Quantcast
ঢাকা, বুধবার 25 July 2012, ১০ শ্রাবণ ১৪১৯, ৫ রমযান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৭৮৭ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

দিনভর জেরায় সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবীর অভিযোগ

ভিসি সালেহ উদ্দিনকে '৭১ সালে পাক আর্মিরা অস্ত্রসহ আটক করে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে নিয়ে গিয়েছিল

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে সরকার পক্ষের ৮নং সাক্ষী সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেসলর অধ্যাপক ড. সালেহ উদ্দিন ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের জামাল খান এলাকা থেকে আর্মিদের হাতে ধরা পড়েছিলেন এবং আরো অস্ত্র উদ্ধারের জন্য তার লজিং বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিল মর্মে অভিযোগ করেছেন সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী এডভোকেট আহসানুল হক হেনা। তিনি আরো অভিযোগ করেন যে সাক্ষী সালেহ উদ্দিনকে ধরে গুডস হিলে নিয়ে নির্যাতন এবং সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধূরী তাকে বাম গালে থাপ্পড় মেরেছিলেন মর্মে জবানবন্দীতে দেয়া তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বিশেষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ভিসি অধ্যাপক সালেহ উদ্দিন অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গত সোমবার জবানবন্দী দেয়ার পর ভিসি সালেহ উদ্দিনকে গতকাল সারা দিন জেরা করেন এডভোকেট হেনা। বিএনপি নেতা সংসদ  সদস্য সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরী এসময় ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। বিচারপতি নিজামুল হক ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকের উপস্থিতিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ ভিসি সালেহ উদ্দিনের জেরা করা হয়। ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্য এ কে এম জহির আহমেদ গতকাল এজলাসে ছিলেন না। আজ বুধবার ৯ম সাক্ষীর জন্য দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। গতকাল জেরায় এডভোকেট আহসানুল হক হেনাকে সহায়তা করেন ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম, এডভোকেট রেজাউল করিম ও হোজ্জাতুল ইসলাম আল ফেসানী।

ভিসি অধ্যাপক ড. সালেহ উদ্দিনকে গতকাল মঙ্গলবার যেসব জেরা করা হয় তার উল্লেখযোগ্য অংশ নিম্নরূপ :

প্রশ্ন : বাংলাদেশের অন্য কোন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অর্থনীতির প্রফেসরের হওয়ার নজির আছে কি?

ট্রাইব্যুনাল এই প্রশ্ন গ্রহণ করেনি।

প্রশ্ন : মরহুম শাহ এ এস এম কিবরিয়া সাহেব আপনার কি হন?

উত্তর : চাচা শ্বশুর।

প্রশ্ন : আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে গবর্নিং কাউন্সিল আছে?

উত্তর : না, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিল আছে।

প্রশ্ন : ইউজিসি কি জিনিস?

উত্তর : বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউনিভার্সিটি গ্রান্ট কমিশন)।

প্রশ্ন : এর চেয়ারম্যান কে?

উত্তর : প্রফেসর এ কে আজাদ চৌধুরী।

প্রশ্ন : নবীন বরণ উৎসব নিয়ে উনার সাথে আপনার কখনো বিরোধ হয়েছিল?

উত্তর : একটি তথ্য নিয়ে বিরোধ হয়েছিল।

প্রশ্ন : আপনি তখন সরে দাড়ানোর কথা বলেছিলেন?

উত্তর : উনি আমার দেয়া তথ্য অসত্য বলেছিলেন।

প্রশ্ন : একটি কোম্পানি আপনাকে টাকা পরিশোধের নোটিশ দিয়েছিল?

উত্তর : লিগ্যাল নোটিশ দেয়া হয়েছিল।

প্রশ্ন : আপনি ছাত্র জীবনে মেনন গ্রুপ ছাত্র ইউনিয়ন করতেন?

উত্তর : তাদের সাথে আমার ঘনিষ্ঠতা ছিল।

প্রশ্ন : গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আপনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হয়েছিলেন?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : তখন কতদিন ঐ পদে ছিলেন?

উত্তর : ৫ মাস কয়েক দিন এবং পরে পদত্যাগ করেছিলাম।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে হবিগঞ্জ সিলেট জেলার অধীন একটি মহকুমা ছিল?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : আপনি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে কোথায় জবানবন্দী দিয়েছেন?

