Quantcast
ঢাকা, বুধবার 25 July 2012, ১০ শ্রাবণ ১৪১৯, ৫ রমযান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৭০১ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

ট্রাইব্যুনালে চতুর্থ সাক্ষীর জবানবন্দী

কাদের মোল্লা ও তার সাহযোগীরা কবি মেহেরুনকে হত্যা করে এ কথা সাক্ষী শুনেছেন নিজে দেখেননি

স্টাফ রিপোর্টার : জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন কবি কাজী রোজী। গতকাল মঙ্গলবার  আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ দেয়া জবানবন্দিতে তিনি বলেন, কবি মেহেরুন্নেসাকে আব্দুল কাদের মোল্লা ও তার সহযোগিরা হত্যা করেছে এই ঘটনা আমি নিজে দেখি নাই। তবে অন্যদের কাছে আমি এই হত্যার কথা শুনেছি। তিনি তার জবানবন্দিতে আরো বলেন '৭১ সালের ২৭ মার্চ বিকেলে খবর পাই কবি মেহেরুন নিসা, তার মা ও ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। আমি যতটুকু শুনেছি কাদের মোল্লা ও তার সহযোগীরা মেহেরদের বাসায় প্রবেশ করে।

কাজী রোজী বলেন, ঘটনার দু'তিন দিন পর গুলজার নামের একজন অবাঙ্গালী ও একজন বিহারী আমাকে বলেছিল এ ধরনের একটি কথা যে, মেহেরকে মেরে গলা কেটে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখে। যারা ওই ঘটনা ঘটিয়ে ছিল তারা অবাঙ্গালী বিহারী। কাদের মোল্লার সহযোগী অবাঙ্গালী ও বিহারীরা ওই ঘটনা ঘটিয়ে ছিল। ঘটনা বর্ণনাকারী গুলজারসহ দুই অবাঙ্গালী বিহারী এখন আর দেশে নেই।

জবানবন্দিতে কাজী রোজী বলেন, '৭১ সালে নিহত কবি মেহেরুন নিসা তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। মিরপুরে অবাঙ্গালী ও বিহারিরা বাঙ্গালীদের ভীষণভাবে অপমানিত ও লাঞ্ছিত করত। এ থেকে রেহাই পেতে তারা একটি এ্যাকশন কমিটি গঠন করেছিলেন। তিনি সেই কমিটির সভাপতি ও মেহেরুন নিসা সদস্য ছিলেন। '৭১ সালের ২৫ মার্চ সকালে ওই কমিটির একটা মিটিং করি। মিটিংয়ে বুঝতে পারি কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। মিটিং শেষ করে বাসায় আসার কিছুক্ষণ পর খবর পাই আমার বাসা রেড হবে। মেহেরুন নিসার বাসায়ও একইভাবে হামলা করবে। এর মূল কারণ আমরা ছিলাম নারী। আমি খবর পাওয়ার পর মেহেরুন নিসার বাড়িতে খবর দেই, যে আজ আমি বাসা থেকে চলে যাব। তোমরাও বাসা ছেড়ে চলে যাও। এই খবর পাওয়ার পর তিনি ছোট ভাইকে দিয়ে খবর পাঠান তিনি তার মা ও দুই ভাই এদের নিয়ে তিনি কোথায় যাবেন। আমি তার ভাইকে বলেছিলাম তুমি মেহের ও তোমার মাকে বোঝাও বাড়ি থেকে চলে যাওয়া প্রয়োজন। তারপর আমি চলে গেলাম। কিন্তু মেহের গেল না। এরপর ২৫ মার্চের ভয়াল রাতের ঘটনা সবার জানা। এরপর আমি ২৭ মার্চ বিকেলে খবর পেলাম যে মেহেরুন নিসা, তার মা ও ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। আমি যতটুকু শুনেছি সাদা পট্টি ও লাল পট্টি বেঁধে কাদের মোল্লার সহযোগীরা মেহেরদের বাসায় প্রবেশ করে। মেহের যখন দেখল ওরা তাদের মারতে এসেছে তখন সে কুরআন শরীফ বুকে চেপে বাঁচতে চেয়েছিল। কিন্তু ওরা এই চারজনকে জবাই করেছিল। তিনি বলেন, কাদের মোল্লা বাসার ভিতরে গিয়েছিল, এটা বলতে পারব না। তবে তার নেতৃত্বে ওরা ঢুকে ছিল বলে শুনেছি।

জেরা : জবানবন্দি দেয়া শেষ হলে কাজী রোজীকে জেরা করেন কাদের মোল্লার আইনজীবী এডভোকেট মো. একরামুল হক।

প্রশ্ন : কবি মেহেরুন্নেসার সাথে কবে পরিচয় হয়?

সাক্ষী : ১৯৬৮ সালে। ১৯৬৭-৬৮ সালে মিরপুরে দেখা হয়।

প্রশ্ন : আপনি প্রাথমিক শিক্ষা কোথা থেকে নিয়েছেন?

সাক্ষী : আমরা ঢাকার সিদ্দিক বাজারে থাকতাম, সেখানে বাংলা বাজার দিদিমনি কিশলয় নামক স্কুলে শিক্ষা অর্জন শুরু করি।

প্রশ্ন:  ওই স্কুল কোন থানার অধীনে ছিল?

সাক্ষী : বলতে পারব না।

প্রশ্ন : ওই সময় আপনাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা কত ছিল?

সাক্ষী : বাবা, মা, ভাই-বোনসহ মোট আট জন।

প্রশ্ন : আপনার ছোট ভাইয়ের নাম কি?

সাক্ষী : ডা. কাজী হিল্লোল।

প্রশ্ন : ভাই-বোনদের মধ্যে আপনি কততম?

সাক্ষী : আমি সবার বড়।

প্রশ্ন : আপনার পিতা কি করেন?

সাক্ষী : সাংবাদিকতা, প্রথমে সংবাদ এবং পরে ইত্তেফাকে ছিলেন।

প্রশ্ন : আপনি এসএসসি কত সালে ও কোন স্কুল থেকে পাস করেন?

সাক্ষী : ১৯৬৪ সালে, মতিঝিল সেন্ট্রাল গবর্মেন্ট হাইস্কুল থেকে।

প্রশ্ন : কত সালে এইচএসসি পাস করেন?

সাক্ষী : ১৯৬৭ সালে, বকশিবাজার ইন্টারমিডিয়েট কলেজ থেকে। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তি হই ও ৭৩ সালে এমএ পাস করি।

এরপর আদালত আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেরা মূলতবি করেন।