|
|
রমযান
মিয়া হোসেন : প্রতিটি কাজেই সাফল্য ও ব্যর্থতা আছে। আর তার ওপর নির্ভর করেই পুরস্কার ও শাস্তি দেয়া হয়ে থাকে। পবিত্র মাহে রমযানের রোজা পালনকারীদের জন্য যেমনি আল্লাহ অনেক সওয়াব ও সম্মানের কথা ঘোষণা করেছেন, তেমনি ইচ্ছাকৃতভাবে পবিত্র রমযানের রোজা পালন করা থেকে বিরত থাকলে তার জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি। এমনকি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে একটি রোজা ভাঙ্গলে তার জন্য কাফফারা আদায় করতে হয়। আর এ কাফফারাও বড় ধরনের। একটি রোজার জন্য কাফফারা হলো কোন প্রকার বিরতি ছাড়া ৬০ দিন লাগাতার রোজা রাখা। যদি কারো কাফফারার রোজা আদায়ের শক্তি না থাকে, তাহলে একটি ফরয রোজার জন্য ৬০ জন মিসকিনকে দু'বেলা পেট ভরে খাওয়াবে অথবা একজন মিসকিনকে ষাট দিন দু'বেলা করে খাওয়াবে। প্রত্যেক মিসকিনকে প্রত্যহ এক সাদকায়ে ফিতরার পরিমাণ আটা বা গম দিবে অথবা আটা বা গমের দাম দিবে। একই রমযান মাসে একাধিক রোযা ভেঙ্গে থাকলে একটি কাফফারা ওয়াজিব হবে। কিন্তু কাযা রোজা বিরতির সাথে বা বিরতিহীনভাবে আদায় করা যায়। যদি কাযা রোজা শেষ হওয়ার পূর্বে বর্তমান বছরের রোজা এসে পড়ে, তাহলে বর্তমান বছরের রোজা শেষে কাযা রোজা শুরু করতে হবে।
রোযা অবস্থায় অনেকে অনিচ্ছা সত্ত্বেও কিছু কিছু কাজ করে ফেলেন। আবার কেউ কেউ ভুলবশত কিছু খেয়ে ফেলেন। এসব কাজ করার পর তারা মনে করেন রোজা ভঙ্গ হয়ে গেছে। কিন্তু বেশ কিছু কাজ আছে যা রোজা ভঙ্গ হয়েছে মনে করলেও মূলত রোজা ভঙ্গ হয়নি। যেসব কারণে রোজা ভঙ্গ হয়নি বরং মাকরুহ হয়, তা হলো, যদি কোন রোজাদার কোন কিছু মুখে দিয়ে স্বাদ গ্রহণ করে। কোন জিনিস দাঁত দ্বারা চিবালে। কিন্তু নিজের সন্তানকে প্রয়োজনবোধে শক্ত খাদ্য চিবিয়ে নরম করে দিলে তাতে রোজা মাকরূহ হবে না। নিজের স্ত্রীকে সঙ্গমের ইচ্ছা ব্যতীত চুম্বন করলে। চোখে সুরমা ব্যবহার করলে। বিনা প্রয়োজনে মিসওয়াক করলে, যদি দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। গোঁফের ওপর তেল লাগালে। মিথ্যা কথা বললে। অপরের দুর্নাম রটনা করলে। অশ্লীল ও বেহায়াপনা কথাবার্তা বললে অথবা গালাগালি করলে। রোজাদার ইফতার না করলে। শরীরে ভিজা কাপড় জড়ায়ে রাখলে বা গরমের জ্বালায় বারবার কুলি করে ঠান্ডা লাগালে। দাঁতের ভিতর হতে ক্ষুদ্র কোন বস্তু বের করে চিবিয়ে খেয়ে ফেললে রোজা মাকরূহ হয়ে যাবে। অশ্লীল গান-বাদ্য শ্রবণ করা। রোজাবস্থায় এমন কোন কাজ করা যাতে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রোজা ভেঙ্গে ফেলার আশংকা হয়। কুদৃষ্টি থেকে চোখের হেফাজত না করা। সারাদিন নাপাক অবস্থায় থাকা। ইচ্ছাকৃতভাবে মুখে থুথু জমা করে গিলে ফেলা। ঝগড়া-বিবাদ করা। ইত্যাদি কারণে রোজা ভাঙ্গবে না তবে রোজা মাকরুহ হয়ে যাবে বলে হাদীসে উল্লেখ আছে।
এছাড়া রোজা অবস্থায় স্বপ্নদোষ হলে। জিহবা দ্বারা রান্না করা খাদ্যদ্রব্যের লবণের পরিমাণ পরীক্ষা করে থুথু ফেলে দিলে। অনিচ্ছাকৃতভাবে মশা-মাছি, ধুলাবালি, গাড়ির ধোঁয়া গলার ভিতরে প্রবেশ করলে। রোজার কথা ভুলে গিয়ে পানাহার বা যৌনাচার করলে। রোজা অবস্থায় শরীরে বা মাথায় তেল ব্যবহার করলে, চোখে সুরমা লাগালে। আতর বা অন্য কোন সুগন্ধি ব্যবহার করলে। ডুব দিয়ে গোসল করলে এবং কানে পানি ঢুকলে রোজা নষ্ট হবে না।
রমযান মাসের মধ্যে যদি কোন অমুসলমান মুসলমান হয়, অথবা কোন নাবালেগ বালেগ হয় তবে তাদের ওপর পরবর্তী রোজাগুলো ফরয হবে। বিগত দিনগুলোর রোজা কাযা করার প্রয়োজন হবে না। তবে উন্মাদ ব্যক্তি মুসলমান ও বালেগ হলেও সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তার ওপর রোজা ফরজ হবে না। তবে সে যদি রমযান মাসের কোন অংশে সুস্থ হয়ে ওঠে, তবে এই রমযানের দিনগুলোর রোজা রাখা তার জন্য জরুরি হবে। তেমনিভাবে হায়েয-নেফাসগ্রস্ত স্ত্রীলোক যদি রমযানের মধ্যে পাক হয়ে যায় অথবা অসুস্থ ব্যক্তি যদি সুস্থ হয়ে ওঠে কিংবা কোন মুসাফির যদি মুকীম হয়ে যায় তবে রমযানের দিনগুলোর রোযা তাদের পক্ষে জরুরি হবে।