উত্তর : ঢাকায় তার অফিসে।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালের ঘটনা জানার জন্য তদন্ত কর্মকর্তা পেপারে কোন বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন এমন কিছু আপনি সংবাদপত্রে দেখেছেন?

উত্তর : না, দেখি নাই।

প্রশ্ন : আপনি ক'বার জবানবন্দী দিয়েছেন কত তারিখে?

উত্তর : ২০১১ সালের ১৬ মার্চ।

প্রশ্ন : স্বাধীনতার পর চট্টগ্রাম থেকে কবে ঢাকায় একে বারে চলে আসেন?

উত্তর : ২০০৫ সালে আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি ছেড়ে চলে আসি।

প্রশ্ন : জবানবন্দী দেয়ার পর কত তারিখে পুনরায় তদন্ত কর্মকর্তার সাথে দেখা হয়?

উত্তর : গতকাল দেখা হয়েছে।

প্রশ্ন : গুডস হিলের কথিত ঘটনাস্থল আপনি তদন্ত কর্মকর্তাকে নিয়ে গিয়ে দেখিয়েছেন?

উত্তর : না।

প্রশ্ন : গুডস হিল এলাকাটি একটি বিজি এলাকা এবং চট্টগ্রামের একটি কেন্দ্রীয় এলাকা?

উত্তর : খুব বিজি নয়।

প্রশ্ন : ক্লাস সিক্স থেকে শুরু করে আপনি কত বছর চট্টগ্রাম ছিলেন?

উত্তর : ৪৫ বছরের মত হবে। তবে এক নাগাড়ে ছিলাম না।

প্রশ্ন : আপনার ভাই চট্টগ্রামে কি করতেন?

উত্তর : কালুরঘাট জুট মিলের একজন সাধারণ শ্রমিক ছিলেন এবং সেখানে থাকতেন।

প্রশ্ন : তখন কক্সবাজার যাওয়ার পথ ছিল একটাই আরাকান রোড দিয়ে কালুরঘাট ব্রীজ পার হয়ে?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : উরকির চরের নাম শুনেছেন?

উত্তর : শুনেছি। তবে বোয়ালখালিতে কি না তা বলতে পারছি না।

প্রশ্ন :  চট্টগ্রাম কলেজ চট্টগ্রামের একটি প্রসিদ্ধ কলেজ?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : ঐ কলেজে অনেকগুলো বিষয়ে অনার্স পড়ানো হতো এবং এখনো হয়?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : সিটি কলেজ প্রাইভেট কলেজ ছিল এবং ঐ সময় রেজাউল করিম সাহেব প্রিন্সিপাল ছিলেন?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে উনাকেও জেলখানায় নিয়ে যাওয়া হয় দালালীর কারণে এবং পরে আপনারা তাকে আন্দোলন করে বের করেন?

উত্তর : এটা আমি বলতে পারবো না।

প্রশ্ন : তখন সিটি কলেজ রাজনৈতিকভাবে খুব সক্রিয় ও সচেতন ছিল?

উত্তর : বোধ হয়।

প্রশ্ন : আপনি চট্টগ্রাম কলেজ থেকে সিটি কলেজে যাওয়ার ব্যাপারে আপনার কোন দালিলিক কাগজপত্র আছে?

উত্তর : আমার কাছে নেই।

প্রশ্ন : তখন চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ কে ছিলেন?

উত্তর : ইংরেজির অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ সাহেব।

প্রশ্ন : সিটি কলেজের তুলনায় চট্টগ্রাম কলেজের ফলাফল সব সময়ই ভাল?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : গুডস হিলে উঠতে হলে আব্দুস সাত্তার রোড দিয়ে পশ্চিম দিক দিয়ে উঠতে হয়?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : গুডস হিলের পূর্ব দিকে গনি বেকারি অবস্থিত?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : গুডস হিলের উল্টো দিকে সিরাজদৌলা রোড ও আব্দুস সাত্তার রোডের মধ্যে একটি সংযোগ সড়ক আছে?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : ঐ রোডের মাঝখানে দারুল উলুম মাদরাসা আছে?

উত্তর : মাদরাসা আছে, তবে নাম জানি না।

প্রশ্ন : জামাল খান রোড গুডস হিলের উত্তর ও পশ্চিম দিকে এবং তা গনি বেকারির সামনে আব্দুস সাত্তার রোডে মিশেছে?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : ঐ পাহাড়টি গুডস হিলের চেয়ে উচু?

