|
|
নেতা-কর্মীসহ ৩৭ জন গ্রেফতার
নোয়াখালী : মাইজদীতে শিবিরের রমজানের স্বাগত মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ
নোয়াখালী সংবাদদাতা : গতকাল শনিবার সকাল ১১টায় মাহে রমযানকে স্বাগত জানিয়ে ছাত্রশিবির নোয়াখালী শহরে এক মিছিল বের করে। মিছিল শেষ হওয়ার প্রাক্কালে পুলিশ মিছিলের পেছন থেকে বিনা উসকানিতে হামলা ও লাঠিচার্জ করে। এতে শিবিরের ১৫ জন নেতা-কর্মী আহত হয়। পুলিশ রাস্তার পাশ থেকে শিবির কর্মী সন্দেহে ব্যবসায়ী ও পথচারীসহ ৩৭ জনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে তাদের নির্মমভাবে মারধর করে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। পুলিশ দীর্ঘক্ষণ ধরে প্রধান সড়কের বক্সিমিজির পুলে বাস থামিয়ে যাত্রী সাধারণকে মারধর করে বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান। এদিকে কর্তব্যরত অবস্থায় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার নোয়াখালী প্রতিনিধি মাহবুব হাসান রাসেলকে পুলিশ গ্রেফতার করে। পরে স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রতিবাদের মুখে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়।
পুলিশের হামলায় আহতরা হলেন রাসেল (২০), আতাউল করিম নিজুম (১৮), শামছুল আলম (১৯), গোলাম সারওয়ার (২০), মাজহারুল ইসলাম নাসিম (২২), আব্দুর রহমান (১৮), তানভির (১৯)। এদেরকে স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সুধারাম থানা পুলিশের ভাষ্য মতে দুইজন পুলিশ আহত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির নোয়াখালী শহর আজ কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও শহর সভাপতি ফখরুল ইসলাম মিলনের নেতৃত্বে মাহে রমযানকে স্বাগতম জানিয়ে মিছিল বের করে। উক্ত মিছিলে আরো উপস্থিত ছিলেন শহর সেক্রেটারি নেয়ামত উল্লাহ শাকের, সাংগঠনিক সম্পাদক গিয়াস কামাল সাজু, দফতর সম্পাদক মাহবুবুল হক আরিফ, অর্থ সম্পাদক জিয়াউল হক, পাঠাগার সম্পাদক মনির হোসাইন, প্রচার সম্পাদক ফজলুল হক, প্রকাশনা সম্পাদক মোছলেহ উদ্দিন, মাদরাসা ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক ইসমাঈল হোসেন, নোয়াখালী কলেজ সভাপতি মিনহাজুল আনোয়ার মিশু প্রমুখ।
মিছিলটি নোয়াখালী পৌর বাজারের সমনে পৌঁছলে এস আই ইয়াসিন ও দারোগা বাতেনের নেতৃত্বে পুলিশ হঠাৎ মিছিলের পিছন থেকে হামলা ও লাঠিচর্জ শুরু করে। এ সময় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় শিবিরের ১৫ জন আহত হয়। এ সময়ে আমার দেশের নোয়াখালী সংবাদদাতা মাহমুদুল হাসান রাসেল (৩০) পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ছবি তুলতে গেলে সুধারাম থানা কনষ্টেবল বাদশা ক্ষিপ্ত হয়ে ডিজিটাল ক্যামেরা ও মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে তাকে (সাংবাদিক)সহ ২০ জন শিবির কর্মী আটক করে। গ্রেফতারকৃতরা হল -রেজাউল আলম (২৬), মো. শাহদাত হোসেন (২৭), আমির হোসেন (১৯), মো. আইয়ুব খান (১৮), আনোয়ার হোসেন (২১), মো. রাফায়েতুল আলম (৩০), আরিফ আজিজ রিফাত (১৬), আবদুল কাদের (২১), মো. ইসমাইল হোসেন সিরাজী (১৭), মো. মাকছুদুর রহমান (২২), দেলোয়ার হোসেন (২৮), তাজ উদ্দিন (২২), আরিফ (২৫), জুয়েল (২৫), জগন্নাথ মজুমদার (২৮), রেজাউল আলম (৩৫), সাইফুল ইসলাম (২২), পলাশ সাহা (২৮)।
শহর ছাত্রশিবিরের বিবৃতি
রমযানকে স্বাগত জানিয়ে শিবিরের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশের অযাচিত হামলার তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও শহর সভাপতি ফখরুল ইসলাম মিলনের ও সেক্রেটারি মো. নেয়ামত উল্লাহ শাকের। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা জানান, রমযানকে স্বাগত জানিয়ে শিবিরের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশের হামলা ন্যক্কারজনক। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার জন্য পুলিশের অতিউৎসাহী দুই সদস্যের নেতৃত্বে এ হামলা হয়। আমরা এ ঘটনার তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানাই।
জেলা জামায়াতের বিবৃতি
এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন নোয়াখালী জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুল মুনয়িম ও সেক্রেটারি মাওলানা আলাউদ্দিন। তারা পুলিশকে ভবিষ্যতে উপযাচক হয়ে এ ধরনের হামলা থেকে বিরত থাকার জন্য আহবান জানান।

