Quantcast
ঢাকা, মঙ্গলবার 24 July 2012, ৯ শ্রাবণ ১৪১৯, ৪ রমযান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৬৪৩ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

বিশ্বব্যাংকের ঋণ পেতে মরিয়া সরকার

অবশেষে মন্ত্রী আবুল হোসেনের পদত্যাগ

আবুল হোসেন

স্টাফ রিপোর্টার : পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন পদত্যাগ করেছেন। আবুল হোসেন যোগাযোগ মন্ত্রী থাকা অবস্থায় বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পের অর্থায়নে আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে অর্থায়ন বাতিল করে দেয়। সরকার বিশ্বব্যাংকের অভিযোগ আমলে না নিয়ে পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন না করায় বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। সেই সাথে ঘোষণা দেয় দেশের অর্থায়নেই পদ্মা সেতু হবে। এ লক্ষ্যে সরকার বিভিন্নভাবে অর্থ সংগ্রহের ঘোষণা দেয়। পদ্মা সেতুর টাকা তুলতে গিয়ে ইতোমধ্যে টাকা ভাগাভাগি নিয়ে ছাত্রলীগের দু'গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মী নিহত হয়েছে। পদ্মা সেতুর টাকা তুলতে সরকার দু'টি একাউন্ট খোলারও ঘোষণা দিয়েছে। অবশেষে সরকারের বোধদয় হয়েছে শুধু দেশের টাকায় পদ্মা সেতুর মতো একটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। দুর্নীর অভিযোগে পদ্মা সেতু না করতে পারায় দেশের মানুষের কাছে কোনঠাসা হয়ে পড়েছে সরকার। তাই সরকার যে কোন মূল্যে পদ্মা সেতু প্রকল্প শুরু করতে বিশ্ব ব্যাংকের ঋণ পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এ জন্য এখন বিশ্ব ব্যাংকের দ্বারস্থ হতে তাদের সব শর্ত মানার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে অভিযোগ ওঠার ১০ মাসের টানাপোড়েন শেষে মন্ত্রিত্ব থেকে সরে যেতে পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন সৈয়দ আবুল হোসেন। তবে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত আবুল হোসেন দফতরবিহীন মন্ত্রী হওয়ার আশা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর শুভ দৃষ্টি কামনা করেছেন।

গতকাল সোমবার আবুল হোসেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে সরকারের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। এদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে ছিলেন না বর্তমানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রী আবুল হোসেন। সকালে নিজের বাসা থেকে তিনি পতাকাবিহীন গাড়ি নিয়েই বের হন বলে মন্ত্রীর বাড়িতে কর্তব্যরত পুলিশ কনস্টেবল হাসান জানিয়েছেন। সরকারের ওই সূত্র বলেছে, পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতির তদন্ত চলাকালে দায়িত্বপূর্ণ পদে না থাকার ইচ্ছা থেকেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আবুল হোসেন। পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনও তদন্ত করছে। এই তদন্তে ইতোপূর্বে আবুল হোসেনকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গত সেপ্টেম্বর পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাংক অভিযোগ তোলার পর থেকে দুর্নীতির অভিযোগ নাকচ করে আসছেন তখনকার যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেন। বিশ্ব ব্যাংকের অভিযোগের মধ্যেই ডিসেম্বরে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে আবুল হোসেনকে সরিয়ে দেয়া হয়। তাকে দেয়া হয় তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।

এদিকে দুর্নীতির বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে দাবি করে গত ২৯ জুন বিশ্ব ব্যাংক পদ্মা প্রকল্পে তাদের ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি বাতিল করে। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের পক্ষে সংস্থাটির যুক্তি ছিল দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর দায়িত্বপূর্ণ স্থানে অধিষ্ঠিতদের মধ্যে যাদের নাম এসেছে তদন্তের পুরো সময় ছুটিতে পাঠানো। কিন্তু সরকার তা মানেনি। এরপর সরকারের পক্ষ থেকে বিশ্ব ব্যাংকের সিদ্ধান্তের সমালোচনার পাশাপাশি আবুল হোসেনও সম্প্রতি আগে গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনে তার বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এর মধ্যেই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত রোববার সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি গোল্ডস্টেইনের (অ্যালেন) দেয়া চারটি প্রস্তাবের মধ্যে চতুর্থটি মেনে নেয়ায় একটু অসুবিধা ছিল। আমরা চেষ্টা করছি এটাও কিভাবে সমাধান করা যায়। চতুর্থ শর্তটিই ছিল তদন্ত চলাকালে সরকারি দায়িত্ব পালন থেকে সরকারি ব্যক্তি অর্থাৎ আমলা ও রাজনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্তদের ছুটি দেয়া।

এদিকে গতকাল সকাল থেকেই আবুল হোসেনের পদত্যাগের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যেই মন্ত্রিসভা বৈঠকে তাকে অনুপস্থিত দেখা যায়। তবে এই বিষয়ে যোগাযোগের জন্য তাকে মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়নি। মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থিত হতে না পারলে আগে থেকেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে জানাতে হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী অনুপস্থিতির বিষয়ে আবুল হোসেন তাদের কিছু জানাননি। তার বাড়িতে গেলে সেখানে কর্তব্যরত কনস্টেবল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, মন্ত্রী মহোদয় সকালে ফ্ল্যাগ ছাড়া গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেছেন। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনা সরকার গঠন করলে তাতে স্থান হয় সৈয়দ আবুল হোসেনের।

এদিকে পদত্যাগপত্র জমা দিলেও দফতরবিহীন মন্ত্রী হবার আশা করছেন সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন। গতকাল বিকেলে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে তিনি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। এছাড়া এর আগে মন্ত্রিসভার বৈঠকেও অনুপস্থিত থাকেন পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে দফতর বদল হওয়া এ মন্ত্রী। তবে পদত্যাগপত্র জমা দিলেও ‘দফতরবিহীন মন্ত্রী' হিসেবে থাকার আশা ছাড়েননি সৈয়দ আবুল হোসেন। বিকেলে একটি সংবাদপত্রের সাথে আলাপে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

দফতরবিহীন মন্ত্রী থাকছেন, নাকি মন্ত্রিসভা থেকে সরে যাচ্ছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আবুল হোসেন বলেন, আমি মন্ত্রী থাকব কি-না সবকিছুই আল্লাহর ইচ্ছে। আর দফতরবিহীন মন্ত্রী হওয়ার বিষয়ে আল্লাহ প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতা দিয়েছেন। তিনিই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।