উত্তর : হতে পারে।

প্রশ্ন : ঐ পাহাড়ের পাদদেশে মিসকিন শাহ'র দরগাহ অবস্থিত?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : গুডস হিলের পশ্চিম দিকে সেন্ট মেরী স্কুল?

উত্তর : পশ্চিম-উত্তর দিকে।

প্রশ্ন : গুডস হিলের সাথে লাগোয়া একটি খ্রিস্টিয়ান পাড়া ছিল?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : তার দক্ষিণ দিকে ডা. খাস্তগীর গার্লস হাই স্কুল?

উত্তর : জি, তবে রাস্তাগুলো সোজা নয়?

প্রশ্ন : মোহরা গ্রামের প্রসিদ্ধ ডাক্তার শায়েস্তা খানের নাম শুনেছেন?

উত্তর : জি, শুনেছি। তবে চিনতাম না।

প্রশ্ন : মোহরায় আপনি যেখানে ছিলেন সেখানে আরাকান রোড দিয়ে উত্তর দিকে যেতে হতো রেল লাইন ক্রস করে?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : আপনি যেখানে থাকতেন ঐ এলাকা তখন বেশ বর্ধিষ্ণু ছিল?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : ঐ এলাকা তখন ছিল পাঁচলাইশ থানার অধীনে?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : ড. মাহফুজুর রহমানের চট্টগ্রামের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লিখিত বইটি আপনি পড়েছেন?

উত্তর : না।

প্রশ্ন : কোতো মিয়ার লেখা স্বামী কেন রাজাকার বইটি পড়েছেন?

উত্তর : না।

প্রশ্ন : অধ্যাপক আনিসুজ্জামান লিখিত আমার একাত্তর বইটি পড়েছেন?

উত্তর : জি, পড়েছি।

প্রশ্ন : আনিসুজ্জামান সাহেব আপনার বর্ণিত গুডস হিলের ঘটনা সম্পর্কে তার বইতে কিছুই লেখেননি।

উত্তর : আমার স্মরণ নেই।

প্রশ্ন : ঐ বইতে আনিসুজ্জামান সাহেব আপনার সম্পর্কে কোন কথাই বলেননি।

উত্তর : স্মরণ নেই।

প্রশ্ন : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে ১৯৭১ সালে মলোধব ককটেল তৈরি হতো, এটা  জানতেন?

উত্তর : আমি জানি না।

প্রশ্ন : বুড়ির চরের থানা হাট হাজারী?

উত্তর : জি, মনে হয়।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামে ৩টি মুসলিম লীগ ছিল?

উত্তর : কনভেনশন মুসলিম লীগ ছিল, কাউন্সিল মুসলিম লীগের নাম শুনেছি, কাইউম মুসলিম লীগের নাম শুনি নাই।

প্রশ্ন : শামসু মিয়া চেয়ারম্যান কনভেনশন মুসলিম লীগ করতেন মর্মে কোন দালিলিক প্রমাণ আপনার কাছে আছে কি না এবং তা তদন্ত কর্মকর্তাকে দিয়েছেন?

উত্তর : না।

প্রশ্ন : যারা আপনাকে ছাড়িয়ে আনলো বলে দাবি করেছেন তারা কনভেনশন মুসলিম লীগ করতো?

উত্তর : মাইজ্যা মিয়া, বাদশা মিয়া সওদাগর ও অন্যারা মুসলিম লীগ করতো জানতাম। কনভেনশন কি না তা জানি না। মোহরা গ্রামে যারা মুসলিম লীগ করতেন তারা মোটামুটি ফজলুল কাদের চৌধুরীর সমর্থক ছিলেন।

প্রশ্ন : কুলি সুলতান মিয়া মুসলিম লীগ করতেন?

উত্তর : উনি কোন দল করতেন জানি না।

প্রশ্ন : আপনাকে কত তারিখে ধরে নিয়ে যায়?

উত্তর : তারিখ সুস্পষ্টভাবে মনে নেই।

প্রশ্ন : যারা আপনাকে ধরে নিয়ে যায় তারাও মুসলিম লীগ করতেন এবং যারা ছাড়িয়ে এনেছিল তারাও মুসলিম লীগ করতেন?

উত্তর : সত্য।

প্রশ্ন : আপনি শামসু মিয়া চেয়ারম্যানকে আগে থেকে চিনতেন?

উত্তর : চেহারায় চিনতাম। তবে আলাপ পরিচয় ছিল না।

প্রশ্ন : শামসু চেয়ারম্যানের সাথে কোন একটি বিষয়ে আপনার দ্বনদ্ব ছিল?

