|
|
জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের গোলটেবিলে ব্যারিস্টার মওদুদ
গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের উদ্যোগে গোলটেবিল আলোচনায় বক্তব্য পেশ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এমপি -সংগ্রাম
স্টাফ রিপোর্টার : দুর্নীতি দমনের পরিবর্তে বিরোধী দলকে হয়রানির জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) সরকার ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এমপি। দুদককে সরকারের ‘তল্পিবাহক' আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তারা সরকারের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে। বিরোধী দলের বিরুদ্ধে যতো অত্যাচার ও দমন-পীড়ন চালানো যায় সরকারের হয়ে দুদকের এখন সেই এজেন্ডা।
গতকাল শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল আয়োজিত ‘দুর্নীতি দমনে সরকার ও দুদকের ভূমিকা এবং জনগণের প্রত্যাশা' শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি মেজর (অব.) এম এম মেহবুব রহমানের সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য রাখেন, বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সাংস্কৃতিক দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোজাম্মেল হোসেন শাহীন, মানবাধিকার কর্মী আরিফা জেসমিন নাহিন, সংগঠনের সহ-সভাপতি মামুনূর রশীদ খান প্রমুখ।
মওদুদ আহমদ আরো বলেন, সরকারের এখন রাজনৈতিক এজেন্ডা, কীভাবে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও হয়রানি করে দাবিয়ে রাখা যায়। এই কাজে সরকার পুলিশকে যেমন ব্যবহার করছে, তেমনি দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমেও নেতা-নেত্রীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করছে। সরকার ও দুদকের ভূমিকা এক ও অভিন্ন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারি দলের কেউ দুর্নীতি করলে তাকে নির্দোষ সার্টিফিকেট দেয়া, আর বিরোধী দলের কেউ দুর্নীতি করলে তাকে নতুন নতুন মামলায় জড়ানো দুদকের কাজ। অনেক আশা নিয়ে দুদক করেছিলাম বলে আক্ষেপ করে সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি নির্মূল করতে বিএনপি সরকার আমলে স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। আমরা দুদককে অনেক ক্ষমতা দিয়েছি। এখনো তা অব্যাহত আছে। কিন্তু দুদকের কর্মকর্তাদের সাহস, ঈমান ও নীতির ঠিক নেই। আজ এই স্বাধীন প্রতিষ্ঠানটি তার নিরপেক্ষতা হারিয়ে ফেলেছে। সম্প্রতি লন্ডনে তার বাড়ি আছে বলে দুদকের তোলা অভিযোগ চ্যালেঞ্জ করে তিনি বলেন, আমার নাকি লন্ডনে বাড়ি আছে। যদি প্রমাণ করতে না পারেন তাহলে ওই বাড়িটা আমাকে দিতে হবে। তা না হলে মামলা করবো। কাউকে ছাড় দেবো না। লন্ডনে কোনো বাড়ি কেনেননি দাবি করে মওদুদ আহমদ বলেন, তাকে হয়রানির জন্য দুদক ওই নোটিশ পাঠিয়েছে। বাড়িটি পেলে তা বাংলো হিসেবে ব্যবহারের জন্য সাংবাদিকদের দান করবেন বলেও ঘোষণা দেন মওদুদ। দুর্নীতি দমন কমিশনের বর্তমান কার্যক্রমের সমালোচনা করে বিএনপি নেতা বলেন, পদ্মা সেতুর দুর্নীতি, রেলমন্ত্রীর ঘুষ কেলেঙ্কারি, পুঁজিবাজার কেলেঙ্কারির বিষয়ে দুদক বলছে, সেখানে কোনো দুর্নীতি হয়নি। আর খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে যাচ্ছে তারা (দুদক)। তারা সরকারের তল্পিবাহক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বিশ্বব্যাংক কোন রাজনৈতিক দলের নয়। তারা যা সত্য তাই বলবে। আজ বিশ্বব্যাংক যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির দায় এনে এই সরকারকে বিচার করতে বলছে সেখানে দুদক তাদের দুর্নীতিমুক্তের সার্টিফিকেট দিচ্ছে। বৈদেশিক সহায়তা ছাড়া পদ্মা সেতু নির্মাণ সম্ভব নয় মন্তব্য করে সরকারকে বিশ্বব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান জানান তিনি। দলীয়করণের কারণে আজ শিক্ষাঙ্গন স্থবির হয়ে পড়ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শিক্ষাঙ্গনে ধর্ষণের সেঞ্চুরি হয়, কিন্তু শাস্তি হয় না। আজ বুয়েটসহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই সরকার ছেলেখেলা করছে। কিন্তু অন্যায়ের কোন প্রতিকার করতে পারছে না।

