Quantcast
ঢাকা, রোববার 29 July 2012, ১৪ শ্রাবণ ১৪১৯, ৯ রমযান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৪৮৫ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

মিয়ানমার সরকার তাদের যা দরকার সব দিচ্ছে

রোহিঙ্গাদের ফিরে যেতে বাংলাদেশ বাধ্য করেনি -প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বার্তা২৪ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরে যেতে বাধ্য করেনি বাংলাদেশ সরকার। বৃটেন সফররত প্রধানমন্ত্রী শনিবার আল জাজিরার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন।

অলিম্পিক গেমসের উদ্বোধনীতে যোগ দিতে লন্ডন সফররত প্রধানমন্ত্রীর হোটেল কক্ষে সাক্ষাৎকারটি নেয় আন্তর্জাতিক এ শীর্ষ টিভি নেটওয়ার্কটি। শনিবার সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচারিত হয়।

মিয়ানমারের আরাকান (রাখাইন) প্রদেশে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর চলমান রাষ্ট্রীয় নির্যাতন ও উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘আপনাদের উচিত মিয়ানমার সরকারকে চাপ দেয়া, তাদের প্রশ্ন করা, বাংলাদেশ সরকারকে নয়। এর জন্য বাংলাদেশ দায়ী নয়।’’

ইংরেজিতে দেয়া সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘রোহিঙ্গাদের জন্য সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে মিয়ানমার সরকার।’’

সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়;

আল জাজিরা : সেখানে লোকেরা চরম অমানবিক পরিস্থিতিতে আছে; অনেক মৌলিক, মানবিক ও নৈতিক নীতি আছে যে আপনারা তাদের সাহায্য করতে বাধ্য।

প্রধানমন্ত্রী : বাংলাদেশ এমনিতেই একটা বাড়তি জনসংখ্যার দেশ। আমরা এই বোঝা বইতে পারি না। এটা আপনাদের বুঝতে হবে। কিন্তু সবকিছু ঠিক আছে। কোনো শরণার্থী আসছে না।

আল জাজিরা : কিন্তু গত দুই মাসে আমরা দেখেছি যে বাংলাদেশী সীমান্তরক্ষীরা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দিচ্ছে। তাদেরকে বিপদের দিকে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী : না। শুনুন, বাংলাদেশী রক্ষীরা মানবিক আচরণ করেছে। তারা তাদের খাবার দিয়েছে, ওষুধ দিয়েছে, টাকা দিয়েছে এবং তারা স্রেফ তাদের নিজেদের বাড়িতে ফিরে যেতে অনুমতি দিয়েছে।

আল জাজিরা : অনুমতি দিয়েছে? তারা তাদের ফিরে যেতে বাধ্য করেছে।

প্রধানমন্ত্রী : না, না। তারা তাদের বাধ্য করেনি। বরং তারা তাদের রাজি করিয়েছে যে, তাদের নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়া উচিত এবং তারা ফিরে গিয়েছে।

আল জাজিরা : প্রধানমন্ত্রী, আপনি জানেন; তারা তাদের নিজেদের দেশে হত্যা-নির্যাতনের শিকার হচ্ছে এবং তারা পালাতে চেষ্টা করছে এবং আপনার দেশে তাদের ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না।

প্রধানমন্ত্রী : আচ্ছা। আমরা কেন আমাদের দেশে তাদের ঢুকতে দেবো। আমরা স্রেফ তাদের ফিরে যেতে রাজি করিয়েছি। তাদের যা দরকার সব দিয়েছি। আপনারা কেন এ প্রশ্ন করছেন? আপনাদের উচিত এ প্রশ্ন মিয়ানমার সরকারকে করা। এটা তাদের দায়িত্ব।

আল জাজিরা : মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে, সে নিয়ে আপনারা কখনো মিয়ানমার সরকারের কাছে উদ্বেগ জানিয়েছেন?

প্রধানমন্ত্রী : হ্যাঁ,  আমরা জানিয়েছি।

আল জাজিরা : তারা কি বলে?

প্রধানমন্ত্রী : রোহিঙ্গাদের জন্য সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে মিয়ানমার সরকার। তাদের যা দরকার সব দিচ্ছে।

আল জাজিরা : আপনি এটা বিশ্বাস করতে বলছেন?

প্রধানমন্ত্রী : অবশ্যই, কেন নয়?

আল জাজিরা : আপনি মনে করেন রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মিয়ানমারে ন্যায্য আচরণ করা হচ্ছে?

প্রধানমন্ত্রী : আমি আপনাকে বলেছি যে, তারা তাদের নাগরিক। এটা তাদের বিষয়।

প্রসঙ্গত, গত ১২ জুলাই মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত সরকারের প্রেসিডেন্ট থেইন সেন বৃহস্পতিবার জাতিসংঘকে জানিয়েছেন, ‘‘আমরা আমাদের লোকেদের দায়িত্ব নেবো। কিন্তু যারা নৃতাত্ত্বিকভাবে আমাদের লোক নয়, সেই অবৈধ অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের গ্রহণ করা অসম্ভব।

রোহিঙ্গাদের অন্য কোনো দেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে বলে তার সরকারের চিন্তার কথা জানান তিনি।

দেশটির আরাকান প্রদেশের এই নৃতাত্ত্বিক সংখ্যালঘু রোহিঙ্গারা দশকের পর দশক ধরে দেশটিতে তীব্র বর্ণবাদ ও রাষ্ট্রীয় দমননীতির শিকার হয়ে আসছে। বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র রাষ্ট্রীয় গণহত্যার শিকার কয়েক লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে শরণার্থী শিবিরে মানবেতর জীবন যাপন করছে দশকের পর দশক। সর্বশেষ  গত জুন মাসের শুরু থেকে সরকারি বিভিন্ন বাহিনী ও সংখ্যাগুরু রাখাইনদের যৌথ সহিংসতার শিকার হয়ে এ পর্যন্ত বেসরকারি হিসেবে কমপক্ষে তিনশত রোহিঙ্গা প্রাণ হারিয়েছে।

অসংখ্য রোহিঙ্গা শরণার্থী নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর পেরিয়ে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম উপকূলের অধিবাসীদের কাছে আশ্রয় পেয়েছে সীমান্তরক্ষীদের চোখ এড়িয়ে। অবশ্য সরকারি সিদ্ধান্ত অনুসারে শরণার্থীদের সিংহভাগকেই আবার সাগরে ঠেলে দেয়া (পুশব্যাক) হয়েছে।