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : চট্টগ্রাম কলেজে ১৯৭১ সালে আবাসিক হোস্টেল ছিল, সিটি কলেজে ছিল না।

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : খোকা মিয়া, গ্যানা সেকান্দর ও এন এস এফ-এর নুরুল  ইসলামকে আপনি অগে থেকেই চিনতেন?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : আপনি ব্যাথা পেলে কান্নাকাটি করেন?

উত্তর : ব্যাথা পেলে বা কষ্ট পেলে আমার চোখে পানি আসে। তবে খুব বেশি কষ্ট পেলে আসে না।

প্রশ্ন : ঐদিন আপনি কি খুব বেশি না কম কষ্ট পেয়েছিলেন?

উত্তর : অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম।

প্রশ্ন : ঐ দিন আপনি খুব কান্নাকাটি করেছিলেন?

উত্তর : প্রথমে একটু করেছিলাম। পরে আর কান্নকাটি করি নাই।

প্রশ্ন : যে রুমে অপনাকে নিয়ে যায় ঐ রুমে ক'টা বিছানা ছিল?

উত্তর : মনে নেই।

প্রশ্ন : মারধরের ফলে আপনার হাড় ভেঙ্গেছিল, রক্ত পড়েছিল?

উত্তর : হাড় ভাঙ্গেনি, রক্ত বের হয়েছিল।

প্রশ্ন : লুঙ্গিতে রক্ত লেগেছিল কি না?

উত্তর : সামান্য লেগেছিল। শার্ট সাদা থাকায় রক্ত বেশি দেখা দিয়েছিল।

প্রশ্ন : ঘটনার সময় আপনার গায়ে সাদা শার্ট ছিল না। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এবং শেখানো মতে আপনি সাদা শার্ট গায়ে ছিল বলে উল্লেখ করেছেন।

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : আপনার গায়ে সাদা শার্ট ছিল মর্মে কোন কথা আপনি তদন্ত কর্মকর্তাকে বলেননি।

উত্তর : আমি অনেক কথা বলেছি। তবে উনি কি নোট করেছেন তা আমি জানি না।

প্রশ্ন : আপনি কোন বছর থেকে লজিং থাকা শুরু করেন? তখন আপনি কোন ক্লাসে পড়তেন?

উত্তর : ৭ম শ্রেণী থেকে।

প্রশ্ন : আপনি ক'জনকে পড়াতেন?

উত্তর : ১টি ছেলেকে পড়াতাম; সে প্রাইমারী স্কুলে ওয়ান বা টুতে পড়তো।

প্রশ্ন : আপনি রাজনৈতিকভাবে খুব এ্যাকটিভ ছিলেন। চট্টগ্রাম কলেজে অনেক সমস্যা সৃষ্টি করায় বহিস্কার হয়েছিলেন বিধায় আপনি সিটি কলেজে গিয়েছিলেন?

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : আপনাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় কতজন লোক ছিল?

উত্তর : সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারবো না। তবে ৫/৭/১০ জন হতে পারে।

প্রশ্ন : আপনাকে যখন ধরে নিয়ে যায় তখন স্থানীয় মেম্বর কে ছিলেন?

উত্তর : মনে নাই। তবে বাদশা মিয়া হতে পারে।

প্রশ্ন : মোরশেদ কাদেরীকে আপনি চেনেন?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : বর্তমানে ঐ এলাকার কমিশনার সাহেবকে আপনি চেনেন?

উতর : জি।

প্রশ্ন : আপনার এই নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে মোরশেদ কাদেরীর সাথে আপনার কখনো কথা হয়েছিল?

উত্তর : না।

প্রশ্ন : আপনি যে বাড়িতে থাকতেন ঐ বাড়িতে পরিবারের সদস্য কতজন ছিল?

উত্তর : ৫ জন। পরে আরো সন্তান হয়েছে।

প্রশ্ন : ওরা সবাই ২৫ মার্চের পরে উড়কির চরে চলে গিয়েছিল?

উত্তর : শুধু মালিক বাদে সবাই চলে গিয়েছিল।

প্রশ্ন : আপনি যে পাড়ায় থাকতেন তখন ঐ পাড়ায় কত লোক বাস করতো?

উত্তর : ৬০/৭০ জন লোক ছিল।

প্রশ্ন : আপনাকে যখন ধরে নিয়ে যায় তখন বাসায় মালিক ছিল?

