|
|
বৃষ্টি উপেক্ষা করে মানুষের ঢল
জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ-এর লাশ নুহাশপল্লীতে পৌঁছালে একনজর দেখার জন্য জনতার ভীড়, প্রখ্যাত সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের দাফন কার্য গতকাল মঙ্গলবার নুহাশ পল্লীতে অনুষ্ঠিত হয় -সংগ্রাম
গাজীপুর থেকে মো. রেজাউল বারী বাবুল : অবশেষে গাজীপুরের নূহাশ পল্লীর লিচু বাগানের শীতল ছায়ায় গতকাল মঙ্গল বার অপরাহ্ন দু'টায় চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন জননন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। তার অন্তিম ইচ্ছানুসারে তাকে সমাহিত করা হয়েছে নূহাস পল্লীর লিচু তলায়। এর আগে বেলা দেড়টায় নূহাশ পল্লীতে তার তৃতীয় ও শেষ জানাযা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার হাজার ভক্ত, মুসল্লী নামাজে জানাযায় অংশ নেয়। এর আগে সকাল থেকে নূহাস পল্লীতে ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীসহ হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। বেলা পোনে ১২ টার দিকে তার মরদেহ নূহাশ পল্লীতে এসে পৌছলে এক আবেগ ঘন শোকাতুর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
হুমায়ূন আহমেদকে শেষবারের মতো এক নজর দেখতে ও শ্রদ্ধা জানাতে গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী গ্রামের অরণ্য ঘেরা লাল মাটির পাহাড়ি এলাকা নূহাশ পল্লীতে মানুষের ঢল নামে। গাজীপুরের মানুষ যারা নূহাশ পল্লীতে হুমায়ূন আহমেদকে খুব কাছ থেকে দেখতেন, অকৃত্রিম মায়ার বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন তারা তখন প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের অপেক্ষায় ছিলেন। বৃষ্টি-কাঁদা উপেক্ষা করে সব অপেক্ষা হুমায়ূন আহমেদের জন্য। গাড়ো সবুজ ও নীলের নুহাশ পল্লীতে আবাল-বৃদ্ধ-বণিতারা চোখে-মুখে বিষাদের ছাপ নিয়ে ভোর থেকেই অপেক্ষা করছিলেন হুমায়ূন আহমেদের জন্য। নূহাশ পল্লীতে সাত বছর আগে রান্নার কাজ শুরু করেছিলেন আমেনা বেগম। তিনি বলেন, স্যারের ব্যবহার এতো ভাল, তা আপনাকে বলে বোঝানো যাবে না। স্যার কালিজিরা ভর্তা, শাকসবব্জি পছন্দ করতেন।
সিরাজগঞ্জের কোনাগাতি থেকে আগত ফল ব্যবসায়ী আল আমিন তালুকদার জানান তিনি হুমায়ূন আহমেদের নাটক দেখেই তার ভক্ত হয়েছেন। তিনি টাঙ্গাইল থেকে এসেছেন তার প্রিয় নাট্যকারকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। তিনি হোতাপাড়া থেকে ৮ কিলোমিটার পথ পায়ে হেটে নূহাশ পল্লীতে এসেছেন।
বাউল শিল্পী কুদ্দুস বয়াতি জানান, ‘হুমায়ূন আহমেদ আমাকে কুদ্দুস্যা থেকে কুদ্দুস বয়াতি বানিয়েছেন। তিনি আমাকে ডাল ভাত খাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন।
কবর খোড়ার প্রস্তুতি : সকাল সাড়ে আটটা থেকে কবর খোড়ার কাজ শুরু হয়। স্থানীয় পিরোজালী গ্রামের আঃ শহিদ, আঃ সফুর, মিজানুর রহমান, আঃ হালিম, জয়নালসহ আট দশ জনের একটি দল বেলা ১২টা পর্যন্ত কবর খোড়ার কাজ সম্পন্ন করেন। বিশিষ্ট অভিনেতা হুমায়ূন আহমেদের একান্ত কাছের মানুষ ডা. এজাজুল ইসলাম পুরো বিষয়টি তদারকি করেন। কবর খোদক মিজানুর রহমান জানান, তার ইচ্ছে ছিল তার প্রিয় স্যারের কবর খোড়ার, তার সে ইচ্ছে পূরণ হয়েছে। তিনি তার জীবনে ৭০/৮০টি কবর খুড়েছেন তার মধ্যে এ কবরটিই সবচে বেশি সুন্দর হয়েছে বলে জানান।
