|
|
৩০ জুলাই পর্যন্ত গণপদত্যাগের সিদ্ধান্ত স্থগিত
বুয়েটের ভিসি ও প্রো-ভিসির পদত্যাগের দাবিতে বুয়েট শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা প্রতীকী গণঅনশন কর্মসূচি পালন শেষে কর্মসূচি ঘোষণা করেন শিক্ষক নেতৃবৃন্দ -সংগ্রাম
বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে গণপদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৩৫৭ জন শিক্ষক। সর্বমোট ৪১৯ জন শিক্ষককের মধ্যে তারা ইতোমধ্যে পদত্যাগ পত্রে স্বাক্ষর করে রেখেছেন। তবে গতকাল রোববার বিকেলে তাদের গণপদত্যাগ করার কথা থাকলেও তারা পদত্যাগ করছেন না। বুয়েটের সাবেক তিনজন ভিসি ও এ্যালামনাই সভাপতি ও সহ-সভাপতির লিখিত অনুরোধের ভিত্তিতে তারা ৩০ জুলাই পর্যন্ত তাদের গণপদত্যাগের সময়সীমা বাড়িয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে ভিসি ও প্রো-ভিসির অপসারণ না হলে সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে শিক্ষক সমিতির জরুরি সাধারণ সভায় নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দিবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুজিবুর রহামন। তবে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল শনিবারও আন্দোলনকারীরা অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছে। বেলা ১১টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১টায় ভিসি অফিসের সামনে তাদের কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচি শেষে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে বুয়েট শিক্ষক সমিতি। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আশরাফুল ইসলাম। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বুয়েটের ৪১৯ জন শিক্ষকের মধ্যে ইতোমধ্যে ৩৫৭ জন শিক্ষক পদত্যাগ পত্রে স্বাক্ষর করেছেন। তবে বুয়েটের তিনজন সাবেক ভিসি এবং এ্যালামনাই সভাপতি ও সহ-সভাপতির লিখিত অনুরোধের ভিত্তিতে ৩০ জুলাই পর্যন্ত গণপদত্যাগ না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তাই আজ রোববার তারা পদত্যাগ করবেন না। সাবেক তিনজন ভিসি হলেন- অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন পাটওয়ারী, অধ্যাপক ড. এম এইচ খান, অধ্যাপক ড. ইকবাল মাহমুদ। এছাড়া বুয়েট এ্যালামনাই সভাপতি ও সহ-সভাপতি যথাক্রমে অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী ও স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন। ড. আশরাফুল ইসলাম জানান, গত ২০ জুলাই বুয়েটের সাবেক তিনজন ভিসি ও বুয়েট এ্যালামনাই সভাপতি ও সহ-সভাপতি বুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি বরাবর একটি চিঠি প্রেরণ করেন। চিঠিতে তারা উল্লেখ্য করেন, বুয়েটের চলমান সংকটের একটি সম্মানজনক সমাধানের লক্ষ্যে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের সভায় ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। উক্ত সভায় বুয়েটের বর্তমান ভিসি ও প্রো-ভিসিকে দায়িত্ব হতে অব্যাহতি প্রদান ব্যতীত চলমান সংকট সমাধান কোনভাবেই সম্ভব নয় বলেও পরামর্শ দেয়া হয়। বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ জানান, এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাথে আলোচনা করে যথা শীঘ্র ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এমতাবস্থায় এ বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে চলমান পক্রিয়া বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বুয়েটের শিক্ষকবৃন্দকে গণপদত্যাগ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করছি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তাদের অনুরোধের ভিত্তিতে আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত তারা পদত্যাগপত্র জমা না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং ঐ দিন শিক্ষক সমিতির জরুরি সভা আহবান করা হবে। সভায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তবে বুয়েটে নতুন বছরের স্নাতক ভর্তিতে শিক্ষার্থীরা যেন হয়রানির স্বীকার না হয় এজন্য এ সংকট সমাধানে দ্রুত একটি সমাধান সরকারের কাছ থেকে তারা আশা করছেন।
এদিকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত তাদের দু'ঘণ্টার অবস্থান ধর্মঘট অব্যাহত রাখা হবে বলেও তারা জানান।
এর আগে সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে আয়োজিত সাধারণ সভায় বর্তমান ভিসি ও প্রো-ভিসিকে অপসারণ করে বুয়েটের সুনাম ও ঐতিহ্য রক্ষায় নতুন ভিসি নিয়োগ করবেন বলেও শিক্ষকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এবং বর্তমান ভিসি ও প্রো-ভিসির অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় বরেণ্য কথাসাহিত্যক হুমায়ূন আহমেদ, বিশিষ্ট স্থপতি মাজহারুল ইসলাম এবং বুয়েটের একজন সম্মানিত কর্মকর্তা মো. ছোহরাব আলী মিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। সংবাদ সম্মেলন শেষে প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ যথার্থ নয়। তিনি বলেন, আমার ব্যক্তিগত কোন দোষ নেই। তবে নতুন বছরের ভর্তির ব্যাপারে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী যথাসময়ে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে।
উল্লেখ্য, বুয়েটের ভিসি অধ্যাপক ড. এস এম নজরুল ইসলাম ও প্রো-ভিসিকে অপসারণের দাবিতে গত ৭ এপ্রিল থেকে শিক্ষক সমিতি লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করে। পরে ৪ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষকরা ৫ মে থেকে আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত করেন।
এদিকে শিক্ষকদের দাবি আদায় না হওয়ায় গত ৯ জুন সমিতির সভায় ৩০ জুনের মধে ভিসি ও প্রো-ভিসিকে পদত্যাগ করতে সময় বেঁধে দেয়া হয়। এর মধ্যে তারা পদত্যাগ না করায় ৭ জুলাই থেকে প্রতীকী কর্মবিরতি চলতে থাকে। ১৪ জুলাই তারা লাগাতার কর্মবিরতির ঘোষণা দেন। গত সপ্তাহে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রণালয় সভা ডাকে। দুই দিনের জন্য আন্দোলন স্থগিত হয় এবং শিক্ষকরা রোববার গণপদত্যাগের ঘোষণা দেন। তবে সাবেক তিনজন ভিসি ও এ্যালামনাই সভাপতি ও সহ-সভাপতির অনুরোধের ভিত্তিতে তারা ৩০ জুলাই পর্যন্ত গণপদত্যাগ না করার সিদ্ধান্ত নেন।