উত্তর : মালিক মোতালেব সাহেব বাইরে ছিলেন। পরে ওরা তাকে ধরে নিয়ে আসে।

প্রশ্ন : মোতালেব সাহেবের বাড়ি পর্যন্ত গাড়ি যায়?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : আপনাকে যখন হাঁটিয়ে নিয়ে যায় পথিমধ্যে কার কার সাথে আপনার দেখা হয়?

উত্তর : মনে নেই।

প্রশ্ন : শামসু চেয়ারম্যানকে কোথায় নামিয়ে দেয়া হয়?

উত্তর : কাপ্তাই রোডে উঠার আগেই।

প্রশ্ন : ফজলুল কাদের চৌধুরী আর্মিদের কি বলেছিল?

উত্তর : সেটা আমি শুনি নাই। তবে উনি আমাকে তক্তা দেয়ার কথা বলেছিলেন- এটা শুনেছি।

প্রশ্ন : ২৫ মার্চের পরে চট্টগ্রামে অধিকাংশ পাহাড়ে আর্মি ক্যাম্প করেছিল?

উত্তর : বলতে পারবো না।

প্রশ্ন : কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে প্রতিরোধ যুদ্ধ হয়েছিল?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : ঐ সময় আপনার থাকার এলাকা নিরাপদ ছিল?

উত্তর : নিরাপদ মনে হতো না।

প্রশ্ন : আপনার গ্রামের বাড়িতে তখন কে কে থাকতেন?

উত্তর : বাবা, মা, ভাই, বোন।

প্রশ্ন : এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত চট্টগ্রাম থেকে সিলেটের বাস ও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ছিল?

উত্তর : আমি জানি না। তবে ধারণা ছিল যে, ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।

প্রশ্ন : কাদেরী সাহেব ও বাদশা মিয়াদের কি ডেকে আনা হয়েছিল?

উত্তর : আমার কথার পরে ডেকে আনা হয়।

প্রশ্ন : উনারা এসে কার সাথে কি কথা বলছেন?

উত্তর : আমি জানি না।

প্রশ্ন : আপনার কক্ষে ফজলুল কাদের চৌধুরীর যে ড্রাইভারের সাথে দেখা হয় তার নাম কি?

উত্তর : আমার জানা নেই। সে নিজে ড্রাইভার পরিচয় দেয়।

প্রশ্ন : স্বাধীনতার পরে ঐ ড্রাইভারকে আপনি ধন্যবাদ দিতে গিয়েছিলেন?

উত্তর : পরে আর তার সাথে দেখা হয়নি। ফলে ধন্যবাদ জানানোর সুযোগ পাইনি।

প্রশ্ন : সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরী ১৯৭১ সালের জুন, জুলাই, আগস্ট মাসে পাকিস্তানের পাঞ্জাবে লেখাপড়া করতেন। এটা আপনি জানতেন?

উত্তর : না।

প্রশ্ন : আপনি সংবাদপত্র পড়েন? টিভি দেখেন?

উত্তর : পত্রিকা পড়ি। সময় পেলে টিভি দেখি।

প্রশ্ন : ১৯৭৯ সাল থেকে প্রতিটি নির্বাচনে সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরী নির্বাচিত হয়েছেন। এটা জানেন?

উত্তর : প্রতিবার হয়েছেন কিনা তা জানি না। তবে অনেকবার হয়েছেন।

প্রশ্ন : আপনি জীবনে কোন রাজনৈতিক নির্বাচন করেছেন?

উত্তর : না।

প্রশ্ন : আওয়াগী লীগ সরকারের ২০০১ সালে পতনের পরে এবং বর্তমান সরকারের ক্ষমতায় আসার আগ পর্যন্ত আপনি কি করতেন?

উত্তর : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকার ২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছি।

প্রশ্ন : বেরসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরে আপনি সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছেন?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : আপনার কোন প্রকাশনা আছে?

উত্তর : ২টি বই আছে। জার্নাল প্রকাশনা বেশ কয়েকটি আছে।

প্রশ্ন : যে পাকিস্তান আর্মিরা আপনাকে ধরে আনে তাদের নাম ও রেজিমেন্ট জানেন?