দুপুর সাড়ে বারটার দিকে ঢাকা থেকে লাশ নিয়ে নূহাশ পল্লীতে প্রবেশ করে গাড়ির বহর। প্রথমে আসেন হুমায়ূন আহমেদের ভাই ড. জাফর ইকবাল ও আহসান হাবীব। পরে একে একে আসেন হুমায়ূন আহমেদের মা, স্ত্রী, আত্মীয় স্বজনরা ও ছেলে, মেয়েরা। হুমায়ূন আহমেদকে বহনকারী গাড়িটি নূহাশ পল্লীতে পৌঁছলে এক আবেগ ঘন পরিবেশের অবতারণা হয়। হাজার হাজার মানুষ তখন নূহাশ পল্লীতে অবস্থান করছিল। পরে প্রচন্ড বৃষ্টির মধ্যে জোহরের নামাজের আযানের পর নামাজ আদায় করা হয়। বেলা ১ টা ৩৫ মিনিটে হুমায়ূন আহমেদের তৃতীয় জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন স্থানীয় পিরোজালী গ্রামের মুজিবুর রহমান মুন্সি। জানাযায় অংশ নেন, গাজীপুর-১ আসনের এমপি এডভোকেট আকম মোজাম্মেল হক, গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাবেক এমপি আক্তারুজ্জামান, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ড. দেওয়ান মো. হুমায়ূন কবীর, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মোস্তাফিজুর রহমান, গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, শ্রীপুরের উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন সবুজ প্রমুখ।
বরেণ্য কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদকে চিরনিদ্রায় শায়িতকালে সেখানে উপস্থিত ছিলেন লেখকের বড় ছেলে নূহাশ। তার পরনে ছিল নীল পাঞ্জাবী। এ সময় হুমায়ূনের প্রথম স্ত্রী গুলতেকিন আহমেদের মেয়ে শীলা ও নোভা; দ্বিতীয় স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন এবং তাদের দুই সন্তান নিষাদ ও নিনিত; লেখকের ভাই মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও আহসান হাবীব এবং তাদের দুই বোনও উপস্থিত ছিলেন। এর আগে দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে নূহাশ পল্লীতে পৌঁছান শাওন ও তার দুই সন্তান। এর কিছুক্ষণ আগেই নূহাশ, শীলা ও নোভাকে নিয়ে পৌঁছান জাফর ইকবাল ও আহসান হাবীব। দূর-দূরান্ত থেকে হুমায়ূনের এই বাগানবাড়িতে এসে অশ্রুজলে এ নাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতাকে শেষ বিদায় জানালেন ভক্ত-পাঠক, বন্ধু-স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাসহ হাজারো মানুষ।
দাফন শেষে শাওন সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘এই নূহাশ পাল্লীকে একটি ট্রাস্ট করতে চেয়েছিলেন হুমায়ূন। কিন্তু তিনি তা করে যেতে পারলেন না।’’ ‘‘আমার যদি কোনো সুযোগ থাকে তাহলে তার ইচ্ছা পূরণে আমি চেষ্টা করব।’’ ১৯৯৭ সালে ৪০ বিঘা জমির ওপর নূহাশ পল্লী নামের এই বাগান বাড়ি গড়ে তোলেন হুমায়ূন। প্রায় তিনশ প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ভেষজ গাছের এই বাগান এক সময় হয়ে ওঠে তার নিজের জীবনের চেয়েও প্রিয়।
নুহাশপল্লীতে মুষলধারে বৃষ্টি:
নন্দিত লেখক হুমায়ূন আহমেদকে দাফন করতে নূহাশপল্লীতে হাজির বিভিন্ন শ্রেণী পেশার হাজার হাজার মানুষ। এ যেনো মানুষের বাধভাঙ্গা জোয়ার। সকাল থেকে ৪বার বৃষ্টি নামে। বৃষ্টি থেকে রক্ষা পাবার তেমন কোন ব্যবস্থা ছিল না। যা ছিল তা প্রয়োজনের চেয়ে অনেক কম। তাই হুমায়ূন আহমেদ শেষ বারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষগুলো বৃষ্টিতে ভিজেছেন। শেষ পর্যন্ত তাকে কবরস্থ করেই তারা ফিরে যান। হুমায়ূন আহমেদ বৃষ্টি ভালবাসতেন। তাই কী কবরস্থ হওয়ার কিছু সময় আগেই সেই বৃষ্টি নামলো এমনটাও ভাবছেন তার কিছু ভক্ত। স্থানীয়রাও বলছেন, শুধু আজকের দিন নয়, হুমায়ূন আহমেদ যখনই নূহাশপল্লীতে আসতেন, তখনই বৃষ্টি নামতো।
দীর্ঘ যানজট:
