, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা প্রভৃতি।

বহুল আলোচিত পদ্মা সেতু প্রকল্পে সম্প্রতি নিজেদের অর্থায়ন বাতিল করে দেয় বিশ্বব্যাংক। বেশ কিছুদিন যাবত এ বিষয়টি আলোচনায় থাকলেও গত মাসের শেষ সপ্তাহে ‘সরকারের উচ্চপর্যায়ে দুর্নীতির অভিযোগে' বাংলাদেশের পদ্মা সেতু প্রকল্পের ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার অর্থচুক্তি বাতিল ঘোষণা করে বিশ্বব্যাংক। এ প্রসঙ্গে এক বিবৃতিতে বিশ্বব্যাংক জানায়, পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়ে দুর্নীতির বিশ্বাসযোগ্য তথ্য-প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে। বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করার পরও দুর্নীতি তদন্তে  তেমন কোনো সাড়া না পাওয়ায় ব্যাংক এই অর্থচুক্তি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমেরিকাভিত্তিক এই উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান তাদের বিবৃতিতে আরো জানায়, দুই দফা তদন্তের মাধ্যমে ব্যাংক পদ্মা  সেতুতে দুর্নীতির কথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সরকারের উচ্চ পর্যায়ের  লোকদের জানিয়েছিল। তারা এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতেও সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছিল। কিন্তু সরকার তাতে সাড়া দেয়নি। পরবর্তী সময়ে সংস্থাটির ওয়াশিংটনস্থ অফিস থেকে ‘আগ্রহী সবার উদ্দেশে' দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যেসব দুর্নীতির অভিযোগ করে আসছে বিশ্বব্যাংক- তার সবগুলোরই প্রমাণ হিসেবে কাগজপত্র বাংলাদেশ সরকারকে দেয়া হয়েছে।' বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির প্রমাণগুলো বিশ্বব্যাংক ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ও ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ সরকারের কাছে  পেশ করেছে। এসব সুপারিশমূলক প্রতিবেদনের গোপনীয়তা বজায় রাখতে বাংলাদেশসহ সব দেশের সরকারের কাছে বিশ্বব্যাংকের দায়বদ্ধতা রয়েছে। তবে বাংলাদেশ সরকার চাইলে এই সব প্রতিবেদন ও চিঠিগুলো প্রকাশ করতে পারে।'

এই ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ  থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ চলতে থাকে। খোদ প্রধানমন্ত্রী থেকে বিভিন্ন নেতা-মন্ত্রী পর্যন্ত বিশ্বব্যাংককে এক রকম ধোলাই দেয়া শুরু করেন। গত ৫ জুলাই পদ্মা সেতু নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে উল্টো বিশ্বব্যাংককে দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে আখ্যায়িত করেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বতন্ত্র সদস্য ফজলুল আজিমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন,  ‘বিশ্বব্যাংক একটি ভুয়া কোম্পানিকে পদ্মা সেতুর জন্য পরামর্শক নিয়োগ করতে বারবার চাপ দিয়েছিল। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, বিশ্বব্যাংক যেখানে একটা পাই পয়সাও ছাড় দেয়নি সেখানে দুর্নীতির প্রশ্ন আসে কোত্থেকে। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যাংকের নাম উল্লেখ না করে বলেন, ওয়ার্ল্ড স্ট্রিট জার্নাল ও ফোর্বস ম্যাগাজিন পত্রিকার নিউজ পড়লেই জানতে পারবেন আসল দুর্নীতিটা কোথায় আছে। কার কাছে দুর্নীতি রয়েছে সেটা জানা যাবে।' গত ১৬ জুলাই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের বৈঠকের উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো এক ব্যক্তি বিশেষের একটি ব্যাংকের এমডি পদ নিয়ে বিশ্বব্যাংক ঋণ বন্ধ করে দেবে, এ কথা অনেকে বলেছেন, আমি আগে থেকেই শুনে আসছিলাম।' এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের দ্বিতীয় জাতীয় সম্মেলনে বিশ্বব্যাংকের উদ্দেশে বলেন, ‘পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংক টাকা দিতে চেয়ে না দিয়ে আমাদের সাথে প্রতারণা করেছে।' অন্যদিকে, দফতরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক একটি বিতর্কিত সংস্থা। তাই তাদের প্রেসক্রিপশনে কোনো কাজ হবে না। সংস্থাটি পদ্মা

সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে।' ওলামা লীগের এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক বিশ্বরাজনীতি করে, বিশ্ব ষড়যন্ত্রও করে। তারা ধোয়া তুলসী পাতা না। সরকারের মেয়াদ যত শেষের দিকে যায়, ষড়যন্ত্র ততো বাড়ে। পদ্মা সেতু নিয়েও তাই ষড়যন্ত্র চলছে।' এ বিষয়ে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানও পিছিয়ে ছিলেন না। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর দুর্নীতি অভিযোগ নিয়ে যে তোলপাড় হচ্ছে সেখানেও প্রতারণা আছে। যে কয়টি প্রতিষ্ঠান পরামর্শক কাজ পেতে সিডিউল জমা দিয়েছে তার মধ্যে চীনের ভেনচুরা ইন্টারন্যাশনাল অভিজ্ঞতার জাল কাগজপত্র জমা দিয়েছে। আর সেই প্রতিষ্ঠানটির জন্য বিশ্বব্যাংক একাধিকবার সুপারিশ করেছে। বিশ্বব্যাংকের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকও ওই চীনা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রতারণার শিকার হতে পারে। সরকার সমর্থক কতিপয় অর্থনীতিবিদও এতে সুর মেলান। ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ আয়োজিত এক সেমিনারে একজন বক্তা অভিযোগ করেন, ‘বিশ্বব্যাংক নিজেদের স্বার্থ বাস্তবায়নের জন্য ঋণ দেয়ার অঙ্গিকার করে। কিন্তু স্বার্থ রক্ষা না হলে উল্টো  ক্ষতি করে। এসব সংস্থার সহায়তা নিয়ে কোন দেশই উন্নয়ন ঘটাতে পারেনি।'

বিষোদগার থেকে বাদ পড়েনি নোবেল প্রাইজও। ড. ইউনুসের নোবেল প্রাপ্তিতে  ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগের কোন কোন নেতা একেবারে নোবেল প্রাইজ প্রাপ্তির পদ্ধতি নিয়েই প্রশ্ন তুলে বসেন। যা বুদ্ধিবৃত্তিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। এতে নোবেল প্রাইজ দাতা ও গ্রহীতার কোন  তি না হলেও সরকারের নেতৃবৃন্দের মন ও মননের উচ্চতা ও মান নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তোলেন। গত ১০ মে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতেই স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক  সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম গ্রামীণ ব্যাংক, ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম ও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নোবেল জয় নিয়ে সমালোচনা করেন। ‘কোন যুদ্ধ থামানোর জন্য ড. ইউনূসকে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়েছিল'- এই প্রশ্ন উত্থাপন করে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানি আর বিদেশ থেকে লিল্লার টাকা এনে এনজিও করে দেশের উন্নয়ন হয় না। ক্ষুদ্র ঋণে আমাদের ভাগ্যের উন্নয়ন হবে না। সৈয়দ আশরাফ ড. ইউনূসের সমালোচনা করে বলেন, তার বেসিক সাবজেক্ট ছিল অর্থনীতি। তিনি অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন না। কোনো যুদ্ধ বন্ধ না করেই তিনি শান্তিতে নোবেল পেলেন। ‘নোবেল কীভাবে আসে আমাদের এখানে অনেকেই জানেন। বিশ্বের বেশ কিছু রাজধানীতে চিজ, স্যান্ডউইচ আর সাদা ওয়াইন খেলে জনপ্রিয়তা বাড়ে। সময়মতো একটি নোবেল পুরস্কারও পাওয়া যায়।' তবে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কিংবা অমর্ত্য সেন একই প্রক্রিয়ায় নোবেল হাসিল করেছিলেন কি না সে সম্পর্কে সৈয়দ আশরাফ অবশ্য কিছু উল্লেখ করেননি। তবে সৈয়দ আশরাফ তার বিপরীত একটি বক্তব্যও দেন। তিনি বলেন, ইউনূসের শান্তিতে নোবেল জয়ের পেছনে শেখ হাসিনার অবদান রয়েছে। তা না হলে নোবেল জয় তার পক্ষে সম্ভবপর হতো না। গত ৯ জুলাই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এক অনুষ্ঠানে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘আমেরিকায় মাইক্রোক্রেডিটের বিশ্বব্যাপী সম্মেলনে ইউনূস সাহেবকে সবার সামনে পরিচিত করিয়ে দেন এই শেখ হাসিনা। সেদিন সেখানে আমেরিকার বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন, স্পেনের রানীসহ অনেকেই ছিলেন। শেখ হাসিনা সেদিন ইউনূস সাহেবকে পরিচয় করিয়ে না দিলে তিনি বিশ্বব্যাপী পরিচিতও হতেন না, আর নোবেল পুরস্কারও পেতেন না।'