উত্তর : না।

প্রশ্ন : আপনি যে সময়ের কথা বলছেন তখন গুডস হিলে আর্মি ছিল না পশ্চিম পাকিস্তানী পুলিশ ছিল।

উত্তর : আর্মি ছিল কি না জানি না। তবে তাদের পোশাক পরা ছিল।

প্রশ্ন : গুডস হিলে থেকে ফিরে এসে ডাক্তার দেখিয়েছিলেন?

উত্তর : জি, ডা. আবদুল মাবুদ নিজেই এসে আমাকে দেখেন।

প্রশ্ন : আপনাকে কোন প্রেসক্রিপশন বা সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন ডাক্তার?

উত্তর : প্রেসক্রিপশন দিয়েছিলেন।

প্রশ্ন : ঐ প্রেসক্রিপশন আপনি তদন্ত কর্মকর্তাকে দিয়েছেন?

উত্তর : ওটা আমার কাছে নেই- বিধায় দিতে পারি নাই।

প্রশ্ন : আপনাকে গুডস হিলে ধরে নিয়ে যাওয়া এং নির্যাতন করার কথা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : গ্যারেজের একতলার ছাদ টিনের?

উত্তর : হতে পারে।

প্রশ্ন : কাঠের সিড়িটি গ্যারেজের কোন দিকে?

উত্তর : বাংলোর কাছাকাছি।

প্রশ্ন : আপনি যে গ্যারেজের কথা বলছেন ওটা সাইফুদ্দিন সাহেবের বাড়ির গ্যারেজ?

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : ঐ গ্যারেজটি বাসভবনের কোন দিকে?

উত্তর : লনের পশ্চিম দিকে।

প্রশ্ন : লনের পশ্চিম দিকে সাইফুদ্দিন সাহেবের বাড়ি, কোন গ্যারেজ ছিল না?

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : আপনাকে যেখানে পিটানো হয় সেখানে ক'টি বাড়ি ছিল?

উত্তর : একটি বাড়ি দেখেছি।

প্রশ্ন : উনিই যে শামসু চেয়ারম্যান তা কে আপনাকে বলেছিল?

উত্তর : তাকে আমি পূর্ব থেকেই চিনতাম।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালের আগে আপনি সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে চিনতেন?

উত্তর : জি, চিনতাম। উনি নির্বাচনী মিটিং-এ গিয়েছেন। আমি সেখানে দেখেছি তাকে।

প্রশ্ন : মোহরা, পাঁচ লাইশ এলাকা উনার পিতার নির্বাচনী এলাকা ছিল না?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : পাকিস্তান আর্মি কত তারিখে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দখল করে?

উত্তর : শুনেছি এপ্রিল মাসের প্রথম দিকে দখল করে।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে আপনি আপনার লজিং বাড়ির কাউকে পড়াতেন না।

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : ঐ এলাকার বেশিরভাগ লোক মুসলিম লীগ করতো।

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : নুরুল ইসলামের সাথে স্বাধীনতার পরে আপনার দেখা হয়েছিল?

উত্তর : হয়নি।

প্রশ্ন : ঐ সময় অনেক ছেলে-মেয়ে ইউনিভার্সিটি থেকে গ্রামের বাড়ি চলে যায়।

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : আপনি তখন গ্রামের বাড়ি না গিয়ে একটি বিশেষ কারণে মোহরা গ্রামে গিয়েছিলেন।

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : আপনাকে আর্মি কখনোই ধরে গুডস হিলে নিয়ে যায়নি।

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : আপনাকে গুডস হিলে ধরে নিয়ে গিয়ে আর্মিদের নির্যাতন এবং সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরী আপনাকে থাপ্পড় মেরেছে মর্মে যা বলেছেন তা অসত্য এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত?

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : আপনাকে আর্মিরা অস্ত্রসহ জামালখান থেকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল সার্কিট হাউসে?

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : পরে অস্ত্র উদ্ধারের জন্য অর্মিরা আপনাকে যেখানে আপনি থাকতেন সেখানে নিয়ে গিয়েছিলে?

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে খুশি করার জন্য আপনি মিথ্যা মামলায় মিথ্যা সাক্ষী দিয়েছেন?

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : এই মামলায় আপনাকে সাক্ষী করা হয়েছে শুধুমাত্র মামলার গ্রাভিটি বাড়ানোর জন্য?

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : কথিত সময়ে, কথিত জায়গায়, কথিত স্থানে, কথিত প্রকারে আপনাকে নির্যাতন এবং তাতে সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অংশগ্রহণ সবই মিথ্যা।

উত্তর : সত্য নয়।