হোতাপাড়া থেকে গাজীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে হোতাপাড়া থেকে নুহাশ পল্লী পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকায় ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়েছে। নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদকে শেষবারের মতো এক নজর দেখা এবং জানাযায় অংশ নিতে আসা লোকদের ভিড়ে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি উপেক্ষা করে হোতাপাড়া থেকে নূহাশ পল্লীগামী মাইক্রো, কার, মোটরসাইকেল, অটোরিকশায় করে লোকজন নূহাশ পল্লীর দিকে যায়। কোন কোন কার বা গাড়িকে কাঁচা রাস্তায় আটকে পড়তেও দেখা গেছে। অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি রাস্তায় গাড়ি ছেড়ে পায়ে হেঁটে নূহাশ পল্লীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। বিভিন্ন স্কুল-কলেজের হাজার হাজার শিক্ষার্থী, এলাকাবাসী, ঢাকা থেকে সাংবাদিক, শিল্পী-সাহিত্যিকরা নূহাশ পল্লীতে আসেন। হুমায়ূন আহমেদকে শ্রদ্ধা জানিয়ে যারা ঢাকা যাওয়ার জন্য নূহাশ পল্লী থেকে বের হচ্ছিলেন তারাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকেন। গাজীপুর জেলা প্রশাসন কয়েকশ পুলিশ মোতায়েন করেও যানজট ও দূর্ভোগ কমাতে পারেনি।
হুমায়ূন আহমেদের দাফনের পরে অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল গাজীপুর জেলা প্রশাসন এবং গাজীপুর বাসী হুমায়ূনের দাফন কাজে সার্বিক সহায়তা করার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সাংবাদিকদের বলেন, হুমায়ূন আহমেদের একটা অধ্যায় আজ শেষ হলো।
পিরুজালী উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় সব শিক্ষার্থী ক্লাস বাদ দিয়ে এসছেন তাদের প্রিয় হুমায়ূন আহমেদকে শ্রদ্ধা জানাতে। ওই বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী লাকী আক্তার জানায়, হুমায়ূনের কোন বই পড়িনি। তার অনেক নাটক দেখেছি। আমরা স্কুলের সবাই এসেছি স্যারকে দেখতে।
গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, নূহাশ পল্লীসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গাজীপুরের ১১ প্লাটুন পুলিশ সদস্য, র্যাব-১ এর সদস্য ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম সাদা পোষাকে নজরদারীতে রেখেছে।
তিনি আরো জানান, গাজীপুরের টঙ্গী থেকে তার লাশবাহি গাড়িটি স্কট দিয়ে নূহাশ পল্লীতে নিয়ে আসা হয়েছে। তাকে সম্মান জানিয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে কফিনে ফুলের তোড়া দেয়া হয়েছে।
হুমায়ূন আহমেদের দাফনস্থল
নুহাশপল্লী নির্ধারণ
হলো যেভাবে-
স্টাফ রিপোর্টার : পারিপারিক অনৈক্যের দৃশ্যত অবসানের পর গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী নন্দিত লেখক-নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদকে মৃত্যুর ৬ দিনের মাথায় তার অতিচেনা নুহাশপল্লীতেই দাফন করা হয়েছে। সেখানকার লিচুতলায় বাদ যোহর তৃতীয় নামাযে জানাযার পর তাকে সমাহিত করা হয়। পরিবার-পরিজন ও ভক্ত-শুভানুধ্যায়ীদের শোকাশ্রু আর ফুলেল ভালোবাসায় চিরশয্যায় শায়িত হয়েছেন যশস্বী এই কথাসাহিত্যিক। অথচ এ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে সরকারের উচ্চমহলের হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে, বসতে হয়েছে দফায় দফায় বৈঠকে। হুমায়ূন আহমেদের দ্বিতীয় স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওনের অনড় অবস্থানের কারণে পরিবারের পক্ষ থেকে নেয়া ঢাকায় দাফন করার সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হয়েছে।
কোথায় সমাহিত হবেন হুমায়ূন আহমেদ? তিনি কি কোথাও তার এই ইচ্ছের কথা জানিয়ে গিয়েছেন কি না? এই প্রশ্ন নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই। গত সোমাবার গভীর রাত পর্যন্ত লেখকের পরিবারের সদস্যরা দফায় দফায় বৈঠকে বসেন। শুরু থেকেই শাওন চান গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে তাকে দাফন করা হোক। অন্যদিকে তার প্রথম স্ত্রীর মেয়েরা ও ছেলে নুহাশ এবং মা ও দুই ভাই চান রাজধানীর মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করতে। এমনকি হুমায়ূনের বৃদ্ধা মাও চেয়েছিলেন তার ছেলেকে রাজধানীর কোথাও মাটি দেয়া হলে যাতায়াত সহজ হবে।