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) সাম্প্রতিক প্রতিবেদন প্রকাশের পরও এমন তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান সরকারের নেতা-মন্ত্রীরা। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে বিডিআর বিদ্রোহের বিচার নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) প্রতিবেদন এবং সংবাদ সম্মেলনকে ‘আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের অংশ' বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদন এবং সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য প্রত্যাহার করার আহবান জানানো হয়। গণমাধ্যমে পাঠানো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, প্রকাশিত হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও কল্পনাপ্রসূত'। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ওই প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন বলে উলেস্নখ করেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে এ  প্রতিবেদনকে ‘উদ্দেশ্যমূলক', ‘মনগড়া' ও ‘বানোয়াট' দাবি করে র‌্যাব। তারা মনে করে,  ‘দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে এবং অপরাধী ও জঙ্গিবাদ উৎসাহিত করতে দেশের কিছু মানবাধিকার সংগঠনের সহায়তায় হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এ ধরনের উদ্দেশ্যমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।' বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশের (বিজিবি) এক বিবৃতিতেও এই প্রতিবেদনটিকে বিশেষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলা হয়। আর দফতরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, ‘সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্র হচ্ছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের রিপোর্টও সরকারের বিরদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ।' র‌্যাব ভেঙে দেয়া প্রসঙ্গে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সমালোচনা করতে গিয়ে চরম ক্ষোভ সামলাতে না পেরে খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক এক কদম এগিয়ে গিয়ে বলেন, ‘মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ বিশ্বের অনেক প্রগতিশীল নেতাকে হত্যার সঙ্গে জড়িত। বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গেও তারা জড়িত থাকতে পারে। কিন্তু তাদের মানবাধিকার নিয়ে সমালোচনা করা হয় না, সেটা ভেঙে দেয়ার কথা বলা হয় না। অথচ আমাদের দেশের র‌্যাব-পুলিশ কীভাবে চলবে সেটা সম্পর্কে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ কথা বলছে। তারা এ সম্পর্কে কথা বলার কে? তারা র‌্যাব বন্ধ করার কথা বলছে- আমরা এই ধৃষ্টতাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করি।' কৃষক লীগের কাউন্সিল উপলক্ষে আয়োজিত বর্ধিত সভায় তিনি একথা বলেন। তবে সম্প্রতি এ বিষয়ে সরকারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মোজিনা। বাংলাদেশ সরকার দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান বিষয়ে তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয় নিয়ে বাইরের কেউ যখন কোনো কিছু বলে, তখন তা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। নিজের দিকে তাকালে অনেক কিছুই চোখে পড়ে না। অন্য কেউ দেখিয়ে দিলে তা সহজে বোঝা যায়।'

এদিকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী বিষয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ক্রেইগ স্যান্ডার্সকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় যেতে বাধা দেয়া হয়। গত ১৫-১৭ জুন মি. স্যান্ডার্স কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্ত এলাকা সফর করেন। এই সফরের ব্যাপারে তাঁকে সতর্ক করে দেয়া হয়। একইসঙ্গে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকার বাংলাদেশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়, বিদেশি কোনো পরিদর্শক যেন ঐ এলাকায় না যান সেদিকে কড়া নজর রাখতে। নিরাপত্তার কারণে এ নির্দেশ দেয়া হয় বলে জানানো হয়।

এর আগে বাংলাদেশের মানবাধিকার, বিচারব্যবস্থা, আইন-শৃক্মখলা, রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রভৃতি বিষয়ে গত কয়েক মাসে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহল থেকে সরকারের বিভিন্ন কার্যকলাপের সমালোচনা করে বেশ ক'টি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। এছাড়াও প্রভাবশালী দেশের পার্লামেন্ট ও ফোরামেও সরকারের বিভিন্ন কার্যকলাপের কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। সে সময়ের সর্বাধিক আলোচিত রিপোর্ট ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ সম্পর্কিত ‘মানবাধিকার রিপোর্ট', এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্ট, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর বিবৃতি, বৃটিশ পার্লামেন্টের বক্তব্য, প্রভাবশালী পত্রিকা ইকোনমিস্ট ও দি হিন্দু'র প্রতিবেদন, বিবিসি ও আল-জাজিরার রিপোর্ট প্রভৃতি। তবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের কোন কোনটি গতানুগতিকভাবে অস্বীকার করা হয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে সরকার নিজেদের সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে উল্টো অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠান-সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে বিষোদগার করে বক্তব্য দেয়া অব্যাহত রাখে।

এই পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পদ্মা সেতুর মতো অন্যান্য ইস্যুতে সরকার যদি এ ধরনের গোঁয়ার্তুমি অব্যাহত রাখে, তাহলে বিশ্বব্যাংক এবং অন্যান্য দাতা প্রতিষ্ঠান অন্যান্য প্রকল্পের কাজও বন্ধ করে দিতে পারে। ঋণ বাতিল করে দিলে সেটার চাপ রাজনৈতিক ও অর্থনেতিক দু'ভাবেই সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে। বিশ্বব্যাংকের অনুজপ্রতিম প্রতিষ্ঠান এডিবি এবং এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে যেসব উন্নয়ন অংশীদার প্রতিষ্ঠান কাজ করে থাকে, তাদেরও বহু প্রকল্প রয়েছে বাংলাদেশে। উন্নয়ন সহযোগীরা সবাই যদি অসন্তুষ্ট হয়ে যায়, তবে এর প্রভাব আন্তর্জাতিক ও বৈদেশিক বিনিয়োগের ওপর পড়বে। বিদেশের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।