|
|
কোকড়াঝাড়ে সান্ধ্য আইন \ দেখামাত্র গুলীর নির্দেশ \ ট্রেনে আগুন
বার্তা২৪ডেস্ক : ভারতের আসামের বোদোল্যান্ড অঞ্চলে আদিবাসী বোদো সম্প্রদায় এবং সংখ্যালঘু অভিবাসী মুসলমানদের মধ্যে চলমান দাঙ্গার ষষ্ঠ দিনে গতকাল মঙ্গলবার রাজ্যের রাজধানী গোহাটিমুখী একটি ট্রেনে আগুন দেয়া হয়েছে বোদোল্যান্ড আঞ্চলিক স্বশাসিত অঞ্চলের কোকড়াঝাড় জেলায়। এ খবর দিয়েছে ভারতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই। এতে ট্রেনটির চারটি বগি পুড়ে গেলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। গতকাল মঙ্গলবার গোহাটিমুখী ‘রাজধানী এক্সপ্রেস'-এ আগুন দেয়া হয় কোকড়াঝাড়ের গোঁসাইগাও এলাকায়। ট্রেনে আগুন দেয়ার পর কোকড়াঝাড়ে রেলপথ অবরোধ করেছে অল বোদো স্টুডেন্টস ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা। এতে করে দেশটির পুরো উত্তর-পূর্বাঞ্চল সারাদেশ থেকে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে। পশ্চিমবঙ্গের কলকাতাভিত্তিক দৈনিক আনন্দবাজার জানিয়েছে, ১৭টি ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকে আছে। গত বৃহম্পতিবার এক হামলায় দুই মুসলিম ছাত্রনেতা নিহত হন। পরে পাল্টা হামলায় বোদো সম্প্রদায়ের চার সাবেক যোদ্ধা নিহত হলে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে অপর এক খবরে পিটিআই জানিয়েছে, দাঙ্গায় নিহতের সংখ্যা ২৫ এ পৌঁছেছে মঙ্গলবার। ঐ দিন পুলিশের গুলীতে চারজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়। নিজস্ব ওয়েবসাইটে দেয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আসাম রাজ্য সরকার জানিয়েছে, দাঙ্গায় গৃহহারা হয়েছে কমপক্ষে ৬০,০০০ লোক। তাদের বিভিন্ন সরকারি আশ্রয় শিবিরে থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সরকার। এছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একটি নিয়ন্ত্রণকক্ষও খুলেছে কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে কোকড়াঝাড়ে সান্ধ্য আইন জারি করা হয়েছে। এছাড়া সান্ধ্য আইন বহাল রাখা হয়েছে চিরাঙ্গ ও ধুবড়ি জেলায়ও। এমনকি দেখামাত্র গুলী করার নির্দেশও দেয়া হয়েছে সেনাবাহিনীকে।
গত ৬ জুলাই সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের দু'জন নিহত হয় অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতিকারীদের আক্রমণে। পরে গত ১৯ জুলাই দ্বিতীয় এক আক্রমণে নিহত হন দুই মুসলিম ছাত্রনেতা। পিটিআই জানিয়েছে তারা হচ্ছেন- অল বোদোল্যান্ড মাইনরিটি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের মহিবুল ইসলাম এবং অল আসাম মাইনরিটি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের সিদ্দিক শেখ। পরে পাল্টা হামলায় নিহত হন বোদো লিবারেশন টাইগার'র সাবেক দুই যোদ্ধা।
প্রসঙ্গত, আসামের এই বোদোল্যান্ড অঞ্চলটি সংখ্যাগরিষ্ঠভাবে বোদো আদিবাসী সম্প্রদায় অধ্যুষিত। বৃটিশ শাসনকালে অঞ্চলটিতে ভারতবর্ষের নানা অঞ্চল থেকে মুসলামনরা অভিবাসী হন। জমির দখল নিয়ে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রায়ই ছোটোখাটো উত্তেজনা দেখা দেয়। ব্রহ্মপুত্রের উত্তর তীরে ভুটান সীমান্তবর্তী এ অঞ্চলটিকে আসাম থেকে আলাদা করে বোদো জনগোষ্ঠীর জন্য পৃথক রাজ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য বোদো লিবারেশন টাইগার বাহিনী ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল ১৯৯৬ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত। ২০০৩'র ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে এক চুক্তিতে চারটি নবগঠিত জেলা নিয়ে বোদোল্যান্ড আঞ্চলিক স্বশাসিত এলাকা গঠিত হলে অস্ত্র ত্যাগ করে এই বাহিনী। পরে এদের অধিকাংশই ভারতের কেন্দ্রীয় সংরক্ষিত পুলিশ বাহিনীতে আত্তীকৃত করা হয়।
এদিকে দাঙ্গার রেশ লেগেছে দেশটির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যেও, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের সঙ্কোশ নদীর সীমান্তে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রাম ব্লকে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে ছড়িযে পড়ে। সকাল থেকেই সেখানে আগুন জ্বলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন যথেষ্ট সক্রিয় রয়েছে বলে জানা গেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং আসামের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গাগৈকে।