হুমায়ূন আহমেদকে কোথায় দাফন করা হবে, এই নিয়ে তার ছোট ভাই আহসান হাবীবের পল্লবীর বাসায় গত সোমবার সন্ধ্যার পর আলোচনায় বসেন তার প্রথম স্ত্রীর মেয়েরা ও ছেলে নুহাশ এবং মা ও দুই ভাই। শাওন বৈঠকে আসেননি। ফলে সিদ্ধান্ত নেয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। রাত ৮টা চল্লিশ মিনিটের দিকে অপেক্ষামান মিডিয়াকর্মীদের হুমায়ূন আহমেদের বড় মেয়ে নোভা জানান, তার বাবা তাদের বারবার বলে গেছেন নুহাশপল্লীতে যাতে তাকে কবর দেয়া না হয়। তিনি বলেন, কোনো কবরস্থানে তার বাবাকে দাফন করা হলে তিনি অনেকের দোয়া পাবেন। তিনি স্পষ্টভাবেই নুহাশপল্লীতে দাফনের বিরোধিতা করেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন হুমায়ূন আহমেদের আরেক মেয়ে শীলা ও ছেলে নুহাশ এবং ভাই ড. জাফর ইকবাল। এর আগে খবর আসে যে সোমবার কেন দাফন হলো না, তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্বেগের খবরটি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু ফোনে হুমায়ূনের পরিবারকে জানান। এই তথ্যটি জানান হুমায়ূনের ছোট ভাই আহসান হাবীব।
ড. জাফর ইকবাল একটি গাড়িতে করে হুমায়ূন আহমেদের দুই মেয়ে ও ছেলেকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনের দিকে রওয়ানা হন। তবে শেষ পর্যন্ত তারা গণভবনে যাননি। তারা রাত পৌনে ১০টার দিকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের বাসায় বৈঠকে বসেন। তবে এই বৈঠকে ছিলেন না মেহের আফরোজ শাওন। ওই বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন চ্যানেল আই'র ফরিদুর রেজা সাগর ও শাইখ সিরাজ এবং সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু। নানকের বাসায় বৈঠক চলাকালে হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন ধানমন্ডির দখিন হাওয়া ফ্লাটে ছিলেন। তার সঙ্গে ছিল তার দুই শিশুপুত্র নিশাত ও নিনিত এবং মা তহুরা আলী এমপি।
নানকের বাসায় বৈঠক শেষে সবাই যান দখিন হাওয়া ফ্ল্যাটে। সেখানে শাওনের সঙ্গে জাহাঙ্গীর কবির নানক, ড. জাফর ইকবাল, চ্যানেল আই'র ফরিদুর রেজা সাগর ও শাইখ সিরাজ এবং সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু। তবে যাননি হুমায়ূন আহমেদের দুই মেয়ে নোভা ও শিলা এবং ছেলে নুহাশ।
দখিন হাওয়াতে দীর্ঘ সময় ধরে বৈঠক হলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। জানা যায় শাওন তার অবস্থানে অনড় থাকেন। এরপর নানকের বাসায় আবার বৈঠক হয়। এতে উপস্থিত থাকেন হুমায়ূন আহমেদের দুই মেয়ে নোভা ও শিলা এবং পুত্র নুহাশ। আরো ছিলেন ড. জাফর ইকবাল। এরপরই জানানো হয় হুমায়ূন আহমেদকে নুহাশপল্লীতে দাফন করা হবে। তবে তার আগের ঘরের সন্তানরা সেখানে যাবে কি না তা তারা জানাননি। গত সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে জাফর ইকবাল সাংবাদিকদের নুহাশপল্লীতে দাফনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
রাতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গতকাল সকাল ৯টায় হুমায়ূন আহমেদের লাশ বারডেমের হিমঘর থেকে গাজীপুরের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। বারডেম হাসপাতাল থেকে লাশ গ্রহণের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেন শাওনের বাবা। ভোর থেকেই অনেক হুমায়ূন ভক্ত বারডেমের বাইরে অপেক্ষমান ছিল। ৯টা বাজার কিছুক্ষণ পর হুমায়ূনের কফিনবাহী রিজাবভ্যানটি বারডেম চত্বর ত্যাগ করে।

